ওয়াক্কাসের প্রার্থিতায় যশোরে বিএনপি নেতাকর্মীদের পদত্যাগের হিড়িক!

ঢাকা, ১৭ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

ওয়াক্কাসের প্রার্থিতায় যশোরে বিএনপি নেতাকর্মীদের পদত্যাগের হিড়িক!

যশোর ব্যুরো ৯:২৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৮

ওয়াক্কাসের প্রার্থিতায় যশোরে বিএনপি নেতাকর্মীদের পদত্যাগের হিড়িক!

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসকে মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় বিএনপি। ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মুফতি ওয়াক্কাসের প্রার্থীতা মেনে নিতে না পারায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় আড়াই হাজার নেতা-কর্মী পদত্যাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

রোববার সকালে জোটের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের ছেলের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বিএনপির ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এসময় উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুককে জিজ্ঞাসবাদের জন্য থানায় আনা হলেও পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের বড় ছেলে আব্দুর রশিদ নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার সন্ধ্যার পর মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের চূড়ান্ত মনোনয়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। দলটির নেতা-কর্মীদের অনেকেই ওই রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘আর বিএনপি করবেন না’ এমন পোস্ট দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসকে প্রার্থী করার প্রতিবাদে রোববার দুপুরের পর থেকে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের উপজেলা, পৌর এবং ইউনিয়নসহ ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দলটির বিভিন্ন স্তরের প্রায় আড়াই হাজার নেতাকর্মী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ ইকবালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন  পৌর বিএনপির সভাপতি খাইরুল ইসলাম।

জানা যায়, ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অ্যডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেনের পরিবর্তে এবারও মুফতি ওয়াক্কাসকে প্রার্থী করায় রোববার দুপুরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেনের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন পৌর বিএনপির সভাপতি খাইরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আখতার হোসেন খান, আলাউদ্দিন আলা, সাধারণ সম্পাদক এস,এম, মশিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মকবুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক নিস্তার ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোতাহারুল ইসলাম রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক নবিরুজ্জামান আজাদ, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মুক্তার হোসেন, একে আজাদ, কলেজ শাখার সভাপতি মহিবুল আলম মামুন, সাধারণ সম্পাদক ইমরান নাজিরসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী।

মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস,এম,মশিউর রহমান নিজেও পদত্যাগ করেছেন উল্লেখ করে বলেন, এ সংসদীয় আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রভাব না থাকলেও বিগত নবম এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪ দলীয় জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তারপরও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত একাট্টা হয়ে তাকে বিজয়ী করে।

তবে স্থানীয় জোটের সাথে তার সম্পর্ক ভালো নাহওয়ায় ২০০৮ সালে তিনি ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হলেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন।

এস,এম,মশিউর রহমান আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস মনিরামপুরে ২০ দলীয় জোটের সাথে তেমন কোন সম্পর্ক রাখেননি। এ ছাড়াও বিগত ১০ বছরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের কোন খোঁজখবরও নেননি তিনি।

তার ওপর মুফতি ওয়াক্কাসের নামে থানায় অন্ততঃ নাশকতার চারটি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকায় তিনি বর্তমান আত্মগোপনে রয়েছেন।

এ অবস্থায় তিনি কিভাবে নির্বাচন করবেন প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, এমন গণবিচ্ছিন্ন নেতার পক্ষে কোনো ভাবেই নির্বাচন করা সম্ভব না। এ কারনে প্রতিবাদে নেতা-কর্মীরা পদত্যাগ করছেন।

শহীদ ইকবাল হোসেন জানান, গণবিচ্ছিন্ন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে।

যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, যেহেতু সেখানে হামলা-মামলার শিকার বিএনপির জনপ্রিয় প্রার্থী শহীদ ইকবাল হোসেন। তাকে পাশ কাটিয়ে আরেকজনকে প্রার্থী করায় এমনটি হতে পারে।

এদিকে মুফতি ওয়াক্কাসের প্রার্থীতা মেনে নিতে না পারায় রোববার সকালে মনিরামপুর সরকারি কলেজের সামনে তার ছেলের গাড়ি ভাংচুর করে বিএনপির একদল বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী।

খবর পেয়ে মনিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে চিনতে না পারায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুককে ছেড়ে দেয়া হয় বলে পুলিশ জানায়।

জানতে চাইলে মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের বড় ছেলে মুফতি আব্দুর রশিদ জানান, গাড়িতে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, উপজেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আজিজুর রহমান, ছোট ভাই মুফতি হুসাইনসহ সংগঠনের ৮/১০ নেতা-কর্মী ছিলেন।

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাকিব হাসান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে কেউ অভিযোগ করেনি।

আইআর/এফএম

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও