তেহরানে অভিনব নকশার মসজিদ ভালি-ই-আস্‌র

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

তেহরানে অভিনব নকশার মসজিদ ভালি-ই-আস্‌র

মোহাম্মদ মামুনূর রশিদ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮

তেহরানে অভিনব নকশার মসজিদ ভালি-ই-আস্‌র

দুই লাখ ৭০ হাজার স্কয়ার ফুট আয়তনের ভালি-ই-আস্‌র মসজিদটি তেহরানের একটি ব্যস্ত চত্বরে অবস্থিত। মসজিদটির মূল ভবনটির ঢেউ খেলানো নকশা আভা-গার্ড স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন। আভা-গার্ড বলতে সময়ের চেয়ে অগ্রসর শিল্পীদেরকে কর্মকাণ্ডকে বুঝানো হয়।

সাধারণত মসজিদে গম্বুজ ও মিনার থাকে। কিন্তু ভালি-ই-আস্‌র-এ একটাও মিনার ও গম্বুজ নেই।

এপির রিপোর্টে বলা হয়েছে, মসজিদটিকে ঘিরে ইরানের কট্টরপন্থী মুসলিম ও শিল্পী সমাজের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ভালি-ই-আস্‌রের নকশা অন্যান্য মসজিদের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। এটিতে গম্বুজ নেই, মিনার নেই, এমনকি মাইক লাগানোর কোনো টাওয়ারও নেই। এর ভবনটি শুধুই কংক্রিটে গড়া ঢেউয়ের সারি।

মসজিদটির আর্কিটেক্ট রেজা দানেশমিরের মতে, এর নকশায় ইসলামের নম্রতা ও বিনয়ের প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি মনে করেন, একটা মসজিদের যেকোনো রকম হতে পারে। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর আমলে যে প্রথম মসজিদটি বানানো হয়েছিল তাতে কোনো গম্বুজও ছিল না, টাওয়ারও ছিল না।

দানেশমির এপিকে বলেন, ‘আমরা মসজিদটিকে একটি আভা-গার্ড প্রজেক্ট বানাতে চেয়েছিলাম, সেকেলে এবং রক্ষণশীল নয়।’

কিন্তু ইরানের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মসজিদটির নকশার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের মতে, মসজিদ ভবনটির নকশা ইহুদিদের টুপি কিপার অনুকরণে করা হয়েছে।

ভালি-ই-আস্‌র তেহরানের সিটি থিয়েটার ভবনের পাশে অবস্থিত। ১৯৭৯-এর ইরানি বিপ্লবের আগে তৈরি গোলাকার ভবনটির নকশা ও রাজকীয় উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। এর ঠিক পাশেই তৈরি করা হয়েছে ভালি-ই-আস্‌র মসজিদটি।

সিটি থিয়েটার ভবনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মসজিদের নকশা করাটা আর্কিটেক্টদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিল।

সমালোচকরা ভালি-ই-আস্‌রকে মসজিদ বলে স্বীকার করতেই নারাজ। তারা বলছেন, থিয়েটারের পাশে মসজিদটিকে খর্বকায় মনে হচ্ছে।

১৪ বছর আগে মাহমুদ আহমেদিনেজাদ যখন তেহরানের মেয়র ছিলেন, তখন মসজিদটি বানানোর প্রস্তাব করা হয়। সিটি থিয়েটার কর্তৃপক্ষ এর জন্য প্রস্তাবিত প্রথম নকশাটির বিরোধিতা করেন।

এরপর রেজা দানেশমির ও ক্যাথেরিন স্পিরিডোনফের প্রতিষ্ঠান ফ্লুয়িড মোশন আর্কিটেক্টকে মসজিদটির নকশার দায়িত্ব দেয়া হয়। ফ্লুয়িড মোশন তেহরানে নতুন ধরনের স্থাপত্যকলার সূচনা করার জন্য বিখ্যাত।

তারা বলেন, ‘আমাদের এই প্রজেক্টের অন্যতম অনুপ্রেরণা হচ্ছে কুরআন। আমরা চেয়েছিলাম মসজিদটির নকশায় বিনয়, অকপটতা, ও সরল বিশ্বাস ফুটিয়ে তুলতে। গঠনের উচ্চতার কারনে গর্ব করতে পারবে এমন মসজিদ আমরা বানাতে চাইনি। ভালি-ই-আস্‌র মসজিদটি ছাত্রদের পার্ক এবং সিটি থিয়েটারের মাঝখানে অবস্থিত। আমরা চেয়েছি তরুণ প্রজন্মকে মসজিদটির প্রতি আকৃষ্ট করতে।’

ওই আর্কিটেক্ট জুটি বলেন, একটিই সাধারণ গম্বুজের আদলে মসজিদটি নকশা করা হয়েছে।

ব্যতিক্রমধর্মী নকশায় গড়া ধর্মীয় উপাসনালয় নতুন কিছু নয়। তেহরানেই ব্যতিক্রমধর্মী নকশার আল-ঘাদির মসজিদ রয়েছে যা আর্কিটেকচারের জন্য আগা খান পুরস্কার জিতে নিয়েছে।

নানান বাধা-বিঘ্ন সত্ত্বেও দশ বছর ধরে ১৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে মসজিদটির নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মসজিদটি উদ্বোধন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমআর/এমএসআই