মৃত্যুর পর আপনার দেহের যা হবে!

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মৃত্যুর পর আপনার দেহের যা হবে!

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯

মৃত্যুর পর আপনার দেহের যা হবে!

মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং মৃত্যুকে করেছেন প্রতিটি প্রাণের অবধারিত পরিণতি। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, “তিনিই জীবন ও মরণ দান করেন এবং তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।” (সূরা ইউনুস, আয়াত: ৫৬) 

চলুন তবে জেনে নেই মৃত্যুর পর আমাদের এই দেহ কীভাবে শেষ হয়ে যাবে, একটু অনুভব করি এই দেহের নশ্বরতা–যেন ক্ষণস্থায়ী এই দেহ ও পৃথিবীর আরাম আয়েশের বিভ্রম সত্যিকারের অনন্ত জীবন থেকে আমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে দেয়। 

মৃত্যু সকল জীবিত সত্ত্বার শেষ পরিণতি। জীবিত এক সত্ত্বা থেকে প্রাণ চলে যাওয়ার পর তার অভ্যন্তরীণ সকল উপাদান পঁচতে শুরু করে। 

জীববিজ্ঞানীরা বর্তমানে মৃত্যুকে একটি ঘটনা হিসেবে হিসেবে না দেখে বরং একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন। বিভিন্ন অপরিহার্য চিহ্নের উপস্থিতি-অনুপস্থিতিরি ভিত্তিতে তারা এই প্রক্রিয়ায় জীবিত ও মৃতের মাঝখানে বিভাজন রেখা টানেন।

সাধারণভাবে, ক্লিনিক্যালি ডেথ (clinical death) বিষয়টি প্রকৃত মৃত্যুকে (legal death) বোঝানোর জন্য যথেষ্ট নয়। কেননা, ক্লিনিক্যালি কোন ব্যক্তির মৃত্যু না হলেও এবং অন্যান্য অঙ্গ কাজ করলেও যদি তার মস্তিষ্ক মৃত্যুবরণ করে (brain death), তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করতে পারেন।

বার্ধক্য এমন এক অবস্থাকে নির্দেশ করে, যেখানে জীবিত সত্ত্বা তার টিকে থাকার সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বয়সজনিত বিভিন্ন কারনে ক্রমশে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয় প্রকার জীবকোষেই তাদের স্বাভাবিক টিকে থাকার প্রয়োজনে নতুন নতুন কোষের সৃষ্টি করে। কিন্তু বয়সের কারণে একসময় নতুন এই কোষ তৈরিতে ভাটা পড়ে এবং এক সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, নতুন জীবকোষের অভাবে একসময় প্রাণী বা উদ্ভিদটির মৃত্যু হয়।  

সারাবিশ্বে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মানুষ মারা যায়। এরমধ্যে দুই তৃতীয়াংশই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বার্ধক্যের কারনে মৃত্যুবরণ করে।

মৃত্যুর পর নতুন জীবকোষ উৎপাদনে অক্ষম মৃতদেহটির অবস্থা সম্পর্কে এখানে সংক্ষেপে বিবৃত করা হল।

>>মৃত্যুর এক সেকেন্ডের মধ্যে মস্তিষ্কে একটি ঝাঁকুনি হয়, পরমুহূর্তেই মস্তিষ্কের সকল কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

>>শরীরের তাপমাত্রা নেমে ১.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা মাইনাস ১৬.৮৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে তা পারিপার্শ্বিক পরিবেশের স্বাভাবিক তাপমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে আসে।

>>শরীরের জীবিত কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে ধীরে ধীরে মারা যেতে থাকে এবং মৃত কোষগুলো ভেঙে বিচ্ছিন্ন উপাদানে পরিণত হতে থাকে। এভাবেই শরীরের পচনক্রিয়া শুরু হয়।

