ওজুর অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

ওজুর অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

মেহেদী হাসান সাকিফ ৭:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০১৮

ওজুর অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

প্রতিটি মুমিনের শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথেই যেন পবিত্রতা শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। দৈনন্দিন জীবনে প্রতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের আগে ইবাদতের পূর্বশর্ত হিসেবে ওজু করতে হয়। এছাড়াও সাওয়াবের নিয়তে বিভিন্ন সময় আমরা ওজু করি। ওজুর মাধ্যমে একদিকে যেমন পবিত্রতা ও অগণিত কল্যাণ লাভ হয়, তেমনি এক অন্যরকম সতেজতা ও নির্মলতা অনুভূত হয়। উসমান বিন আফফান (রা.) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করে তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। ফলে তার মসজিদে যাওয়া ও নামাজ অতিরিক্ত আমল বলে গণ্য হয়।’ (সহিহ মুসলিম : ৫৬৬)

অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানও ওজুর উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের এক চমকপ্রদ তথ্য জানিয়েছে। ওজুতে দুই হাতের কবজি ভালোভাবে ধৌত করতে হয়। হাতে সাধারণত ময়লা ও জীবাণু থাকে। মুখে পানি দেয়ার আগে যদি হাত ভালোভাবে পরিষ্কার না করা হয় তাহলে সেই জীবাণু মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে পারে। বেশি বেশি কুলি করা স্থ্যাস্থের পক্ষে উপকারী। মানুষ যখন খাদ্য খায় তখন দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে। দন্তরোগের ডাক্তারগণ বলেন, দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্যাংশ। আমরা মুসলিম আমাদের কাছে রয়েছে চৌদ্দশত বছর পূর্বে মহানবীর শিক্ষা, যার মধ্যে রয়েছে দ্বীন-দুনিয়ার কামিয়াবি।

শরিয়তের আদেশ রয়েছে তোমরা রাগান্বিত হলে ওজু করবে। যখন রক্তচাপ বেড়ে যাবে তখন ওজু করবে। ক্রোধের সময় রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। হৃদরোগের কারণে যখন উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যায় তখন ওজু করা হলে রক্তচাপ কমে যায়। খাবার গ্রহণের পর দাঁত ও মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে একদিকে যেমন মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। তেমনিভাবে এসব খাদ্যের উচ্ছিষ্টাংশ হতে তৈরি হয় বিভিন্ন জীবাণু। যা প্রকৃতপক্ষে দাঁত ও মাড়ির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এসবের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে প্রতিদিন কমপক্ষে কয়েকবার মেসওয়াক করা।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত দন্তবিজ্ঞানের বহু আগেই উম্মতকে মেসওয়াক করার জন্য হাদিসে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমার উম্মতের যদি কষ্ট না হত তাহলে অবশ্যই তাদেরকে প্রত্যেক নামাজের পূর্বে মেসওয়াক করার হুকুম করতাম।’ (বুখারি ও মুসলিম)

এমনকি আজকের মেডিকেল সায়েন্সও প্রমাণ দেখিয়েছে যে, মেসওয়াক দ্বারা মস্তিষ্কের শক্তি অর্জিত হয় এবং দীর্ঘসময় পর্যন্ত তা স্বাস্থ্যবান থাকে।

এএইচটি

 

বিবিধ: আরও পড়ুন

আরও