স্ত্রীকে পাওয়ার শর্তে ছোট ভাইকে খুন

ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

স্ত্রীকে পাওয়ার শর্তে ছোট ভাইকে খুন

যশোর ব্যুরো ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০১৯

স্ত্রীকে পাওয়ার শর্তে ছোট ভাইকে খুন

যশোরের কেশবপুর উপজেলার কিশোর তরিকুল ইসলাম (১৫) খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। স্ত্রীকে না পাঠানোর হুমকি দিয়ে শরিফুলের আপন ভাইকে হত্যার প্রস্তাব দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

এক পর্যায়ে স্ত্রীকে পাওয়ার আশায় ভাইকে হত্যার প্রস্তাবে রাজি হন শরিফুল। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ছোট ভাই তরিকুলকে খুন করে শরিফুলের শ্যালক রবিউল ও আল-আমিন।

বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন মামলার অন্যতম আসামি শরিফুল ইসলাম।

পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সকালে সাতবাড়িয়া পাচানীপাড়া গ্রামের একটি বাগান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম কেশবপুর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের নামে মামলা করেন।

যে কারণে খুন

আসামি শরিফুল ইসলাম মৃত তরিকুল ইসলামের আপন বড় ভাই। দুই ভাই তার বাবার কাঠমিস্ত্রির কাজে যোগালদার হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার আনুমানিক দুই সপ্তাহ আগে আভিযুক্ত বড়ভাই শরিফুল ইসলামের কেশবপুর থানার কমলপুর গ্রামের রশিদ বিশ্বাসের মেয়ে জেসমিন আরাকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর আসামি শরিফুল ইসলাম তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যান। সেখান থেকে তার বাবার সাথে কাজ করার জন্য আসতেন। বিষয়টি শরিফুলের শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের ভালো লাগেনি। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিশেষ করে শরিফুলের বড় চাচাশ্বশুর খলিলুর রহমান নাখোশ হয়।

তিনি বলেন, তোমার বাড়িতে তোমার ছোট একটা ভাই আছে, সে তো তোমার বাবার সাথে কাজে যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে শরিফুলের মনে রাগের সৃষ্টি হয়। বাড়িতে এসে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে বলে, ‘তোমাদের ছোট ছেলেকে তো কাজে পাঠাতে পারতে, আমি শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেছি, আমাকে কেন কাজে যেতে বলো?’ এককথা শুনে সেই সময় শরিফুলের মা শরিফুলকে সংসার হতে পৃথক হওয়ার জন্য বলে। বিষয়টি শরিফুলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানায়। পরবর্তীতে যখন শরিফুর শ্বশুরবাড়িতে যায় তখন তার শ্যালক রবিউল ইসলাম শরিফুলকে বলে তুমি তো ঠিকমত কাজও করতে পারো না, আবার পৃথক হয়ে আমার বোনকে খাওয়াবা কি? সবচেয়ে ভালো হয় তোমার বাবার সব সম্পত্তি পেতে ও তোমার চাচাদের শায়েস্তা করতে তোমার ছোট ভাইকে সরিয়ে দিলে তুমি সবদিক থেকেই লাভবান হবা।

শরিফুলের বড় চাচাশ্বশুর শরিফুলকে জানায়, যদি তার শ্যালক রবিউল ইসলামের কথামতো কাজ না করে তাহলে তোমার স্ত্রীকে আর পাঠানো হবে না। এমন হুমকিতে শরিফুল তার ছোট ভাইকে খুনে সম্মতি দেয়।

শারিফুলের শ্যালক রবিউল তার কাছে জানতে চায় তোমরা কয়টার দিকে ঘুমাও। কবে তোমার (শরিফুলের) বাবা-মা বাড়িতে থাকবে না। হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা শরিফুলের চাচাশ্বশুরের বাড়িতেই হয়। শরিফুলের স্ত্রী জেসমিন আরা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিল।

যেভাবে তরিকুল খুন

ঘটনার দুইদিন আগে থেকেই শরিফুলের মা তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যায়। বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজের জন্য কর্মস্থলে অবস্থান করে। সবকিছু জেনে নিয়ে ঘটনার দিন ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার পরে শারিফুলের শ্যালক রবিউল এবং ফুফাতো শ্যালক আল-আমিন তার বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়। ওই সময়ের আগেই শরিফুলের স্ত্রী ‘স্টার জলসা’ চ্যানেলে গোবিন্দ সিরিয়াল দেখে তাদের শোবার রুমে ঘুমিয়ে পড়ে। শরিফুল ও তার ছোট ভাই তরিকুল টিভি রুমে বিভিন্ন প্রোগ্রাম দখতে থাকে। শরিফুলকে তার শ্যালক রবিউল ও ফুফাতো শ্যালক আল-আমিন বারান্দার কলাপসিবল গেট খুলে দিতে বলে। শরিফুল গেট খুলে দিয়ে হত্যা করার জন্য ব্যবহৃত দা কোথায় রাখা আছে তা দেখিয়ে দেয়। দুইজন ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী  তরিকুলকে বাইরে নিয়ে খুন করা হয়। যদিও লাশ কোথায় রাখা হবে সেটি আগেই জানতো শরিফুল। তাই রাতের ভেতরে আর গেট আটকাইনি। বাইরেও বের হয়নি। সকালে শারিফুল তার বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম ধানের জমির পাশের জঙ্গলের মাঝে ছোট ভাই তরিকুলের মৃতদেহ দেখে চিৎকার করে লোকজন হাজির করায়।

আদালতে স্বীকারোক্তি

বৃহস্পতিবার আসামি শরিফুল ইসলামে তার বাড়ি থেকে আটকের পর আদালতে হাজির করা হয়। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন শরিফুল।  তিনি কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া পাচানীপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

এইচআর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও