যাকাত যেন সম্পদের চারাগাছ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১১ বৈশাখ ১৪২৬

যাকাত যেন সম্পদের চারাগাছ

বয়ান : মুফতি ইসমাইল মেঙ্ক ৪:৫৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৯

যাকাত যেন সম্পদের চারাগাছ

কুরআনুল কারীমে বহু জায়গায় আল্লাহ তাআলা যাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন। যাকাত প্রদান করতে আদেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, “তোমরা যাকাত আদায় করো”। (সূরা বাকারা:৪৩) রাসুলুল্লাহ (সা.) যাকাতকে ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের একটি হিসেবে অভিহিত করেছেন। (সহীহ বুখারী: ৮; সহীহ মুসলিম: ১৬)

কিন্তু যাকাত কী? এর উপকারীতাই বা কী?
আমরা প্রায়ই এই কথা শুনি, “তুমি যা দান করবে, তাই ফেরৎ পাবে।” যাকাত মূলত দরিদ্র ও অভাবীদের প্রয়োজন পূরণের জন্য প্রদত্ত সাহায্য বা দান। সাধারণত, এটি মোট সম্পদের ক্ষুদ্র একটি অংশ অর্থাৎ আড়াই শতাংশ, যা উপযুক্ত ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করতে হয়। কুরআনে আল্লাহ একে তুলনা করেছেন বীজের (حبة) সাথে, যা থেকে একটি নতুন ফলবান গাছ জন্ম নেয়। ইরশাদ হয়েছে,
مَّثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنبُلَةٍ مِّائَةُ حَبَّةٍ ۗ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
অর্থ: “যারা আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় ধন সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি শস্য দানার মত, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়। প্রত্যেকটি শীষে একশ করে দানা থাকে। আল্লাহ যাকে চান বহু গুণে বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ দানশীল, সর্বজ্ঞ।” (সূরা বাকারা, আয়াত: ২৬১)

যখন আপনি কোন একটি ফল খান, ঐ ফলের বীজ তার কতটুকু অংশ হয়? ধরা যাক, আমি একটি আপেল খেলাম। ঐ আপেলের কতটুকু অংশ আমি খেলাম? আটানব্বই, সাড়ে আটানব্বই, নিরানব্বই শতাংশ...।

এরপর বাকী অংশটুকু আমরা মাটিতে ফেলে দেই। আমরা যদি আরও যত্নবান হই, তবে ফলের অবশিষ্ট অংশ তথা বীজটি আমরা মাটিতে বপন করে এর পরিচর্যা করি, যাতে পরবর্তীতে এথেকে একটি গাছ হয়।

সম্পূর্ণ ফলটিই আমরা খাই কিন্তু ছোট একটি অংশ তথা ফলটির বীজ আমরা মাটিতে ছুড়ে ফেলি বা যত্নের সাথে রোপণ করি।

অতপর আল্লাহর আদেশে ক্ষুদ্র এই বীজ থেকে একটি বিশাল গাছের জন্ম হয় এবং আমরা এই গাছ থেকে হাজার হাজার ফল পেতে থাকি।

একই প্রকার ফল, যেটা আমরা খেয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলাম।

আল্লাহর তুলনা দেখুন!

একই প্রকার তুলনা আপনার সম্পদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনি যদি চান, তবে আপনার সম্পদের যাকাত দান করার পর বাকী সম্পদ আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করলেন। আপনার সম্পদের বীজ পরিমাণ একটি অংশ আপনি দান করলেন। আপনি যথাযথ ভাবেই যাকাতের এই অংশটি নির্ধারিত খাতে খরচ করুন।

আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تُبْطِلُواْ صَدَقَاتِكُم بِالْمَنِّ وَالأذَى كَالَّذِي يُنفِقُ مَالَهُ رِئَاء النَّاسِ وَلاَ يُؤْمِنُ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে এবং কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান খয়রাত বরবাদ করো না – ওই ব্যক্তির মত, যে লোক দেখানোর জন্য তার সম্পদ দান করে আর সে আল্লাহ ও পরকাল দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে না।” (সূরা বাকারা, আয়াত: ২৬৪)

অহংকার মুক্ত হয়ে দান করুন এবং বিনয়ী হন। আল্লাহ আপনাকে এমনভাবে লক্ষাধিক উপায়ে আপনাকে প্রতিদান দিবেন, যা আপনি কল্পনাও করতে পারেননি। যাকাতের মাধ্যমে আপনার ফেলে দেওয়া বা রোপণ করা বীজের থেকে জন্ম নেওয়া সম্পদের গাছটি আপনি পেতে পারেন এবং এর থেকে প্রচুর সম্পদ অর্জন করতে পারেন।

এ ধরণের উদাহরণ আমরা প্রায়শই আমাদের শিশুদের কাছে বলি। যাকাতরূপ কোন বীজ যদি আপনি রোপণ করেন, তবে আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি এর থেকে অধিক পরিমাণ সম্পদরূপ ফল লাভ করতে পারেন।

আল্লাহ আমাদের সম্পদে বরকত দিন এবং আমাদেরকে নিয়মিত যাকাত প্রদান করতে সক্ষম করুন। আমীন।
এমএফ/
আরও পড়ুন...

যাদের ওপর যাকাত ফরজ
ইসলামে যাকাতের গুরুত্ব
কুরআন ও হাদিসের আলোকে যাকাতের বিধান
যাকাত আদায়ে কৃপণতাকারীদের যে শাস্তি হবে
যাকাতের নিসাবের বিবরণ
প্রতিমাসের বেতনের যাকাত কিভাবে আদায় করবেন?