ইস্তানবুলের ঐতিহাসিক মসজিদে মিলছে গৃহহীনদের খাবার, পোশাক, আশ্রয়

ঢাকা, ৪ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

ইস্তানবুলের ঐতিহাসিক মসজিদে মিলছে গৃহহীনদের খাবার, পোশাক, আশ্রয়

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৪, ২০১৯

ইস্তানবুলের ঐতিহাসিক মসজিদে মিলছে গৃহহীনদের খাবার, পোশাক, আশ্রয়

তুরস্কের ইস্তানবুলের ঐতিহাসিক সেলিমে হাতুন জামি মসজিদ দীর্ঘদিন থেকে গৃহহীনদের বিনামূল্যে গোসলের সুবিধা, খাবার ও পোশাক প্রদান করে আসছে। সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত বেইওলু জেলার ছোট এই মসজিদটি অসংখ্য গৃহহীনের কাছে আশ্রয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

মসজিদটির ইমাম ওসমান গোরকানের ব্যবস্থাপনায় গৃহহীন মানুষগুলো তাদের বিবিধ মৌলিক অধিকার পূরণের সুযোগ পাচ্ছে।

ইমাম গোরকান আনাদোলু এজেন্সীকে বলেন, “সারাদেশে এটিই একমাত্র মসজিদ যেখানে প্রতিদিন কমপক্ষে পঞ্চাশজন গৃহহীন ব্যক্তি গোসলের সুযোগ পেয়ে থাকেন।”

২০১৭ সালে গোসলের জন্য পানি গরম করার একটি হিটার মসজিদে স্থাপন করার পরপরই মসজিদে গৃহহীনদের গোসলের ব্যবস্থার সূচনা করা হয়।

ইমাম গোরকান বলেন, “আমি সবসময়ই চিন্তা করতাম এই লোকগুলো কোথায় গোসল করবে, কোথায় খাবে, কিভাবে তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বস্তু ক্রয় করবে, কারণ কেউ তাদেরকে পছন্দ করে না।”

তিনি বলেন, “এই গৃহহীনরা যখন কোন সেলুনে যায়, সেলুনের নাপিত তাদেরকে ভেতরে ঢুকতে দেয় না। এমনটা করা হয় তাদের কাছে টাকা না থাকার জন্য নয়, বরং তাদের নোংরা শরীর ও দুর্গন্ধের কারনে। হাম্মামেও (গণ গোসলখানা) একইরকম ব্যবহার করা হয়, তারাও তাদেরকে ঢুকতে দেয় না।”

এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অনুদানে তিনি গৃহহীনদের প্রতিদিন বিনামূল্যে খাবারও প্রদান করে আসছেন। এইসঙ্গে প্রতি শনিবার তাদের জন্য নতুন পোশাকও মসজিদ থেকে প্রদান করা হয়।

মসজিদের ইমাম হিসেবে ব্যস্ততা থাকার পরও ইমাম ওসমান গোরকান প্রতি শনিবার বিনামূল্যে গৃহহীনদের চুল ও দাড়ি কেটে দেন। মূলত সমাজের সাথে তাদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ প্রদানের জন্য তিনি এই কাজ করছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, “প্রতি শনিবার আমি ১৫-২০ জনের চুল-দাড়ি কেটে দেই। যদি আমরা চিন্তা করি এই চুল-দাড়ি কাটা আমাদের কাজ না, তবে আমরা তাদেরকে হারাবো।”

এসকল লোকের জন্য কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়াও ইমাম গোরকানের স্ব-উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। যখন তারা কোন কাজ করার সুযোগ পায়, তখন তিনি তাদেরকে মসজিদে এক মাসের জন্য থাকার সুযোগ দেন, যাতে এর মধ্যে তারা নিজেদের আবাসের ব্যবস্থা করে নিতে পারে।

তিনি বলেন, “যখন কেউ কাজ পায়, আমি তখন সরাসরি তার কাজের স্থান দেখে আসি।”

বর্তমানে মসজিদে এরকম পাঁচ জন লোক অবস্থান করছেন।

ইমাম গোরকান আনাদোলু এজেন্সীর সাথে সাক্ষাতকারে সকলের প্রতি আহবান জানান, যার যেরূপ সামর্থই থাকুক না কেন, এসকল দুঃস্থ ও গৃহহীন লোকদের সাহায্যের জন্য যেনো সকলেই এগিয়ে আসে। তিনি বলেন,

“নিজে থেকে কিছু করুন। ব্যাংক একাউন্টের চেকের মাধ্যমে সাহায্য করার আমি বিরোধিতা করি। ধনীদের উচিত দরিদ্রের চোখে চোখ রাখা এবং তাদেরকে নিজেদের ঘরে নিয়ে তাদের অবস্থা সম্পর্কে বুঝতে চেষ্টা করা।”

এ প্রসঙ্গে কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে ইমাম বলেন, “যে একটি মাত্র জীবনকেও রক্ষা করলো, সে যেনো সমগ্র পৃথিবীকে রক্ষা করলো।” সূরা মায়েদাহ, আয়াত: ৩২

এমএফ/ 

 

ইসলামি সংবাদ: আরও পড়ুন

আরও