ভাষার টানে শূন্যরেখায় একাকার বাঙালি

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

ভাষার টানে শূন্যরেখায় একাকার বাঙালি

যশোর ব্যুরো ৬:২৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮

ভাষার টানে শূন্যরেখায় একাকার বাঙালি

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ‘বিশ্ব মানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি হ’- শ্লোগানে ভৌগোলিক সীমারেখা ভুলে সমবেত হয় হাজারো বাঙালি। কে ভারতীয়, আর কে বাংলাদেশি তার চেয়ে সবার মুখে মুখে উচ্চারিত হয় আমরা বাঙালি। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। আমরা বাংলায় কথা বলি, বাংলায় গান করি। বাংলা আমার শেকড়।

শূন্যরেখায় অস্থায়ী বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একই মঞ্চে দুই বাংলার রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, আমলারা বাংলার প্রতি ভালবাসার অনুভূতি প্রকাশ করেন। এরপর দুই বাংলার শিল্পীরা একই মঞ্চে গানে গানে হাজারো দর্শকের মনে আরও একবার নাড়া দেয়। দর্শক সারিতেও দুই বাংলার মানুষ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। দুই বাংলার মানুষ শূন্যরেখায় কুশল বিনিময়, সেলফিতেও ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

বুধবার বেনাপোল পৌরসভা, পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ পৌরসভার যৌথ আয়োজনে শূন্যরেখায় (নোম্যান্সল্যান্ড) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠান ঘিরে দুই বাংলার মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয় শূন্যরেখায়।

বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, ভারতের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, লোকসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাপতি রেহেনা খাতুন, বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসসহ আরো অনেকে। নেতৃবৃন্দের পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে দুই বাংলার আপামর জনগোষ্ঠী এ অস্থায়ী শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন।



শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে দু’বাংলার মোহনায় নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-২১ অস্থায়ী মঞ্চে যৌথ আয়োজনে হয় পরস্পরের প্রতি শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’ শ্লোগানে এ মিলন মেলায় উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যয়, এপার বাংলার সংগীত শিল্পী ফাতেমাতুজ্জোহরা, কিরণ চন্দ্র রায়, ওপার বাংলার শিল্পী ইমন চক্রবর্তী, ঋষি, পটুয়া শিল্পী সুশান্ত সরকার।

স্বাগত বক্তব্য দেন- বেনাপোল পৌর মেয়র ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ভারতের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস, ভারতের লোকসভার সংসদ সদস্য মমতা ঠাকুর, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন চাকলাদার, বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শংকর আঁঢ্য, উত্তর ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার আইপিএস সি. সুধাকরসহ অনেকে।

একই আকাশ একই বাতাস, পদ্মা মেঘনা যমুনা বহমান এমন বার্তা দিয়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় মানুষের মহা মিলন মেলায় ‘বাংলাদেশের রক্ত যাবে ভারতে, ভারতের রক্ত আসবে বাংলাদেশে’ এমন বার্তায় হয় রক্তদান কর্মসূচি।

এদিকে বাঁশের বেড়া উপেক্ষা করে নাড়ির টানে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ভারত-বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষ একত্র হন। গানে গানে ভরে তোলে দুই বাংলার আকাশ। দুই দেশের জাতীয় পতাকা, নানা রঙের ফেস্টুন, ব্যানার ও ফুল দিয়ে সাজানো হয় চেকপোস্ট এলাকা।

আইআর/এসএফ