চুয়াডাঙ্গার রাজপথে হঠাৎ বিএনপি নেতাকর্মীরা

ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

চুয়াডাঙ্গার রাজপথে হঠাৎ বিএনপি নেতাকর্মীরা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ৬:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

print
চুয়াডাঙ্গার রাজপথে হঠাৎ বিএনপি নেতাকর্মীরা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনার পর থেকে চুয়াডাঙ্গার রাজপথ ছিল বিএনপি নেতাকর্মী শূন্য।

এ ঘটনার সময় থেকে প্রতিবাদে সারাদেশে রাজপথে নেমেছে দলীয় নেতাকর্মীরা। সেখানে ব্যতিক্রম ছিল চুয়াডাঙ্গা।

শুধু রাজপথে নয়, নিজ এলাকাতেও কোন দলীয় নেতাকে দেখতে পাননি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে জেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত নেতাদের তুলোধুনোও করছেন তারা।

গত কয়েকদিনে চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতাদের নিখোঁজ হবার রহস্য নিয়ে চলছে সরব আলোচনা-সমালোচনা।

এমন পরিস্থিতে ঘটনার ৫ দিনপর হঠাৎ করেই রাজপথে দেখা গেলো চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে।

খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রেরণের প্রতিবাদে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এই কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে সোমবার বেলা ১২টার দিকে হঠাৎ করে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকে দেখা যায় শহরের শহীদ আবুল কাশেম সড়কস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে।

মানববন্ধনের ব্যানার হাতে কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে ঘুরতে দেখা যায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলা, যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুল হক মজু ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রতনসহ জেলা ছাত্রদলের দুই যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ তালহা ও মঞ্জুরুল জাহিদকে।

পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে কিছু সংখ্যক নেতাকর্মীদের নিয়ে পুলিশি বেস্টনীর মধ্যে মানববন্ধন করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এ সময় বক্তারা বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

অবিলম্বে কথিত এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিএনপি নেতারা বলেন দ্রুত খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেওয়া হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

একই দাবিতে কর্মসূচি পালনের জন্য চুয়াডাঙ্গার রাজপথে সরব দেখা গেছে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরও।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহরের সাহিত্য পরিষদের সামনে একই দাবিতে আলাদা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় সেখানে বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফ উর জামান সিজার, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব খাঁন, মোমিনুর রহমান, শাহাজান খাঁনসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রেরণের ৫ দিন পর চুয়াডাঙ্গার রাজপথে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে দলের অনেকে বিরূপ মন্তব্য করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন পুলিশি হয়রানি ও ধরপাকড়ের কারণে চেয়ারপারসনকে কারাগারে প্রেরণ করা হলেও সেই দিন কর্মসূচি পালনের জন্য কোন নেতাকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, সহিংস কোন কর্মসূচি পালন করবে না ও অপ্রতীকর কোন ঘটনা ঘটাবে না। রোববার রাতে বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতার এমন প্রতিশ্রুতির পর পুলিশি বেস্টনীর মধ্যে সীমিত আকারে কর্মসূচি পালনের মৌখিক অনুমোদন মেলে তাদের। এর পরই সোমবার রাস্তায় নামে বিএনপির নেতারা।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, রায় ঘোষনার কয়েকদিন আগে থেকেই পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানীমূলক আচরণের কারণে আমরা একটু কৌশল পরিবর্তন করেছিলাম মাত্র।

যেকোন পরিস্থিতিতে আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।

একই প্রশ্নের উত্তরে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফ উর জামান সিজার দাবি করেন, পুলিশি অভিযানে গত কয়েকদিনে আমাদের দলীয় ৩ শতাধিক নেতাকর্মীকে কোন কারণ ছাড়াই গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলাপ করেই আন্দোলনের কৌশল পরিবর্তন করা হয়েছে। যা চলমান।

এআই/এএফ

 
.


আলোচিত সংবাদ