বিপদমুক্তির নিশ্চিত পথ

ঢাকা, সোমবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৯ | ৮ মাঘ ১৪২৫

বিপদমুক্তির নিশ্চিত পথ

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৮:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৩, ২০১৮

বিপদমুক্তির নিশ্চিত পথ

তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে আল্লাহর প্রিয় পয়গম্বর হযরত আইয়ুব (আ.) এর মত? আইয়ুব (আ.) কে তো পৃথিবীর সামনে একটি দৃষ্টান্ত বানানো উদ্দেশ্য ছিল। সুতরাং তিনি প্রতিটি মুসিবতে ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর উপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে থাকলেন। এমনকি পৃথিবী জেনে নিল- প্রকৃত মালিকের হক এত বেশী যে যখন জীবন, ধন-সম্পদ সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায় তখনও মুখ থেকে শুকরিয়া আদায়ের শব্দগুলোই কেবল আসা চাই। কেননা, সবকিছু তিনিই দিয়েছেন এবং যদি তিনি তা থেকে কিছু নিয়েও নেন তবু অভিযোগ কি করে সম্ভব? কিন্তু তোমাদের মধ্য থেকে কে আছো যে আল্লাহর পয়গম্বর আইয়ুব (আ.) এর মত?

আল্লাহর এই বান্দার আলোচনা শ্রবণকারীদের অন্তরগুলোতে আঘাত করছিল। মা’রিফাতের বৃষ্টি গাফলতে পূর্ণ শক্ত হৃদয়গুলোকে ভিজিয়ে তুলছিল। একটু বিরতির পর তিনি আবার বলতে শুরু করলেন-

“তোমাদের প্রতিপালকের তো জানা আছে তোমরা আইয়ুব (আ.) নও। তাই তিনি তোমাদের উপর মুসিবত কোন অন্য কারণে প্রেরণ করেন। কিছু মানুষের গুনাহ তাদের নেকীগুলোকে খেয়ে ফেলতে থাকে। যেমনিভাবে আগুণ লাকড়িকে খেয়ে ফেলে। ওই সকল গাফেলদের কাছে গুনাহের গরম পানি ছাড়া আর কিছুই থাকে না। সুতরাং এই গরম পানিগুলোকেই আগুনের উপর ঢেলে দেওয়া হয়। এরপর সে আহাজারি করে ও আল্লাহকে ডাকতে থাকে। তাদের উচিত, তারা যেন এই ডাকার মাঝে ইস্তিগফার তথা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকেও শামিল করে নেয়। একনিষ্ঠ তাওবাহকে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। এরপর পুরস্কারের সুশীতল বাতাস প্রত্যেক আগুণকেই নিভিয়ে দিবে।

কিছু মুসিবত কুদরতের সাধারণ নিয়মেরই অংশ হয়। অসুস্থতা স্বাভাবিকভাবেই এসে যায়। কোন দুর্ঘটনা হঠাতই ঘটে যায়। প্রতিরোধ করা যায় না। মানুষ তা থেকে বাঁচতে পারে না। এমতাবস্থায় আল্লাহ থেকে তাঁর সহজতা ও সুস্থতা কামনা করো। তাঁর নিরাপত্তার ছায়ায় আশ্রয় প্রার্থনা করো। এই ছায়া যার মিলে যায়, সে মুসিবতের ধোঁয়া থেকে যদিও বাঁচে, কিন্তু তার ঝলসে দেওয়া উত্তাপ থেকে নিশ্চয় বেঁচে যায়।”

“মানুষের কৌশল ও চেষ্টার কি মুসিবত প্রতিরোধে কোন ভূমিকা নেই?” – একজন শ্রোতা মধ্যখান থেকে প্রশ্ন করলো। এরপর আরেফ (আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি) মুচকি হেসে জবাব দিলেন, “আছে, অবশ্যই আছে। দেখো, আল্লাহ তাআলা তোমাকে অন্য কোন জন্তু বানাননি। মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তোমাকে চিন্তাশক্তি দিয়েছেন। অনুভবের ক্ষমতা দিয়েছেন। তুমি যেভাবে এর ব্যবহার করবে, ফলাফল তো ভালই আসবে। অতএব, তোমার আহার, চিন্তা ও কাজগুলোকে ঠিক করে নাও, অধিকাংশ রোগ থেকে বেঁচে যাবে। ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে পরিকল্পনামাফিক কাজ করো, তাহলে নিঃস্ব ও মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে। আমি একে নাকচ করছি না। আমি তো এ কথা বলছি যে, চেষ্টা-পরিকল্পনা সত্ত্বেও যে মুশকিল এসে যায়, তা থেকে কীভাবে বের হওয়া যায়!

এখন শেষ কথা খুব মন দিয়ে শোনো, যা অধিকাংশ লোকই বুঝে না। বিপদ তোমাদেরকে আরও উন্নত করতে আসে। তোমাদের জীবন, অভ্যাস, লক্ষ্য ও চিন্তায় তোমাদের আচরণ, চরিত্র, দায়িত্বশীলতা ও বিশ্বস্ততায় কোন কমতি, কোন খুঁত, কোন ভুল হয় যা তোমাদের দুনিয়া বা পরকালের জন্য বিধ্বংসী হয়। যার পরে আল্লাহ কোন বড় বিপদ প্রেরণ করেন। এটা পরিপূর্ণ ধ্বংসের আগে একটি সিদ্ধান্তকারী রিমাইন্ডার হয়।

যখনই তোমাদের এই অনুভব হবে, তখনই নিজ প্রতিপালকের কদমে নুয়ে যাও। তাঁর থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করো। যখন পদ্ধতিই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করে, তাহলে বুঝে নাও তোমার প্রতিপালক তোমার মাঝে কোন বিশাল ত্রুটি দেখছেন, যার অনুভূতি তোমার নেই। তোমার দোষ আর তোমার খারাবী একটি দুর্দশা হয়ে তোমার মাঝে জায়গা নিয়ে আছে। কিন্তু গাফলত ও অহঙ্কারের জগতে তাকে নস্যি মনে করে উপেক্ষা করছো।

এখন সময় পরিচয় লাভের। নিজের খারাবী এবং দোষকে স্বীকার করে নেওয়ার। এই কথা বুঝে নেওয়ার যে আসল সমস্যা বাইরে নয় বরং তোমার ভেতরেই। এই প্রতিজ্ঞা করার যে, নিজের খারাবীকে শেকড় থেকে উপড়ে ফেলে দিবে। এই প্রতিজ্ঞার পর বেশী সময় লাগবে না যে তোমার বিপদ হতে যাবে।

এবং শেষ কথা এই যে, তোমরা যদি এই প্রতিজ্ঞা না করো আর নিজের দোষ ও অবহেলার বিভিন্ন ব্যখ্যা দাঁড় করানোর মাঝে ব্যস্ত হয়ে যাও, তাহলে অপেক্ষা করো... সেই সময়ের, যখন তোমার নৌকা ভরে যাবে এবং তলিয়ে যাবে।

(নাম অনুল্লেখ রেখে ডেইলি পাকিস্তানে প্রকাশিত এক আল্লাহ ওয়ালার বয়ান অবলম্বনে লিখিত)

এমএফ/

আরও পড়ুন...
যৌবন ও জীবনের মূল্যায়ন : একটি হাদিস ও কিছু কথা
কুরআনে বর্ণিত পূর্ববর্তীদের শিক্ষণীয় তিন ঘটনা