দাম্পত্যজীবনে সুখী হতে পাঁচ কাজ 

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দাম্পত্যজীবনে সুখী হতে পাঁচ কাজ 

উম্মে আব্দুল্লাহ ২:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৬, ২০১৯

দাম্পত্যজীবনে সুখী হতে পাঁচ কাজ 

“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আর একটি নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিনীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা ওদের নিকট শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও মায়া-মমতা সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।” [সূরা রূম, আয়াত: ২১]

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক আল্লাহর পক্ষ থেকে এক টুকরো নেয়ামত, নবীদের সুন্নাত ও পৃথিবীতে জান্নাতের আবেশ। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু দমকা হওয়া এলোমেলো করে দিতে পারে এই সুন্দর নেয়ামত অথবা কোনো ঠুনকো মান অভিমানের পাল্লা ভারী হতে হতে একসময় ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হতে পারে বৈবাহিক সম্পর্ক। তাই দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই মেনে চলুন পাঁচটি বিষয়।

১। শ্রদ্ধার সম্পর্ক গড়ে তুলুন
দুটো প্রাণ একসাথে পথ চলায় জীবনের আঁকাবাঁকা পথে কিছু কাঁটার আঁচড় রক্তাক্ত করে দেয় মাঝে মাঝে। রাগ ক্ষোভ জমতে জমতে একসময় একে অপরের প্রতি খানিক বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। ঠিক এ মুহুর্তে সঙ্গীর ভালো গুণগুলো মনে করুন। ভাবুন তাঁর অকৃত্রিম গুণগুলোর কথা, রাগ ক্ষোভ ঝেড়ে ফেলে শ্রদ্ধা করুন একে অপরকে। স্বামী হলে স্ত্রীকে শুধু নারী না ভেবে মানুষ ভাবুন, তাঁর যথাযথ মর্যাদা দিন। তাঁর ব্যক্তিত্বে আঘাত লাগে এমন কথা কখনোই বলবেন না । আর স্ত্রী হলে স্বামীর প্রতি ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কখনো বিষাক্ত বাণ ছুড়বেন না। কথার আঘাত তীরের চেয়েও ধারালো।

২। প্রত্যাশা ছাড়াই ভালবাসুন
কোনোরকম প্রত্যাশা ছাড়াই একে অপরকে ভালবাসুন। পরস্পরকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করতে হবে। যেকোনো সিদ্ধান্তে পরস্পরের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আপনি হয়তো তাকে বেশী ভালোবাসেন, তাই বলে সবক্ষেত্রে নিজের মতো ভালবাসা প্রত্যাশা করবেন না। মনে রাখুন প্রত্যেকের ভালবাসা প্রকাশের ধরণ ভিন্ন। 

৩। বিবাহ পূর্ব জীবন সম্পর্কে অকারণ গোয়েন্দাগিরি বন্ধ করুন
আজকাল কিছু অতি উৎসাহী  দম্পতিকে দেখা যায়, সঙ্গীর  বিবাহ পূর্ববতী জীবন নিয়ে অতি সজাগ থাকে। এমনও হতে পারে আপনার স্বামী বা স্ত্রী বিবাহ পূর্ব কোন সম্পর্ক বা ভালো লাগায় জড়িত ছিলেন। এক্ষেত্রে সম্ভব হলে বিয়ের পূর্বে খোঁজ নিন, কিন্তু বিয়ের পরে নয়। স্বামী বা স্ত্রীকে মাফ করে দিন, মন থেকে  ভালবাসুন।

মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ বলেন, আপনার সঙ্গীর বিবাহপূর্ব জীবন সম্পর্কে ঘাটাঘাটি না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। অহেতুক তার পুরোনো নথিপত্র ঘেঁটে এখন নিজেদের মধ্যে কলহ বন্ধ করুন। এখন সে আপনার স্বামী বা স্ত্রী, তাই প্রত্যাশাহীনভাবে একে অপরকে ভালবাসুন।

৪। সহযোগী হন, প্রতিযোগী নয়
স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার মধ্যদিয়েই দাম্পত্য জীবন সুখী হয়। একে অপরের সাফল্যে নিজের মতই খুশী হোন। পরস্পরের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করুন। ইসলাম একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল হতে বলেছে। ইসলাম নিছক ব্যক্তিস্বার্থে পরিবারের বৃহত্তর স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করার অধিকার কাউকে দেয়নি।

৫। আজীবন একে অপরকে আবিষ্কার করুন
স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে আবিষ্কার করুন। প্রতিটি মানুষেরই ব্যক্তিগত ভালো মন্দের বিষয় আছে। পরস্পরের প্রিয় বিষয়গুলো মনোযোগের সাথে লক্ষ্য করতে হবে। তার চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারগুলোর প্রতিও একইভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। এগুলো আবিষ্কার করলেই হবে না। বরং  ন্যায় সঙ্গত চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারে আন্তরিক হতে হবে। এছাড়াও ভালোবাসার কথা জানান নিয়ম করেই। নবীজি (সা.) এতে উৎসাহিত করেছেন।

এছাড়া স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে অবস্থান করলে নিয়মিত খোঁজ-খবর নেয়া উচিত। অফিস বা কর্মস্থলে কাজের ফাঁকে ফোন করে কথা বললে স্ত্রীর একাকীত্ব বা মন খারাপের যতো আয়োজন দূর হয়ে যায়। এছাড়া কোথাও বেড়াতে গেলে একে অপরকে ছোট-খাটো উপহার সামগ্রী দেয়া যেতে পারে। এতে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা প্রকাশ পায়।

এমএফ/

 

বিবিধ: আরও পড়ুন

আরও