‘একশ ফ্ল্যাট বিক্রি করেছি, অভিযোগ শুধু একজনের’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫

‘একশ ফ্ল্যাট বিক্রি করেছি, অভিযোগ শুধু একজনের’

যশোর ব্যুরো ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৮

‘একশ ফ্ল্যাট বিক্রি করেছি, অভিযোগ শুধু একজনের’

যশোরের এসএইচ বিল্ডার্সের মালিক এসএম রফিকুল ইসলাম হিরকের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণা ও হত্যার হুমকির অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযোগের ব্যাখা দিতে বৃহস্পতিবার যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

এসময় হিরক বলেন, গত ১৫ বছর ধরে রাজধানী ঢাকা ও যশোর শহরে ফ্ল্যাট নির্মাণ ও ঠিকাদারি ব্যবসার সাথে জড়িত আমি। যশোর শহরে ফ্ল্যাট নির্মাণ ব্যবসা আমিই প্রথম সূচনা করি। আমার দেখাদেখি পরে আরও বেশ কয়েকজন এই শহরে ফ্ল্যাট ব্যবসা শুরু করেন। গত কয়েক বছরে যশোর শহরে প্রায় একশ ফ্ল্যাট বিক্রি করেছি, যেখানে ক্রেতা ও জমির মালিক এখন ব্যবসা করছেন। আমার বিরুদ্ধে তাদের কারও কোন ধরনের অভিযোগ এখন পর্যন্ত নেই। শুধুমাত্র একজনই ফ্ল্যাট নিয়ে অভিযোগ করলো। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গত ৯ অক্টোবর স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ মারফত জানতে পারলাম ডা. ইয়াসির আরাফাত যশোর আদালতে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অভিযোগে দাবি করেছেন, নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও আমি তাকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেইনি। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, আমার কাছে টাকা ফেরত চাইলে আমি তা না দিয়ে বাদীর বুকে শটগান ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছি। আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বাদীর এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা-ভিত্তিহীন। আমাকে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে এ মামলা দেওয়া হয়েছে।

এসএম রফিকুল ইসলাম হিরকের দাবি, বাদী নিজেই বলেছেন, ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামে একটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য দেড়শ টাকার স্ট্যাম্পে বাদীর সঙ্গে আমার চুক্তি হয়। চুক্তি সম্পাদনের দিন ৫ লাখ টাকা, পরবর্তীতে ২২ কিস্তিতে ছয় লাখ ৬০ হাজার টাকাসহ মোট ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা তিনি আমাকে প্রদান করেন। অর্থাৎ ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ফ্ল্যাটের মূল্য বাবদ মাত্র ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেছেন।

প্রকৃত ঘটনা হলো-২০১১ সালের ৬ জুলাই একটি ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বাদী মো. ইয়াসির আরাফাতের সাথে একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদনের দিনই তিনি ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। বাকী টাকা তিনি ২৪ কিস্তিতে প্রদান করবেন বলে চুক্তি হয়। সেই অনুযায়ী প্রতিমাসে কিস্তির অংক দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকা। অথচ তিনি প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা করে প্রদান করেছেন। এভাবে টাকা দিলে ৫/৬ বছর সময় লেগে যাবে বলে আমি আশংকা করি। এ বিষয়ে তাগিদ দিলে তিনি বলেন, লিজিং কোম্পানি আইডিএলসির থেকে ঋণ নিয়ে বাকী টাকা পরিশোধ করবেন। কিন্তু সেখানে তার ব্যক্তিগত ঋণ থাকায় টাকা পরিশোধ হয়নি। পরে গাড়ি বিক্রি করে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। এভাবে ৫/৬ বছর কেটে যায়।

৯৩ হাজার টাকার কিস্তি ৩০ হাজার টাকা কেন নিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম হিরক বলেন, লিজিং কোম্পানি থেকে ঋণ নিয়ে পুরো টাকা পরিশোধ করবেন, এমনটা প্রতিশ্রুতি পেয়ে ওই কিস্তি নিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে ঋণ নিতে পারেনি। টাকাও পরিশোধ করেনি।

লিখিত বক্তব্যে হিরক বলেন, এক পর্যায়ে ডা. ইয়াসির আরাফাত ফ্ল্যাটটি কিনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি টাকা ফেরত চান।  আমি তাকে বলি আপনি যেহেতু ছোট ছোট কিস্তিতে দিয়েছেন। আমি একসঙ্গে ফেরত দিতে পারবো না।  কয়েক কিস্তিতে দিয়ে দিবো। সেই অনুযায়ী তাকে ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকার কয়েকটি চেক প্রদান করি। আমি বলে দিই চেকের টাকা কিছুটা আগে পরে হতে পারে। ডা. ইয়াসির আরাফাতের স্ত্রী বলেন তাতে সমস্যা নেই। চেকগুলো দেন। আমি নগদে তাদের দুই লাখ টাকা দিয়েছি। এরপর প্রথম দুটি চেক ফের দিতে বলি। কিন্তু তারা চেক ফেরত না দিয়ে হঠাৎ মামলা করে দিলেন।

শটগান ঠেকিয়ে গুলির হুমকির অভিযোগও অস্বীকার করেছেন এসএম রফিকুল ইসলাম হিরক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন  ক্রীড়া সংগঠক এবিএম আখতারুজ্জামান, বিএম ইকবাল হোসেন, জয়নাল আবেদিন ও এসএইচ বিল্ডার্সের প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন।#

 

আইআর/এএল/