ওমানের কুরআনি প্রোগ্রামে বিনয়ের অনুশীলন

ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০১৮ | 2 0 1

ওমানের কুরআনি প্রোগ্রামে বিনয়ের অনুশীলন

আলোচনা : নোমান আলী খান ১:১০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০১৯

ওমানের কুরআনি প্রোগ্রামে বিনয়ের অনুশীলন

এক বছর আগে আমি ওমানের একটি মসজিদে সাত দিনের একটি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আমরা সেখানে প্রায় পাঁচশতজন অংশগ্রহণকারী ছিলাম এবং প্রোগ্রামটি ছিল কুরআনের আলোচনা ও কুরআন সম্পর্কে নিজেদের উপলব্ধির অভিজ্ঞতার আদান-প্রদানের।

প্রোগ্রামটিতে অংশগ্রহণ করতে আমাদের জন্য কিছু বিধি নিষেধ বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। একটি নিয়ম ছিল যে, প্রোগ্রামে প্রবেশের পূর্বে আমাদের সকল অংশগ্রহণকারীকে যার যার ফোন আয়োজকদের কাছে জমা দিতে হতো। এই সাতদিন আমরা পুরোপুরি ফোন ছাড়া অতিবাহিত করেছি। জরুরী প্রয়োজনে আয়োজকরাই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত, তবে সম্পূর্ণ সাতদিন আমরা ফোন ব্যবহার থেকে দূরে ছিলাম।

দ্বিতীয়ত আয়োজকরা পারস্পারিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম করে দিয়েছিল, আপনি শুধু আপনার নাম এবং কোথা থেকে এসেছেন শুধু এটুকুই জানাতে পারবেন। এছাড়া আপনার পরিচয়ের আর কিছুই সেখানে প্রকাশ করতে পারবেন না। 

সেখানে অনেক লোক ছিলেন যারা কুরআন-হাদীসের বড় বড় আলেম, কেউ কেউ ছিলেন বিপুল সম্পদের অধিকারী কোটিপতি, আবার কেউ ছিলেন অধ্যাপক, শিক্ষক, অন্যান্য পেশাজীবি বা ট্যাক্সিচালক। এমনকি অনেকেই ছিলেন নির্ভেজাল কৃষিজীবি ও পশুপালক, যারা তাদের সারাটা জীবন নিজেদের ক্ষেত ও পশুপালের যত্ন করে কাটিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমরা কেউই কারো সম্পর্কে জানতাম না যে কে কি করে। সকলেই পরিচয়ের ক্ষেত্রে শুধু নিজের নাম ও দেশ/ঠিকানা উল্লেখ করেই শেষ করত। কেউই বলতে পারতো না, আমার বয়স এত বা আমি এই চাকরি করি বা এই আমার পদবী।

অনুষ্ঠানে যখন কেউ কুরআনের আলোচনা করতো, তখন আলোচনায় অন্য কোন ইমাম বা আলেমের মতামত উল্লেখ করা বা বিশেষ আরবী পরিভাষা ব্যবহার করা থেকে সবাই বিরত থাকতো। সকলের বোধগম্য সহজ ভাষাতেই সকলে সেখানে নিজেদের আলোচনা ও কুরআন সম্পর্কে নিজেদের উপলব্ধিকে প্রকাশ করতো। কে কতবড় আলেম, তা বোঝার কোন ব্যবস্থাই ছিল না।

অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণের এই নিয়মগুলো মূলত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের বিনয়ের অনুশীলনের মাধ্যমে পরিণত হয়েছিল। টানা সাতদিন বিনয়ের এই তীব্র অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শুধু এক মালিকের অনুগত বান্দায় পরিণত হয়েছিল।  

হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (র.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে জ্ঞানের অধিকারী, তার তুলনা এমন যেন সে একটি ফলবান গাছ। গাছটি যখন ফলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে, তখন গাছটির ডাল নিচের দিকে নুইয়ে আসে।”

অর্থাৎ, আপনি যদি সত্যিকার অর্থেই জ্ঞানের মত ফলের অধিকারী হন, তবে আপনি ফলবান গাছটির মতই বিনয়ী হবেন। নিজেকে সবার উপরে নয়, বরং সবার থেকে কম জানা লোক হিসেবে মনে করবেন।

কেউ যদি আপনাকে প্রশ্ন করে বা আপনার সমালোচনা করে, তবে আপনার মাথায় কখনো এ চিন্তা আসবে না, “কত বড় বিদ্বান এসেছে আমাকে প্রশ্ন করতে!”, বরং আপনি ধৈর্যের সাথে তার কথা শুনবেন।

একজন জ্ঞানী ব্যক্তির মৌলিক প্রকৃতি আসলে এমনই বিনয়ী হওয়া উচিত – যে নিজেকে কেবলমাত্র এক আল্লাহর অনুগত বান্দা মনে করবে। এবং এছাড়া বিশেষ কোন অহংবোধ মনে পুষে রাখবে না।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
বিনয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত মহানবী সা.
মহানবীর (সা.) অনন্য বিনয়

 

বয়ান: আরও পড়ুন

আরও