মুঠোফোনে কুরআনের রিংটোন হারাম: সৌদি, সমর্থন দেওবন্দের

ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫

মুঠোফোনে কুরআনের রিংটোন হারাম: সৌদি, সমর্থন দেওবন্দের

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৮

মুঠোফোনে কুরআনের রিংটোন হারাম: সৌদি, সমর্থন দেওবন্দের

সৌদি আরবের ধর্মীয় নেতা ও ইসলামি ফিকাহ বিশেষজ্ঞরা মুঠোফোনের রিংটোন বিষয়ক সম্প্রতি যে ফতোয়া দিয়েছেন তাকে সমর্থন দিয়েছে ভারতের ঐতিহাসিক দ্বীনি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দ। ওই ফতোয়ায় মোবাইল ফোনের রিংটোন হিসেবে কুরআন শরীফের আয়াত বা সুরা ব্যবহার হারামকে বলা হয়েছে।

দারুল উলুম দেওবন্দের ইসলামি আইন অনুষদের মুফতি আরিফ কাশ্মিরী বলেন, সৌদি আরবে জারি করা ফতোয়া অনেক গুরুত্বের দাবি রাখে। মোবাইল ফোনে রিংটোন হিসেবে কুরআন ব্যবহার হারাম। কারণ আপনি মোবাইলটি বহন করে টয়লেটে গেলে কুরআন শরীফ ও আজান রিংটোন হিসেবে বেজে ওঠলে কুরআন বা আজানের অসম্মান করা হয়। এটা ইসলাম সমর্থন করে না।

এ ফতোয়া আরব, ভারত বা বিশ্বের অন্যান্য যেকোনো জায়গাতেই প্রযোজ্য। তাই আরবদের জারি করা এ ফতোয়া কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। 

দারুল উলুম দেওবন্দসহ অনেক মাদরাসা থেকে এ ফতোয়া দেওয়া হয়েছিল। ইসলামী আইনবিদ, মুফতিগণ মোবাইল ফোনে রিংটোন হিসেবে কুরআনের আয়াত ব্যবহার করার বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন বহু আগ থেকেই। ২০০৯ সালে কানপুর ভিত্তিক একটি সংগঠন জামিয়া আশরাফুল মাদারিস একই নির্দেশপত্র দিয়েছিল। 

মুফতি আরিফ কাশ্মিরী আরো বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি টয়লেটে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে কুরআনের আয়াত শোনে, তাহলে এটা গুনাহের কারণ হবে। পাশাপাশি বেশিরভাগ সময়ই মানুষ যখন ফোন রিসিভ করে তখন আয়াতের মাঝখানে অসম্পূর্ণ রেখে রিসিভ করা হয়। এটা কুরআনের আদবের পরিপন্থী। কুরআনকে ভালোবেসে ফোনে রিংটোন দিয়ে কুরআনের আদবের খেলাফ করা অনুচিত। তাই এটি অবশ্য পরিত্যাজ্য।

দেওবন্দের ওই মুফতি আরও বলেন, আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করে বাইবেলের আয়াতগুলি রিংটোন ব্যবহার করে খ্রিস্টানরা তারা কোনো সমস্যা মনে করে না। হিন্দুরাও শ্লোক রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করে, কিন্তু তারা তাতে কোনো ক্ষতি মনে করে না। 

আমি উত্তর দিয়েছি যে, আমি অন্য ধর্ম সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারি না। কিন্তু ইসলামে কুরআনের আয়াত রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করলে যথাযথ কারণে কুরআনের অসম্মান হয়। ইসলাম তাই এটাকে জায়েয বলে না। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া। 

এফএস/আরপি