কবুল হজের ৩ নিদর্শন

ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

কবুল হজের ৩ নিদর্শন

পরিবর্তন ডেস্ক ২:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৯

কবুল হজের ৩ নিদর্শন

হজ শেষে এখন নিজেদের ঘরে ফিরছেন হাজীরা। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ এই ইবাদতের পর আধ্যাত্মিকতাপূর্ণ পবিত্র মন নিয়েই তারা ঘরে ফিরছেন। হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তিই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করবে এবং কোন মন্দ কথা বলবে না, মন্দ কাজ করবে না, সে এমনভাবে (তার ঘরে) ফিরে আসবে যেন সে মাত্র তার মায়ের গর্ভ থেকে (গুনাহ মুক্তভাবে) জন্ম নিয়েছে ।” (বুখারী ও মুসলিম)

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে কবুল হওয়া হজের পুরস্কার সম্পর্কে বলা হচ্ছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, “কবুল হওয়া হজের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।” (বুখারী ও মুসলিম)

কিন্তু কোন হাজীই সঠিকভাবে বলতে পারেন না তাদের হজ আল্লাহর কাছে কবুল হয়েছে কিনা। তবে তাদের সামগ্রিক জীবনের উপর প্রভাব রাখা কিছু নিদর্শন লক্ষ্য করে তারা অনুভব করতে পারেন, হয়তো আল্লাহ তাদের হজকে কবুল করেছেন। এখানে এমন তিনটি নিদর্শন উল্লেখ করা হল।

১. নিয়তের বিশুদ্ধতা
প্রথমত, কোন হাজী যদি একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার নিয়তে হজ করতে যায়, পাশাপাশি হজের পরেও যদি তার আন্তরিক এই নিয়ত অপরিবর্তিত থাকে এবং তাতে অন্য কোন প্রকার উদ্দেশ্যের মিশ্রণ না ঘটে, তবে হজকারী ব্যক্তি বুঝে নিতে পারে তার হজ হয়তো আল্লাহ কবুল করেছেন।

অনেকেই হজ করে আসার পর তার হজের কাহিনী এত অধিক প্রচার শুরু করেন, যা অনেক সময় ব্যক্তি প্রচারে নেমে আসে। তারা নিজেদের হজের কথা অন্যকে বারবার বলেন, যাতে করে তারা হাজী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

এধরণের আত্মপ্রচার হজের মূল উদ্দেশ্যকে নষ্ট করে দেয় এবং এটি আল্লাহর কাছে ঐ ব্যক্তির হজ কবুল না হওয়ার একটি লক্ষণ। সুতরাং, এই বিষয় সম্পর্কে হাজীদের সচেতনতা জরুরী।

২. ইতিবাচকতা
দ্বিতীয়ত, হজের অভিজ্ঞতায় অনেক হাজীই শুধু হজযাত্রার কষ্ট ও নেতিবাচকতা নিয়েই আলোচনা করেন। এর মাধ্যমে তারা প্রকারান্তরে অন্যকে হজ করতে নিরুৎসাহিত করেন।

এর পরিবর্তে তাদের উচিত হজের সময় মক্কার মসজিদ আল-হারামে কাবা ঘর তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ায় সায়ী, জমজমের পানি পানের অনুভূতি সম্পর্কে অন্যকে জানানো। হজের সময় বিভিন্ন ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলা যেতে পারে, যাতে অন্যলোকেরাও হজের ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত হতে পারে।

আত্মপ্রচারের জন্য নয়, বরং অন্যান্য সক্ষম ব্যক্তিকে হজের অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য নিজের হজের অভিজ্ঞতা তার কাছে বলা যেতে পারে।

ব্যক্তি যদি অন্য ব্যক্তির হজ করার জন্য ইতিবাচক অনুপ্রেরণায় পরিণত হতে পারে, তবে সেই ব্যক্তির হজ আল্লাহর কাছে কবুল হতে পারে। 

৩. জীবনের উপর প্রভাব
হজ করার পর কোন ব্যক্তির হজ আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার তৃতীয় একটি লক্ষণ হচ্ছে, তার সামগ্রিক জীবনের উপর হজের প্রভাব পড়বে। সকল প্রকার মন্দ কাজ থেকে হজ করা ব্যক্তি নিজেকে মুক্ত করে নিবে। উত্তম কথা ও উত্তম কাজ ছাড়া তার মধ্যে আর কিছুই লক্ষ্য করা যাবে না। সকল কাজের ফলাফল পৃথিবীতে পাওয়ার চেয়ে আখেরাতে পাওয়ার বিষয়ই হবে তার মূল লক্ষ্য।

হজ করে আসার পর হাজীর ব্যক্তিগত জীবনে যদি এই তিনটি নিদর্শন লক্ষ্য করা যায়, তবে আশা করা যেতে পারে আল্লাহ তার হজকে কবুল করেছেন।

আমাদের যাদেরকে আল্লাহ হজ করার সৌভাগ্য দান করেছেন, আল্লাহ তাদের সকলের হজকে কবুল করে নিন। অন্যদিকে যারা আমরা এখনো হজ করতে পারিনি, তাদেরকে কবুল হজ করার তাওফিক দান করুন।

এমএফ/

 

ইসলামি সংবাদ: আরও পড়ুন

আরও