কারে আঘাত, সড়কেই শ্রমিক পেটালেন সার্জেন্ট

ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬

কারে আঘাত, সড়কেই শ্রমিক পেটালেন সার্জেন্ট

যশোর ব্যুরো ৮:২৫ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০১৯

কারে আঘাত, সড়কেই শ্রমিক পেটালেন সার্জেন্ট

যশোরে সিরাজুল ইসলাম (২৫) নামে এক সড়ক নির্মাণ শ্রমিককে প্রকাশ্যে বেদম লাঠিপেটা করেছেন হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের সদর উপজেলার সন্যাসী দিঘিরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সড়ক পুনঃনির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিক সিরাজুল ইসলামকে লাঠিপেটা করেছেন হাইওয়ে পুলিশের যশোরের নাভারণ সার্কেলের সার্জেন্ট পলিটন মিয়া।

আহত সিরাজুল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডে সিগন্যালম্যান ও যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া এলাকার বাসিন্দা। পরে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকেরা সড়কের ওপর স্কেভেটর আড় করে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পুলিশের হস্তক্ষেপে ঘণ্টাখানেক পর অবরোধ তুলে নেন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, সন্যাসী দিঘির পাড়ে সড়কের একপাশে স্কেভেটর দিয়ে সড়ক খুঁড়ে সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। ফলে অন্যপাশ দিয়ে ধীর গতিতে যানবহন চলাচল করছে।

একপাশ আটকে অন্যপাশের যানবহন ওই অংশ দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। এ সময় একটি প্রাইভেটকার থামানোর সঙ্কেত দেন সিরাজুল। এ সময় গাড়ির ভেতর থেকে সাদা পোশাকের সার্জেন্ট পলিটন মিয়া বেরিয়ে আসেন।

এক পর্যায়ে প্রাইভেটকারের ভেতরে থাকা লাঠি দিয়ে সিরাজুলকে পেটাতে থাকেন। পুলিশের লোক বুঝতে পেরে অন্য শ্রমিকরা ভয়ে সে সময় তাকে সাহায্য করতে পারেনি।

পলিটন মারধরের পর দ্রুত গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে শ্রমিকেরা সংস্কারকাজ বন্ধ রেখে বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন।

খবর পেয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দীন শিকদার এসে বিচারের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন।

অভিযোগের বিষয়ে সার্জেন্ট পলিটন মিয়া পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘মুড়লি থেকে ফিরছিলাম। রাস্তায় কাজ চলছে দেখে গাড়ি সাইড করছিলাম। ওই ছেলে মনে করছে আমি রাস্তা ক্রস করছি। এজন্য ও লাঠি দিয়ে গাড়িতে বাড়ি (আঘাত) দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি নেমে জিজ্ঞেস করি, তুমি গাড়িতে বাড়ি দিলে কেন? ওই ছেলে বলে, দিয়েছি তো কি হয়েছে? ওর এমন উল্টোপাল্টা কথা শুনে মাথা ঠিক ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি তুচ্ছ ঘটনা, তেমন কিছু হয়নি। আমি ওই ছেলেটিকে বকাঝকা করেছি। গায়ে হাত তুলিনি। পরে আমি সেখানে গিয়েছি। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।’

আইআর/আইএম