তুরস্কের মসজিদে শিশুদের নামায ও খেলাধুলা

ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

তুরস্কের মসজিদে শিশুদের নামায ও খেলাধুলা

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০১৯

তুরস্কের মসজিদে শিশুদের নামায ও খেলাধুলা

প্রতিবছরের মত এবারও তুরস্কের কোজায়েলি প্রদেশে বাশিসকেলে শহরের মারকাজ মসজিদে গ্রীষ্মকালীন বিশেষ কুরআন ক্লাসের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এই ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে মসজিদটিকে এর ইমাম কাদির চেলকিয আরও অধিক শিশুবান্ধব করার পরিকল্পনা নেন।

এ পরিকল্পনার আওতায় তিনি মসজিদ প্রাঙ্গনে নতুন একটি খেলার স্থানসহ শিশুদের আনন্দের জন্য আরও বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এরপর থেকে এখন মসজিদটি শিশুদের কোলাহলে সর্বদা মুখরিত হয়ে থাকছে।

উত্তর-পশ্চিম তুরস্কের এই মারকাজ মসজিদে ইমাম কাদির চেলকিয ১০ বছর আগে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন। সেই থেকে প্রতি বছর তিনি তুরস্কের গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে শিশুদের কুরআন শিক্ষার জন্য মসজিদে এই বিশেষ ক্লাসের আয়োজন করেন।

কিন্তু খুব অল্প ছাত্র অংশগ্রহণ করলে এবছর তিনি মসজিদে শিশুদের আকর্ষনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উদ্যোগ নেন। বিভিন্ন স্পন্সরের সহযোগিতায় তিনি মসজিদ প্রাঙ্গনে শিশুদের খেলার জন্য বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবস্থা করেন এবং ঐতিহ্যবাহী তুর্কি পুতুল নাচের প্রদর্শনী করেন। পাশাপাশি শিশুদের জন্য চকলেট, ক্যান্ডি প্রভৃতির ব্যবস্থা রাখেন।

শিশুবান্ধব এমন বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বর্তমানে মসজিদটির কুরআন ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিপুলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য বছর গড়ে ৩০ জন শিক্ষার্থীর পরিবর্তে এবছর মোট ২৫০ জন শিক্ষার্থী গ্রীষ্মকালীন কুরআন ক্লাসে অংশগ্রহন করেছে।

প্রতি সোমবার কুরআন ক্লাসের পর শিক্ষার্থীদের জন্য নৈতিক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও ইমাম চেলকিয শিশুদের নিয়ে রশি টানা থেকে বস্তাদৌড় প্রভৃতি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলার আয়োজন করেন।

ইমাম চেলকিয নিজের শৈশবের কথা উল্লেখ করে বলেন, “শৈশবে আমি মসজিদে খেলাধুলা করতাম যখন বয়স্করা নামায আদায় করতো। তারা আমাকে এজন্য তিরস্কার করতো। এটি আমাকে উদ্বিগ্ন করতো। আমি এই মানসিকতার পরিবর্তন করে শিশুদেরকে মসজিদের সঙ্গে আরও বেশি সংশ্লিষ্ট করতে চাই।”

সাধারণত, বয়স্ক মুসল্লীদেরকে মসজিদে আসা শিশুদের সামান্য শব্দ করার জন্যও তিরস্কার করতে দেখা যায়। ফলে মসজিদ শিশুদের মনে একটি ভয়াবহ স্থান হয়ে ওঠে। গত কয়েক বছর থেকে তুর্কি ডাইরেক্টরেট অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স এই সংক্রান্ত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছে, যাতে করে মসজিদে আগত শিশুদের কাছে মসজিদকে উত্তমভাবে উপস্থাপন করা হয়।

ইমাম চেলকিয বলেন, “শিশুদের অনুভূতিকে আপনার বিবেচনা করা উচিত। মনে রাখা উচিত যে শৈশবে মসজিদে যাওয়ার পর আপনার প্রতি করা আচরণে আপনার অনুভূতি কেমন হয়েছিল।”

কুরআন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্যতম সিরিয় বালিকা আলফা হাসানাতু। সে একইসাথে কুরআন শিক্ষা ও ক্রীড়ার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত। নিরক্ষর হাসানাতুর জন্য এই ক্লাসটি আরো অধিক উপকারী হয়েছে, যার ফলে সে আরবি শেখার সুযোগ পেয়েছে।

হাসানাতু বলে, “এখানে অনেক ভালো শিক্ষকদের কাছ থেকে আমরা শিখছি। তোমাকে শুধু ক্লাস শেষ করতে হবে বাইরে এসে খেলার জন্য।”

সূত্র : ডেইলি সাবাহ

এমএফ/

আরও পড়ুন...
শিশুদের মসজিদে নেয়া প্রসঙ্গে কি বলে ইসলাম?

 

ইসলামি সংবাদ: আরও পড়ুন

আরও