মুসলমানরা কি কাবার ইবাদত করে?

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

মুসলমানরা কি কাবার ইবাদত করে?

মুহাম্মদ ফাতহী ৮:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৯

মুসলমানরা কি কাবার ইবাদত করে?

অনেক অমুসলিমই মনে করেন, মুসলমানেরা কাবার পূজা করে। মূলত, হজ্জ্বের উদ্দেশ্যে সারাবিশ্ব থেকে মুসলমানদের কাবা প্রান্তরে একত্রিত হওয়া, এবং এসময় টেলিভিশনে কাবার চারপাশে তাওয়াফ করা, কাবার গায়ে লাগানো হাজরে আসওয়াদ চুমু দেওয়াসহ বছরের প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায কাবার দিকে ফিরে আদায় করতে দেখেই তাদের এই ধারণার জন্ম।

ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সাথে যাদের পরিচয় নেই, তারা প্রায়ই এই ভুল ধারণা পোষণ করেন। কিন্তু সত্য হলো মুসলমানরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে প্রভু মানে না।

ইসলামী বিশ্বাসের ভিত্তি তাওহীদ
প্রথমত, ইসলামের পুরো দর্শন গড়ে উঠেছে তাওহীদের উপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ, আল্লাহই একমাত্র প্রভু এবং তিনি ছাড়া উপসনার যোগ্য আর কেউ নেই। এই তত্ত্বকে অবলম্বন করেই ইসলামের পুরো বিশ্বাস ও কর্মপদ্ধতি গড়ে উঠেছে। কালিমার শুরুতেও স্পষ্টভাবে এই বিষয়ের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসলামে এই বিশ্বাসের বিপরীত অন্যকোন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর উপাসনা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্যতম অপরাধ।

কাবামুখী হয়ে নামায
নামাযের সময় যখন মুসলমানরা কাবার দিকে নিজেদের মুখ ফিরিয়ে নেয়, কাবাকে পূজার উদ্দেশ্যে তারা মুখ ফেরায় না। তারা কাবার কাছে কোন প্রার্থনাও করেনা। বরং কাবাকে কেবলা করে তারা নামায আদায় করে।

আল্লাহর নির্দেশে কাবাকে কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে তারা কাবার দিকে ফিরে নামায আদায় করে।

নামাযের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় কোথাও কাবার নামের উল্লেখ নেই, কাবার কাছে প্রার্থনা তো দূরের কথা। নামাযের মধ্যে মুসলমানরা একমাত্র আল্লাহরই প্রশংসা করে এবং তার কাছে তাদের সকল প্রার্থনা জানায়।

ইসলামের সূচনায় জেরুসালেমের বাইতুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের কেবলা ছিল। অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশে মুসলমানরা বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামায আদায় করতো। পরবর্তীতে আল্লাহর নির্দেশে জেরুসালেমের বাইতুল মুকাদ্দাসের পরিবর্তে মক্কার বাইতুল্লাহ তথা কাবাঘর মুসলমানদের কেবলা হিসেবে নির্ধারিত হয়।

কাবার চারপাশে তাওয়াফ
হজ্জ্ব বা উমরার সময় কাবার চারপাশে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করাকে অনেক অমুসলিমই মুসলমানদের কাবার পূজা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। কিন্তু এটিও সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কোন মুসলমানই কাবার পূজার কথা চিন্তা করে তাওয়াফ করে না।

নামাযের মতই তাওয়াফের সময় মুসলমানরা আল্লাহর প্রশংসায়, তার জিকির ও তার কাছে প্রার্থনায় নিজেদের ব্যস্ত রাখে। মূলত আল্লাহর নির্দেশে তাকে স্মরণ করার অংশ হিসেবে মুসলমানরা হজ্জ্ব বা উমরার সময় কাবা তাওয়াফ তথা কাবাঘরকে প্রদক্ষিণ করে।

তাওয়াফের সময় কোন মুসলমানই এটি বিশ্বাস করে কাবা তাওয়াফ করে না যে, এই ঘর নিজে থেকে তাদের কোন উপকার বা বিপদমুক্ত করবে।

ইসলামের মর্যাদাশীল প্রতীক
কাবা মূলত ইসলামের একটি মর্যাদাশীল প্রতীক ও পবিত্র একটি স্থান হিসেবে বিবেচিত।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি, একবার কাবাঘর তাওয়াফ করার সময় রাসূল (সা.) বলেন, “কত বড়ইনা তোমার মর্যাদা এবং কত বড়ইনা তোমার পবিত্রতা! তার কসম যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, মুমিনের পবিত্রতা আল্লাহর কাছে তোমার পবিত্রতার থেকেও অধিক।” (ইবনে মাজাহ)

এমএফ/

 

বিবিধ: আরও পড়ুন

আরও