এবার ভালোবাসার রঙ ছড়াবে ‘কাঁটাবিহীন’ গোলাপ

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

এবার ভালোবাসার রঙ ছড়াবে ‘কাঁটাবিহীন’ গোলাপ

ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর ১০:১৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

এবার ভালোবাসার রঙ ছড়াবে ‘কাঁটাবিহীন’ গোলাপ

একদিন পরই বসন্তবরণ। পরের দিন ভালোবাসা দিবস। দিবস দুটি ঘিরে ফুলের রাজ্যে যেন নানা সম্ভাবনার হাতছানি। ভোক্তার পছন্দের তালিকায় বাহারী জাতের ফুল যোগ হয়েছে নানা সময়ে।

এ বছর ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালিতে ‘লং স্টিক রোজ’ জাতের গোলাপ ফুলে বাজিমাত হবে, মনে করছেন চাষিরা।

উন্নত জাতের রফতানিযোগ্য এই গোলাপ ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে। চড়া দামেও বিক্রি শুরু হয়েছে। বিশেষ জাতের এই গোলাপের পাশাপাশি জারবেরা, গ্লাডিওলাস ও চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধা ফুলও এবার সুবাস ছড়াবে।

সারাদেশের চাহিদার ৭০ শতাংশ ফুল সরবরাহ করছে যশোর অঞ্চলের চাষিরা। এ অঞ্চলের ৬ সহস্রাধিক কৃষক ফুলচাষের সঙ্গে জড়িত। নতুন জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা উন্নতমানের ফুল উৎপাদন করছে। কয়েক দশকে ফুলের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাহারী জাত। সর্বশেষ দুই বছরে গদখালি এলাকার চাষিরা লংস্টিক রোজ জাতের গোলাপ ফুল চাষে ঝুঁকছেন।

ঝিকরগাছার পানিসারা গ্রামের চাষি ইসমাইল হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে লংস্টিক রোজ জাতের গোলাপ ফুল চাষ করেছি। গোলাপটির বিশেষত্ব হলো পাপড়িতে ঠাঁসা, অনেকদিন পর্যন্ত পাঁপড়ি থাকে। ফুল বড়। ফুলে কাঁটা নেই। ফুলের স্টিকটা লম্বা হয়। এই ফুল বিদেশে রফতানির জন্য আমরা চাষাবাদ করছি। আশা করছি দেশের চাহিদা পূরণ করে বাইরের পাঠাতে পারবো।

সারা দেশে ফুলে সাড়া পড়েছে উল্লেখ করে চাষি ইসমাইল হোসেন বলেন, এক বছর আগে রোপণ করেছি। বর্তমানে অল্প পরিমাণে ফুল পাচ্ছি। ভালোবাসা দিবসে ৫শ পিস ফুল সরবরাহের অর্ডার পেয়েছি। প্রতিপিস ফুল ২০ টাকায় বিক্রি করছি। এই ফুলটি নতুন জাতের হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দামও বেশি পাচ্ছি। পলি শেড ছাড়া এই জাতের ফুল তৈরি করা যায় না। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সহযোগিতায় পলি শেড তৈরি করা হয়েছে। এখানে লংরোজ জাতের ফুল চাষাবাদ করছি।

গদখালির মঠবাড়ি এলাকার চাষি ইমামুল হোসেন বলেন, ২৫ কাঠা জমিতে লংস্টিক গোলাপের চাষ করেছি। এতে ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। এ গাছ ৭-৮ বছর পর্যন্ত ফুল দেবে। চলতি মৌসুমে লাখ টাকার গোলাপ বিক্রি করতে পারবো। নতুন জাতের এ গোলাপ ২০ টাকা পিস বিক্রি করছি।

তিনি আরো বলেন, গোলাপের পাশাপাশি এক বিঘা জমিতে মল্লিকা ফুলের চাষ করেছি। ৮০ হাজার পিস ফুল বিক্রির টার্গেট রয়েছে। আশা করছি ৪ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবো।

পানিসারা গ্রামের চাষি আবু মুসা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, সোমবার ১৬ হাজার টাকার গ্লাডিওলাস ফুল বিক্রি করেছি। প্রতি পিসের দাম পেয়েছি ৬-৮ টাকা পর্যন্ত। দাম স্থিতিশীল থাকলে তিন দিবসে লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবো।

একই এলাকার চাষি লাল্টু রহমান বলেন, ১০ কাঠা জমিতে রজনীগন্ধা চাষ করেছি। প্রতি পিস রজনীগন্ধা ৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

হাড়িয়া নিমতলার চাষি নূরজাহান বলেন, রোববার ১৪ টাকা পিস দরে ৫ হাজার গোলাপ বিক্রি করেছি। দুই দিনে আরো বিক্রি হবে। ফুলের দামও সন্তোষজনক।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, দেশের চাহিদার ৭০ শতাংশ ফুল যশোরের গদখালির চাষিরা সরবরাহ করছেন। মানসম্মত ফুল উৎপাদনে চাষিরা এগিয়ে গেছে। বিশেষ দিবসগুলোতে ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকে। সেই চাহিদা পূরণে চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তিনি আরো বলেন, নতুন জাতের ফুল হিসেবে লংস্টিক রোজ জাতের ফুলের চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি গ্লাডিওলাস, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিাকা ফুলেরও চাহিদা রয়েছে।

এইচআর

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও