‘বাকস্বাধীনতাকে যেন নবী-অবমাননার হাতিয়ার বানানো না হয়’

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

‘বাকস্বাধীনতাকে যেন নবী-অবমাননার হাতিয়ার বানানো না হয়’

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

‘বাকস্বাধীনতাকে যেন নবী-অবমাননার হাতিয়ার বানানো না হয়’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে যেনো আমাদের নবীজি (সা.) কে নিয়ে হাসি-তামাশা এবং তাঁকে অবমাননার হাতিয়ার বানানো না হয়। কেননা, আমরা এতে কষ্ট পাই। তিনি শুক্রবার জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন।  

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তিনি আরও বলেন, কিছু দেশে হিজাবকে অস্ত্র মনে করা হয়। এটা ইসলামফোবিয়া (ইসলামভীতি)। ইসলামফোবিয়া থেকে বিভেদ তৈরি হচ্ছে। নারীরা হিজাব পরিধান করছে, কিন্তু কয়েকটি দেশে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং এতে তাদের সমস্যা আছে। কয়েকটি দেশে পোশাক খোলার তো অনুমতি আছে, কিন্তু পরিধান করার অনুমতি নেই। এই ইসলামফোবিয়ার শুরুটা হয়েছে ৯/১১ এর পরে।

ইমরান খান বলেন, পৃথিবীতে কোথাও উগ্র ইসলাম নেই। ইসলামী সন্ত্রাসবাদ বলে কিছু নেই। শুধু এক ইসলাম আছে, যা আমাদের নবীজি (সা.) নিয়ে এসেছেন। সন্ত্রাসবাদের কোন ধর্ম হয় না। 

পাক-প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু পশ্চিমা দেশের নেতা এই ব্যাপারে পরস্পরবিরোধী কথা বলেন, যার ফলে ইসলাম শুধু একটি ধর্ম এবং এতে কোন স্তর না থাকা সত্বেও ভুল বুঝাবুঝি বেড়ে যায়।  

দুর্ভাগ্যক্রমে এমন কয়েকজন নেতার কারণে ইসলামফোবিয়া ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং একারণে মুসলমানদের মধ্যে হতাশা আসছে আর সন্ত্রাসবাদকেও ইসলামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।

ইমরান খান বলেন, ৯/১১ এর পরে কয়েকটি কারণে মুসলমানদের সাথে সন্ত্রাসবাদের তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যদিও নাইন ইলেভেনের আগে অধিকাংশ আত্মঘাতি হামলা তামিল টাইগাররা করতো। কিন্তু তখন কেউ এসবকে হিন্দুদের সাথে একাত্ম করে দেয়নি।  

তিনি বলেন, নাইন ইলেভেনের হামলার পর বুঝে নেওয়া হয় যে আত্মঘাতি হামলাকারীরা মুসলমান। কিন্তু পৃথিবীর কেউ এই এই গবেষণা করেনি যে, আত্মঘাতি হামলা শ্রীলংকায় তামিলরা করেছিল, যাদের ধর্ম ছিল হিন্দু। কিন্তু এজন্য তো হিন্দু ধর্মকে মূল হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এবং একইভাবে বিশ্বযুদ্ধে জাপানি বিমানগুলো আত্মঘাতি হামলা করেছিল।  

ইমরান খান বলেন, আমি আমার ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে ইংল্যান্ডে সময় কাটিয়েছি। আমি দেখেছি যে, পাশ্চাত্যের দেশগুলো এই বিষয়গুলো বুঝে না। পাশ্চাত্যে ধর্মকে পুরোপুরি ভিন্ন চোখে দেখা হয়। তাদের জানা নেই যে ধর্ম আমাদের জীবণে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই যখন আমাদের নবীজি (সা.) কে অপমান করা হল এবং এর প্রতিক্রিয়া সামনে এলো, তখন ধারণা করে নেওয়া হলো যে, ইসলাম ওসহিষ্ণুতা উপর প্রতিষ্ঠিত একটি ধর্ম।     

ইমরান খান বলে, পৃথিবীর প্রথম কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি আরবের মদীনায় স্থাপন করা হয়েছিল। যেখানে দুর্বলদের অধিকারের প্রতি লক্ষ্য রাখা হতো। ধনীদের উপর করারোপ করে দরিদ্র্যদের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছিল। এই ধর্মে সবাই সমান। এই ধর্মে দাসেরাও বাদশাহী করেছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই যে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে যেনো আমাদের নবীজি (সা.) কে নিয়ে হাসি-তামাশা এবং তাঁকে অবমাননার জন্য ব্যবহারের হাতিয়ার বানানো না হয়, কারণ আমরা এতে কষ্ট পাই।

গতকালের ভাষণে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইসলামফোবিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও তিনটি ইস্যু–জম্মু-কাশ্মীর, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থপাচার নিয়ে আলোচনা করেন।

এমএফ/

 

ইসলামি সংবাদ: আরও পড়ুন

আরও