>>শরীরের পেশিগুলো টান টান হয়ে শক্ত হয়ে যায়, ফলে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গ নাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরবর্তী ৩৬ ঘন্টা শরীর এই অবস্থায় থাকে।

>>পরবর্তীতে ধীরে ধীরে পেশি ঢিলে হয়ে আসলে, শরীরের অভ্যন্তরে থাকা মল-মূত্র শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে।

>>শরীরের কোষের পানি শুকিয়ে গিয়ে চামড়া সংকুচিত হয়ে আসে। এই অবস্থায় শুকিয়ে যাওয়ার কারণে চামড়ার তুলনায় নখ ও চুলকে বড় মনে হয়।

>>মধ্যাকর্ষণের কারণে শরীরের রক্ত চামড়ার উপর থেকে সরে যাওয়ায় শরীরকে রক্তশূণ্য মনে হয়। একইসাথে চামড়ার কোথাও কোথাও লালচে ছোপ পড়ে।

>>মৃত্যুর কিছুদিনের মধ্যেই মৃতদেহ ধীরে ধীরে সবুজ বর্ণ ধারণ করতে থাকে। কেননা শরীরের অভ্যন্তরে থাকা এনজাইম শরীরের অভ্যন্তরীণ ব্যাকটেরিয়ার সহায়তায় নিজেদের পচনক্রিয়া শুরু করে।

>>মৃতদেহ থেকে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। কেননা শরীরের পচনক্রিয়ায় শরীর থেকে পুটরেসিন (putrescine) ও ক্যাডাভরিনের (cadaverine) মত রাসায়নিক বস্তু বিশ্লেষিত হয়ে বেরিয়ে আসে।

>>শরীরে পোকার আক্রমণের সূচনা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে পোকায় একটি মৃতদেহের ৬০ শতাংশ খেয়ে হজম করতে পারে।

>>শরীরের পচনক্রিয়া অব্যাহত ভাবে চলতে থাকে। পচনক্রিয়ার ধাপে ধাপে শরীর প্রথমে লাল-বেগুনী (Perple) এবং পরে কালো বর্ণ ধারণ করে।

>>শরীরের সমস্ত চুল ঝরে পড়ে।

>>মৃতদেহকে যদি ৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া হয়, তবে সম্পূর্ণ শরীরের কোমল কোষগুলো পঁচে নিঃশেষ হতে চার মাসের মত সময়ের প্রয়োজন হয়। চার মাস পর মৃতদেহের কঙ্কাল ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

পৃথিবীর জীবন সাময়িক। এই দেহ ও পৃথিবীর ধ্বংস অনিবার্য। অতএব, আমরা যেন সচেতন হই। এই সবকিছুর পেছনে যিনি আছেন, সেই মহান রবকে যেন চিনি। রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে বিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যু দান করুন। আমীন।

এমএফ/ 

আরও পড়ুন...
হাদীসের ভাষ্যে মৃত্যুর পর ধারাবাহিক যা ঘটবে
যে আমলে মৃত্যুর পরেই অবধারিত জান্নাত
জান্নাত লাভের মৌলিক ৪ আমল
হাদিসের বর্ণনায় জান্নাতের পথে প্রতিবন্ধক যা কিছু
মৃতব্যক্তির আত্মা কি জীবিত-মৃত সব মানুষের কাছে আসে?
মৃত্যু যেন হয় জান্নাতের পথে যাত্রা
হাদিসের আলোকে ভালো মৃত্যুর কিছু নিদর্শন
কোথায় আছে জান্নাত জাহান্নাম? তা কি এখন বিদ্যমান?
কবরে আত্মারা কি পরস্পর সাক্ষাৎ করে, কথাবার্তা বলে?
মৃতব্যক্তি কি আমাদের যিয়ারত ও সালাম বুঝতে পারে?
কবরে কি নবীজীর ছবি দেখিয়ে প্রশ্নোত্তর করা হবে?

 

মৃত্যু ও পরকাল : আরও পড়ুন

আরও