ছবিতে ইয়েমেনের ধ্বংসস্তূপের বাসিন্দারা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫

ছবিতে ইয়েমেনের ধ্বংসস্তূপের বাসিন্দারা

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৮

ছবিতে ইয়েমেনের ধ্বংসস্তূপের বাসিন্দারা

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের চতুর্থ বছর চলছে। সেখানে বাসিন্দাদের সকাল হয় যুদ্ধবিমান থেকে গোলাবর্ষণের জমিন কাঁপানো শব্দে। কোমলমতি শিশুদের স্কুল, হাসপাতাল, বসতবাড়িতে হামলা ও সন্তান, স্বামী বা পিতার রক্ত লাল তাজা লাশের দৃশ্য এখন সেখানকার মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে গেছে। চলমান সহিংসতা ৩০ লক্ষ ইয়েমেনিকে উদ্বাস্তুতে পরিণত করেছে। ২০১৫ সালে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে ষাট হাজারেরও অধিক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছে। এবং তাদের মধ্যে বহু সংখ্যক তো এমন যে, স্থায়ী পঙ্গুত্বের দরুণ জীবনভর তাদের শারীরিক অক্ষমতার বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে।

বেতন কর্তন, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ইয়েমেনি মুদ্রার সাম্প্রতিক অধঃপতন ইয়েমেনের অসংখ্য মানুষকে নিদারুণ দুর্ভিক্ষের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ ইয়েমেনে সংঘর্ষরত সকল পক্ষকে সংঘাত থামানোর জন্য একত্রে আলোচনায় বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। যা অসংখ্য লোকের চলমান যুদ্ধের আশু সমাপ্তির আশাকে নস্যাৎ করে দেয়।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ বর্তমানে শুধু ইয়েমেনেরই সমস্যা নয়, বরং আরো বহু দেশ ও পক্ষ এর সাথে জড়িয়ে গেছে। চলমান এই সহিংসতা বন্ধের জন্য যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইরানসহ বিভিন্ন পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

তবে যতদিন এই উদ্যোগ গ্রহণ না হচ্ছে, ততদিন যুদ্ধের আগুনে সাধারণ পরিবারগুলো পুড়তেই থাকবে।

এখানে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞের কিছু আলোকচিত্র উপস্থাপন করা হলো।

দশ বছর বয়সী বালক মুহান্নাদ। আট মাস পূর্বে পরিবারের সাথে তাইজের নিজ বাসভবন ছাড়ার সময় সে কলেরায় আক্রান্ত ছিল। সে জানায়, সে এতটাই দুর্বল ছিল যে, সে সামান্য নড়াচড়াও করতে পারতো না তার পেটের ব্যথার কারণে। তার মা ফারিয়া জানান, মুহান্নাদ এতই অসুস্থ ছিল যে সবাই আশঙ্কা করেছিল সে মারা যাবে।

আটাশ বছর বয়সী যুবক ইউসুফ। গত জুনে আমরানের নিজ বাসভবনে বিমান হামলায় তিনি তার পরিবারের আট সদস্যকে হারান। এর মধ্যে চারজনের বয়স তেরো বছরের নিচে এবং সর্বকনিষ্ঠের বয়স ছিল আট মাস। তার মতে, সংঘর্ষরত পক্ষগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ করার পরিবর্তে অধিক সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করছে।

রাজধানী সানার আল-হাবারী শরণার্থী শিবিরে দণ্ডায়মান শিশুরা। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা এ ধরনের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় গ্রহণকারীরা মালিকের কাছ থেকে জীবিকা নির্বাহের জন্য স্বল্প পরিমাণ সাহায্যপ্রাপ্ত হয় এবং এই শিবিরগুলোর পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে।

আমরান শহরের স্কুলের ধ্বংসস্তূপের উপর বসে থাকা একদল শিশু। ২০১৭ সালে এক বিমান হামলায় স্কুলটি ধ্বংস হয় এবং এর মাধ্যমে দুইশ শিশুর শিক্ষার সুযোগ নস্যাৎ হয়।

আমরান শহরে ধ্বংসপ্রাপ্ত কর্মস্থলের সামনে দণ্ডায়মান আবদুল্লাহ। ৩৫ বছরের কর্মস্থল এই সিমেন্ট কারখানাটির ল্যাবরেটরি ম্যানেজার হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রায় পনেরশ লোক এই ফ্যাক্টরিতে কাজ করত। কিন্তু ২০১৬ সালে বিমান হামলায় কারখানাটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয় এবং এতে কারখানার পনেরজন কর্মচারী নিহত হয়।

হোদইদাহ থেকে পালিয়ে আসা উদ্বাস্তু শিশু পাঁচ বছর বয়সী হাসান এবং তার তিন মাস বয়সী বোন রাতিফ।

ছয় বছর বয়সী পুত্র আলীর সাথে ৩৯ বছর বয়সী কৃষক আহমদ। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের প্রচণ্ডতায় তারা তায়েজের নিজ বাসভবন ছেড়ে রাজধানী সানায় পালিয়ে আসেন।

 

সানায় নিজেদের আশ্রয় শিবিরের সামনে দণ্ডায়মান শিশু, আট বছর বয়সী আবদুল্লাহ এবং তার ভাই দুই বছর বয়সী হুসাইন। 

 

 সানার নিজ বাসভবনের সামনে পড়ে থাকা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত গাড়ির পাশে হেঁটে যাওয়া ছয় বছরের শিশু খালিদ। যখনই কোন বিমানের আওয়াজ সে শুনতে পায়, তখনই সে দৌড়ে গুপ্তস্থানে লুকায়।

 

আমরান শহরের একটি স্কুলের ধ্বংসস্তূপে ৪২ বছর বয়সী মুহাম্মদ এবং তার ১৯ বছর বয়সী পুত্র মুনতাব।

 

 ২০১৭ সালে বিমান হামলায় এই বাসভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং এতে বসবাসকারী নয়জন ইয়েমেনি সাথে সাথে নিহত হয়।

 

আশ্রয়শিবিরে আশ্রয় গ্রহণকারী যাউমালা ও তার স্ত্রী ওয়াসলামে এবং তাদের সন্তানেরা। দুইবছর পূর্বে তারা আমরানের নিজস্ব বসত ছেড়ে আসেন। পালিয়ে আসার পূর্বে বিমান হামলায় তারা তাদের এক সন্তানকে হারান।

 

সানায় গত ৫ জুন বিমান হামলার শিকার একটি বসতবাড়ির ধ্বংসস্তূপ। হামলায় সাতজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়, যার মধ্যে চারজন শিশু।

 

আমরানের শরণার্থী শিবির।

সূত্র: আল জাজিরা

এমএফ/এএল/