আত্মিক ও আধ্যাত্মিক শান্তি পেতে ঈমান কেন জরুরী?  

ঢাকা, শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯ | ২৪ কার্তিক ১৪২৬

আত্মিক ও আধ্যাত্মিক শান্তি পেতে ঈমান কেন জরুরী?  

লেকচার : নোমান আলী খান ২:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

আত্মিক ও আধ্যাত্মিক শান্তি পেতে ঈমান কেন জরুরী?  

কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, “...এই দুই দলের কারা নিরাপত্তা সন্বন্ধে বেশি হক্‌দার? যদি তোমরা জেনে থাকো।” [সূরা আনআম, আয়াত: ৮১]

পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ বলছেন, “যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শিরকের সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী।” [সূরা আনআম, আয়াত: ৮২]

আল্লাহ তাআলা এখানে বর্ণনা করছেন, মুমিন ও কাফিরের মধ্যে কারা শান্তি পাওয়ার জন্য অধিক উপযুক্ত হতে পারে।

এটি ঠিক যে, ইসলামের বিধান মানা ছাড়াও মানুষ কিছু সময়ের জন্য শান্তি পেতে পারে। কিন্তু জীবনব্যাপী নিরবিচ্ছিন্ন স্বস্তি ও শান্তি লাভের জন্য কে অধিক উপযুক্ত?

বৌদ্ধরা বলতে পারে তারা কেউ কেউ চার ঘন্টা ধ্যান করে এবং কোন নড়াচড়া করে না। 

তাদেরকে দেখে হয়তো আপনি ভাবতে পারেন, এরা আসলেই অন্তরে শান্তি লাভ করে ফেলেছে।

আবার কেউ কেউ মেডিটেশন, যোগসাধনা বা যোগ ব্যায়াম করে এবং তারাও শান্তি লাভ করে।

কেউ কেউ স্টিম বাথ নেয় ও শান্তি লাভ করে। কেউ ক্লাসিক্যাল মিউজিক শোনে ও শান্তি লাভ করে।

কেউ কেউ শুধু সমুদ্র সৈকতে বসে থেকে সমুদ্রের ঢেউ দেখার মাধ্যমেই শান্তি লাভ করে।

এভাবে আপনি যদি বিভিন্ন লোকের কাছে জিজ্ঞেস করেন তাদের শান্তি লাভ সম্বন্ধে, তারা বিভিন্ন জন ভিন্ন ভিন্ন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে শান্তি লাভের অভিজ্ঞতা জানাবে।

কিন্তু এসবকিছুই সাময়িক অনুভূতি মাত্র।

‘শান্তি’ শব্দটিকে যদি আমরা দেখি, তবে এর বিপরীতে আমরা পাই ভয়, উদ্বেগ ও অশান্তি। মূলত শান্তি লাভের জন্য আল্লাহর প্রতি ঈমান ছাড়া মানুষেরা তাদের বাস্তবতার এ সকল ভয় ও উদ্বেগকে ভুলে থাকার চেষ্টা করে।

এজন্য তারা অনেকেই মাতাল হয়, যাতে করে তারা তাদের সমস্যাগুলোকে ভুলে থাকতে পারে।

আবার অনেকেই শান্তি লাভের জন্য মাদক গ্রহণ করে। কেননা, মাদক গ্রহণের ফলে তাদের চিন্তা শক্তি দূর হয়ে যায়। ফলে তারা বাস্তব সমস্যা নিয়ে কোন প্রকার উদ্বিগ্ন না হয়ে কল্পনার স্বর্গে প্রবেশ করে।

আবার অনেকেই ভিডিও গেমস খেলে বা মুভি দেখে। কেননা এর মাধ্যমে তারা তখন নিজেদের বাস্তব জীবন সম্পর্কে চিন্তা থেকে দূরে থাকে। ফলে তারা সুখ ও শান্তি অনুভব করে।

এজাতীয় বিভিন্ন কিছুর মাধ্যমে শান্তি অর্জনের চেয়ে ঈমান আনার মাধ্যমে শান্তি অর্জনের পার্থক্য হল, ঈমানের আনলে মানুষকে এসকল কঠিন বাস্তবতা থেকে পালাতে হয় না। বরং জীবনের এই বাস্তবতা মোকাবেলার পাশাপাশি একইসাথে মানুষ সুখ-শান্তিও লাভ করতে পারে।

ঈমান ছাড়া অন্য সকল কাজই মানুষকে বাস্তবতা থেকে দূরে রাখার মাধ্যমে শান্তি প্রদানের ব্যবস্থা করে এবং তা ক্ষণস্থায়ী।

কিন্তু ঈমান গ্রহণকারী ব্যক্তি নিজের বাস্তব সমস্যা সমাধানের জন্য নিজেকে আল্লাহর কাছে সঁপে দেয় এবং এর মাধ্যমে নিজের অন্তরে স্থায়ী শান্তি অর্জন করে। 

এটিই মূলত ঈমান গ্রহণ করে শান্তি অর্জনের চেয়ে ঈমান ছাড়া শান্তি অর্জনের মৌলিক পার্থক্য। এবং এটিই সেই কারণ যার জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ, সুস্থির ও প্রশান্তিময় জীবন পেতে চাইলে ঈমান ও ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ।

এমএফ/

 

বয়ান: আরও পড়ুন

আরও