উমেদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ওড়ে না জাতীয় পতাকা

ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

উমেদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ওড়ে না জাতীয় পতাকা

শাহরিয়ার আলম সোহাগ, ঝিনাইদহ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০১৯

উমেদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ওড়ে না জাতীয় পতাকা

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি নানা অনিয়মের আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদারকি ও জবাবদীহিতা না থাকায় অনিয়ম আর দুর্নীতিই যেন এখানকার নিয়মে পরিণত হয়েছে।

সরকারি নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছেমত অফিস আসেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ইচ্ছে হলে অফিসে আসেন, না হলে আসেন না। অফিস চলাকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না দিনের পর দিন। অফিস প্রাঙ্গণ ঘাস ও জঞ্জালে পরিপূর্ণ। মূল ফটকটি কোনদিনই খোলা হয় না। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে দূরদূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষেরা।

শৈলকুপা উপজেলার রয়েড়া বাজারে উমেদপুর ভূমি অফিসটি অবস্থিত। রোববার বেলা ১২ টায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মূল ফটকের পকেট গেট দিয়ে ঢুকতেই ভেতরে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। অফিস প্রাঙ্গণে বড় বড় ঘাস ও গাছে পরিপূর্ণ। এক পাশে হাতল বিহীন একটি টিউবওয়লে। তার পাশেই আধাপাকা একটি টিনশেড অফিস। অফিসের গায়ে বাঁকা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পতাকা বিহীন একটি বাশ, তাতে নেই কোন রশি। দেখেই স্পষ্ট বোঝা যায় দীর্ঘদিন ধরে এটি ব্যবহার হয় না। অফিস কক্ষে একজন নারী বসে কাগজপত্র নাড়াচাড়া করছেন, অন্য সব চেয়ার ফাঁকা।

অফিসের কর্মকর্তারা কোথায় আছেন, জানতে চাইলে নিজেকে অফিস সহকারী পরিচয় দিয়ে জোসনা খাতুন নামের ওই নারী বলেন, দু’জন স্যারই ডিসি অফিসের মিটিংয়ে গেছেন।

পরে তহশিলদার (ভূমি সহকারী কর্মকর্তা) নিশিত মজুমদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডিসি অফিসে মিটিং সেরে কোর্টে এসেছি। মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে উকিলের সাথে কথা বলছি। আজ আর অফিসে ফিরবো না।

এরপর আরেক তহশিলদার সুবাস চন্দ্র সাহাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ডিসি অফিসের মিটিংয়ে আছি পরে কথা বলেন।

মিটিং তো শেষ, অফিসে আসবেন না? এমন প্রশ্নে এই ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বলেন, লম্বা চওড়া মিটিং চলছে, আজ আর অফিস হবে না। অন্যদিন আসেন।

অফিস চলাকালীন সময়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি জানতে চাইলে অফিস সহকারী জোসনা খাতুন জানান, আমি এ অফিসে দু’মাস কর্মরত আছি। আসার পর থেকে পতাকা উত্তোলন করতে দেখিনি। অফিসে পতাকা আছে কিনা তাও জানা নেই।

অফিসটিতে খাজনা দিতে আসা বাহিররয়েড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ভাইট বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ শেখ মো. আহসান হাবিব বলেন, আমি সকালে এসেছি। অনেক সময় বসে থেকে তহশিলদার সুবাশ চন্দ্র সাহাকে ফোন করলে তিনি জানান, আজ অফিসে আসবেন না, আগামীকাল আসতে।

অভিযোগ উঠেছে, ওই ভূমি অফিসের ২ জন কর্মকর্তাই সময়মতো অফিসে আসেন না। নিজেদের ইচ্ছামত অফিস করেন। যে কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় জমির খাজনাসহ অন্যান্য কাজে আসা সাধারণ মানুষদের।

সেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ভূমি অফিসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের কর্মকর্তারা তাদের খেয়াল খুশি মতো অফিস করেন, এটা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। খোদ সরকারি অফিস হলেও জাতীয় পতাকা টাঙ্গানো হয় না। এটা রীতিমত দণ্ডনীয় অপরাধ।

ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের এই অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক সাইফুর রহমান খান বলেন, সকাল ১০ টায় ডিসি অফিসে তহশিলদারদের নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত মিটিং ছিল, যা অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তবে দু’জনকেই ডাকা হয়েছিল কিনা তা মিটিংয়ের চিঠি দেখে বলতে পারবো। তবে মিটিং শেষে তাদের তো অফিস করার কথা! যদি না করে সে ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পিএসএস