বাগেরহাটে নেই পর্যাপ্ত সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্র

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

বাগেরহাটে নেই পর্যাপ্ত সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্র

বাগেরহাট প্রতিনিধি ৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০১৮

বাগেরহাটে নেই পর্যাপ্ত সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্র

সিডরের ১১ বছর পার হলেও বাগেরহাটে গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্র। আতঙ্কে রয়েছেন উপকূলীয় এলাকার কয়েক লাখ মানুষ। চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। সুপার সাইক্লোন সিডর ও আইলায় বিধ্বস্ত বাগেরহাটের উপকূলীয় এলাকার মানুষ এখন জীবন বাঁচাতে দুর্যোগকালীন ও পরবর্তী করণীয় বিষষে প্রশিক্ষণ নিয়ে সচেতন হচ্ছেন।

 

স্থানীয়রা জানান, পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরে এ জেলায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তখন থেকেই উপকূলবাসীর প্রধান দাবি ছিল পর্যাপ্ত সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ। সিডরের পর কিছু এলাকায় সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্র হলেও এতে ধারণ ক্ষমতা অনেক কম।

একটি আশ্রয় কেন্দ্রে ছয় থেকে সাতশ লোকের ধারণ ক্ষমতা থাকলেও সেখানে আশ্রয় নিতে হয় আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষকে। ঘূর্ণিঝড় সতর্ক সংকেত ঘোষণা হলে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা পান না। আবার অনেক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতে এখনো আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়নি। অনেকগুলো আবার রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
অনেক স্থানে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ। সিডরের পর শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মংলা ও রামপাল উপজেলায় কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মিত হয়েছে রাস্তাঘাট। নিরাপদ পানির ব্যবস্থার জন্য ট্যাংক, টিউবওয়েল ও টয়লেটের ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী।

শরণখোলার সাউথখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির, তন্নী, নাজমুল জানায়, ভবনে টিউবওয়েল আছে পানি নেই। আমরা স্কুলে আসার পর টয়লেটে যেতে পারি না। অন্যের বাড়ির টয়লেটে যেতে হয়। তারপর খাবার পানি পান করতে পারি না।

মোরেলগঞ্জের বানিয়াখালী গ্রামের মমতা রানী ও শাহানাজ বেগম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র অনেক কম। যা আছে তা যথেষ্ট না। পর্যাপ্ত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় আমরা দুর্যোগকালীন ও পরবর্তী করণীয় বিষয় প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমাদের মতো অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন’।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় সিডরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত না হওয়ায় এসব এলাকার মানুষ আতঙ্কে থাকেন’। দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোজ্জাম্মেল হোসেন জানান, তার ইউনিয়নে সিডরে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এখন ইউনিয়নটিতে প্রয়োজনের তুলনায় আশ্রয়কেন্দ্র অনেক কম। দ্রুত নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা দরকার। যেগুলো আছে সেগুলোর অধিকাংশই সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আশ্রয় কেন্দ্রগুলো সংস্কার করা জরুরি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে জেলায় বর্তমানে ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। নতুন করে ২০টি নির্মাণ করা হচ্ছে। জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যায়ক্রমে জেলায় আরও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি এসব কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হবে। এছাড়া গৃহপালিত পশু-পাখি রাখার ব্যবস্থা রেখে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে জোর দেওয়া হবে’।

কেকে/এএস