পাঁচ পর্যটনকেন্দ্র নিয়ে ‘ধর্মীয় পর্যটন’ পরিকল্পনা তুরস্কের

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

পাঁচ পর্যটনকেন্দ্র নিয়ে ‘ধর্মীয় পর্যটন’ পরিকল্পনা তুরস্কের

ইসলামী বার্তা ডেস্ক ৩:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

পাঁচ পর্যটনকেন্দ্র নিয়ে ‘ধর্মীয় পর্যটন’ পরিকল্পনা তুরস্কের

দক্ষিণ-পশ্চিম তুরস্কের শানলিউরফা শহরে ‘পুল অব আব্রাহাম’––বিশ্বাস করা হয়, এখানেই মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম (আ.) নমরূদ কর্তৃক আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। ছবি: ডেইলি সাবাহ

তুরস্কের পর্যটন ব্যবস্থায় বিষয়ভিত্তিক ভিন্নতা নিয়ে আসার ব্যতিক্রমী পরিকল্পনা করছে তুর্কি সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে হেলথ ট্যুরিজম, কালচারাল ট্যুরিজম প্রভৃতির মত নতুন রিলিজিয়াস ট্যুরিজম বা ধর্মীয় পর্যটনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এলক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি পর্যটন স্থানকে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পাঁচটি স্থান নিয়েই প্রথমে ধর্মীয় পর্যটনের শুরু হবে। পরবর্তীতে অন্যান্য পর্যটন স্থানও এর সাথে যুক্ত হবে।

১. আব্রাহাম’স প্যাথ/শানলিউরফা (Şanlıurfa)

দক্ষিণ-পশ্চিম তুরস্কের শানলিউরফা শহরটি পরিচিত ‘নবীদের শহর’ হিসেবে। এখানেই হযরত ইবরাহীম (আ.) তার প্রাথমিক জীবন যাপন করেন এবং এখানেই তাকে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করা হয়। পরবর্তীতে অগ্নিকুন্ড থেকে মুক্ত হয়ে তিনি এখান থেকেই হিযরত করেন।

হযরত ইবরাহীম (আ.) এর স্মৃতির কারণে এ শহরটি তুরস্কে আসা সকল ধর্মের দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষনীয় গন্তব্য।

২. মরিয়ম (আ.) এর ঘর (House of the Virgin Mary)

কিংবদন্তী অনুসারে হযরত ঈসা (আ.) এর মা হযরত মরিয়ম (আ.) তার জীবনের শেষ দিনগুলো দক্ষিণ তুরস্কের করেসস পাহাড়ের নিকটে প্রাচীন এফসুস শহরে অতিবাহিত করেন। বর্তমানে এ স্থানটি আধুনিক ইজমির শহরের নিকটে অবস্থিত।

হযরত মরিয়ম (আ.) স্মৃতিজড়িত এ স্থানটি বিভিন্ন ধর্মের পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

৩. সেন্ট পলের গীর্জা (St. Paul's Church)

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত, তুরস্কের দক্ষিণে মারসিনে অবস্থিত তারাসুস শহরের সেন্ট পলের গীর্জা খ্রিস্টীয় ধর্মাবলম্বীদের নিকট পবিত্রতম এক স্থান। মূলত সেন্ট পলের হাতেই খ্রিস্টধর্ম তার ভিত্তির উপর দাঁড়ায়।

সেন্ট পলের স্মৃতিচিহ্ন দর্শন করতে অনেক পর্যটকই এ স্থানে আসেন।

৪. রুমীর মাজার (Tomb of Rumi)

মধ্যযুগের সুফি দার্শনিক মাওলানা জালালউদ্দীন রুমীর মাজার বিশ্বের সকল ধর্মের মানুষের কাছে আকর্ষনীয় এক পর্যটন গন্তব্য। মধ্য আনাতোলিয়ার কোনিয়াতে অবস্থিত তার এ মাজার পর্যটকদের আগমনের ভিত্তিতে তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম পর্যটন স্থান।

৫. আইয়ুব সুলতান (Eyüp Sultan)

হযরত আবু আইয়ুব আল-আনসারী (রা.) ছিলেন রাসূল (সা.) এর মাদানী সাহাবী। রাসূল (সা.) মক্কা থেকে মদীনায় হিযরত করার পর প্রথম হযরত আবু আইয়ুব (রা.) এর ঘরেই মেহমান হন।

রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের অনেক পরে উমাইয়া খেলাফতের সময়ে ইস্তানবুল বিজয়ের জন্য অভিযান করা হলে হযরত আবু আইয়ুব আল-আনসারী (রা.) সে বাহিনীতে শামিল হন। পরবর্তীতে এ অভিযানে সময় তিনি ইন্তেকাল করলে তাকে ইস্তানবুলের নিকটে দাফন করা হয়। কালক্রমে তার মাজারের স্থানটি আইয়ুব সুলতান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ইস্তানবুলের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের মধ্যে তার মাজারও জনপ্রিয় এক পর্যটন স্থান।

এমএফ/

 

ইসলামি সংবাদ: আরও পড়ুন

আরও