মুসলিম বিজ্ঞানীকে নিয়ে নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্র

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মুসলিম বিজ্ঞানীকে নিয়ে নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্র

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৫২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৯

মুসলিম বিজ্ঞানীকে নিয়ে নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্র

পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পাওয়া মুসলিম বিজ্ঞানী ড. আবদুস সালাম।

পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পাওয়া মুসলিম বিজ্ঞানী ড. আবদুস সালামকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে এসেছে মার্কিন বিনোদনধর্মী প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্স। ‘সালাম’ নামের এ প্রামাণ্যচিত্রে পাকিস্তানি এ বিজ্ঞানীর জীবনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

প্রামাণ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে এমন একজন মানুষের গল্প, যিনি একইসাথে বিজ্ঞান ও ধর্ম, আধুনিকতা ও ঐতিহ্য উভয়জগতে সাবলীলভাবে পথ চলেছেন।

১৯২৬ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের ঝং জেলায় জন্ম নেওয়া আবদুস সালাম শৈশব থেকেই গণিত ও বিজ্ঞান গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। যদিও জীবনের সুযোগ সুবিধাহীন প্রান্তিক এক অঞ্চলে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, তবুও কিছুই তাকে তার পথ চলায় বাধা দিতে পারেনি। লাহোরে উচ্চ শিক্ষার জন্য আসার পরই তিনি প্রথম বৈদ্যুতিক বাতির অভিজ্ঞতা লাভ করেন।

গণিত ও বিজ্ঞানে তার পারদর্শিতা তাকে তার সহপাঠীদের থেকে আলাদা অবস্থান দেয়। পরবর্তীতে তার মেধায় তিনি ব্রিটেনের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নের সুযোগ লাভ করেন। তিনি ছিলেন সেসময়ের অল্প কজন দক্ষিণ এশিয়দের মধ্যে একজন যারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ড. আবদুস সালাম ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম। ধর্মকে কখনোই তিনি তার বিজ্ঞানচর্চায় বাধা হিসেবে দেখেননি। তার সহকর্মীদের তিনি বলতেন, তার গবেষণার অনেক বিষয়বস্তুই তিনি আল্লাহর কাছ থেকে পেয়েছেন।

১৯৭৯ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়া এ বিজ্ঞানীর কণা পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্ব আজও ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১২ সালের হিগস বোসন তত্ত্বের মূলভিত্তি হিসেবে তার তত্ত্ব কাজ করে।

যদিও আবদুস সালামের নোবেল পুরস্কার পাকিস্তানের জন্য গৌরবের এক মুহূর্ত, কিন্তু নিজের জন্মস্থানেই আবদুস সালাম আজ অজানা। নেটফ্লিস্কের প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে তাকে নতুন করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতা জাকির সাভের বলেন, “সালাম প্রথম কোনো মুসলমান যিনি বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জয় করেন। তিনি তার শিকড় ও নিজের লোকদের উন্নত করার জন্য এতটাই অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলেন যে স্টকহোমে পাগড়ি পরে তিনি সুইডেনের রাজার থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।”

তিনি আশা করছেন, আবদুস সালামকে নতুন প্রজন্মের কাছে এ প্রামাণ্যচিত্রটি নতুন করে তুলে ধরবে।

এমএফ/

 

ইসলামি সংবাদ: আরও পড়ুন

আরও