তাকওয়া অর্জনই রোযার প্রকৃত উদ্দেশ্য

ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫

তাকওয়া অর্জনই রোযার প্রকৃত উদ্দেশ্য

শিফা বিনতে জালাল ৪:২২ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৮

print
তাকওয়া অর্জনই রোযার প্রকৃত উদ্দেশ্য

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

“হে ইমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করে দেওয়া হয়েছে যেমন নাকি তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরেও ফরয করা হয়েছিল। যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সূরা বাকারা-১৮৩) 

মাঝখানে আর একটি দিন- এরপরেই আসছে অপার রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের পবিত্র রমযান মাস। মহান রাব্বুল আলামিনের প্রতি অজস্র কৃতজ্ঞতা যে তিনি আমাদেরকে এমন বরকতময় একটি মাস দান করেছেন। এ মাসে আল্লাহ তা’আলা সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ সা. এর উপর কুরআনুল কারিম নাযিল করেছেন। এর মাধ্যমে আসমানি গ্রন্থ সমূহের ধারা পূর্ণতায় পৌঁছে গেলেও রাসুলুল্লাহ সা. এর পূর্ণ হায়াতে যিন্দেগি হল কিয়ামত অবধি সর্বকালের মানব জাতির জন্য জীবন ও জীবনের প্রতি ধাপে কুরআনুল কারীমের প্রায়োগিক নমুনা হিসেবে সামনে এসেছে।       

কুরআনুল কারিমের এক একটি শব্দ অতীত বর্তমান ভবিষ্যতের অনেক অনেক বিশালতাকে ধারণ করে আছে। যদি মানুষ জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে কুরআনের উপর আমল করে চলে- তার ভাগ্য বদলে যাবে। সে আল্লাহর এতো নিকটে পৌঁছে যাবে যে আল্লাহ তার সকল চাওয়া, সকল আকুতি ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবেন। সূরা বাকারায় আল্লাহ তা’আলা রমযান মাসের যে উপকারিতা বর্ণনা করেছেন, যদি আমরা তা অর্জন করতে পারি তাহলে আমাদের পুরো জীবনে এক অনন্য স্থিতিশীলতা চলে আসবে এবং আমরা সত্যিকারর্থেই নিজেদের আশরাফুল মাখলুকাত বলার হকদার হবো। 

কুরআনুল কারিমের এই আল্লাহপ্রদর্শিত নির্দেশনা থেকে জানা যায় যে রোযার প্রকৃত উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন। তাকওয়া ও পরহেযগারি ইসলামী ইবাদতের প্রাণ মূল ভিত। এ ব্যতীত সকল সকল ইবাদত নিষ্প্রাণ প্রথাপালন মাত্র। কুরআনুল কারিম ও হাদিসে নববিতে কমবেশি সকল ইবাদত ও নেককাজের বুনিয়াদি উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জনই বিবৃত হয়েছে।  

কুপ্রবৃত্তির আনুগত্য থেকে নিজেকে প্রতিরোধ করা, তার লাগাম টেনে ধরা এবং দ্বীনের পূর্ণ অনুসরণে নিজেকে নিয়োজিত করাই হচ্ছে রোযার উদ্দেশ্য। যা আসলে তাকওয়া ও পরহেযগারি অর্জনের পরেই সম্ভব। এ ব্যপারে রাসুলুল্লাহ সা.-এর এই ইরশাদ আমাদের জন্য চলার পথে আলোকবর্তিকা যে- তিনি বলেন, “রোযা ঢাল স্বরূপ। তাই রোযাদার যেন অনর্থক কথা ও অজ্ঞচিত করমে লিপ্ত না হয়। কেউ যদি তার সাথে ঝগড়া করে ও গালিগালাজ করে তাহলে সে যেন বলে আমি রোযাদার।”     

রমযানুল মোবারকে একটি দৃশ্য প্রায়ই দুঃখজনকভাবে চোখে পড়ে যে মানুষ দোকানে কিছু কিনতে নিয়ে, পথ চলতে বা শহরের যানবাহনে একে অপরের সাথে সামান্য কিছু নিয়ে তর্কে লিপ্ত হয়, তাড়াহুড়া ও অধৈর্যের প্রকাশ করে। কখনো তো বিষয়টি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। এ সবকিছুই আসলে রোযা অবস্থায় আত্মনিয়ন্ত্রণের বিপরীত আমল এবং রোযার প্রকৃত রুহের পরিপন্থী কাজ।

মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের রমযানে সমস্ত অপছন্দনিয় ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থেকে পূর্ণ মাস বিশুদ্ধ আত্মা ও আমলের সাথে রোযা রাখার তাওফিক দান করুন এবং আমরা যেন রমযানের প্রকৃত শিক্ষা জীবনে ধারণ করতে পারি- আল্লাহ কবুল করুন।

এমএফ/    

 
.


আলোচিত সংবাদ