অন্তরে দুই বাংলা মিলেই আমার দেশ: শীর্ষেন্দু

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

অন্তরে দুই বাংলা মিলেই আমার দেশ: শীর্ষেন্দু

ইন্দ্রজিৎ রায়, বেনাপোল থেকে ফিরে ৭:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮

অন্তরে দুই বাংলা মিলেই আমার দেশ: শীর্ষেন্দু

কবি ও সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বার বাড়ির মাঠে খেলা করতাম। অনেক পিঁপড়ার বাসা দেখেছি। যখন শেষ বারের বিদায় নিচ্ছি, তখন অন্ধকার ছিল। তখন পিঁপড়ার একটা বাড়ি বা বাসায় পা দিলাম। বাসা ভেঙে পিঁপড়া পা বেয়ে উঠে সাংঘাতিক কামড় দিলো। সে কি পিঁপড়ার কামড় ছিল, নাকি অন্য জ্বালা ছিল, আজও বুঝতে পারি না। সেই জ্বালা এখনও টের পায়। এটা ভাবতে খুব কষ্ট। আজকে সেই দেশের এখানে (শূন্যরেখা) এসেছে। আমি যখন বাংলাদেশে যাই, তখন আমি জানি বাংলাদেশের মানুষ আমাকে কিভাবে গ্রহণ করেন। আমি একবার বলেও ছিলাম বাংলাদেশে; আমাকে যদি ভারত বর্ষ থেকে কখনো তাড়িয়েও দেওয়া হয়, অন্য কোনো দেশ আশ্রয় না দিলেও বাংলাদেশ আমাকে প্রত্যাখান করবে না। এই বিশ্বাস আমার অন্তরে থাকবে। বাংলাদেশ আমার দেশ, এদেশও আমার দেশ। আমি বাংলাকে ভাগ করতে পারি না। অন্তরে দুই বাংলা মিলেই আমার দেশ। আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। ‘বাংলা আমার জীবনানন্দ’ এই গান শুনলে আজও আমার চোখে জল আসে। বাংলাকে তো ভোলা যাবে না। বাংলা রক্ত, অস্তিমজ্জা মিশে আছে। বাংলার জয় হোক। বাংলাদেশের জয় হোক।

বুধবার বেনাপোল পৌরসভা, পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ পৌরসভার যৌথ আয়োজনে শূন্যরেখায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- এপার বাংলার সংগীত শিল্পী ফাতেমাতুজ্জোহরা, কিরণ চন্দ্র রায়, ওপার বাংলার শিল্পী ইমন চক্রবর্তী, ঋষি, পটুয়া শিল্পী সুশান্ত সরকার।

স্বাগত বক্তব্য দেন- বেনাপোল পৌর মেয়র ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ভারতের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস, ভারতের লোকসভার সংসদ সদস্য মমতা ঠাকুর, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন চাকলাদার, বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শংকর আঁঢ্য, উত্তর ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার আইপিএস সি. সুধাকরসহ অনেকে।

একই আকাশ একই বাতাস, পদ্মা মেঘনা যমুনা বহমান এমন বার্তা দিয়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় মানুষের মহা মিলন মেলায় ‘বাংলাদেশের রক্ত যাবে ভারতে, ভারতের রক্ত আসবে বাংলাদেশে’ এমন বার্তায় হয় রক্তদান কর্মসূচি।

আইআর/এসএফ