রমযানের জন্য ৯ উপায়ে প্রস্তুতি নিন

ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৯ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

বিষয় :

রমযান

রোযা

রোযার প্রস্তুতি

রমযানের জন্য ৯ উপায়ে প্রস্তুতি নিন

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:২০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০১৯

রমযানের জন্য ৯ উপায়ে প্রস্তুতি নিন

ইবাদতের বসন্তকাল মহিমান্বিত রমযান অত্যাসন্ন। ইবাদতকারীর জন্য এখন সময় কেবলই প্রস্তুতির। এই প্রস্তুতি রমযানকে বরণ করতে হৃদয়ের ঘরদোর পরিস্কার করে নেওয়ার, রমযানের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে দেহ-মন প্রস্তুত করে রাখার। রমযানের নানাবিধ প্রস্তুতির মধ্য হতে এ নিবন্ধে বিশেষ করে পুরো একমাস ধারাবাহিকভাবে রোযা রাখতে প্রয়োজনীয় দৈহিক ও বস্তুগত প্রস্তুতি সম্বন্ধে ৯টি পরামর্শ উল্লেখ করা হলো।

১. খাবার গ্রহণ
পরিমিতভাবে খাবার গ্রহণ করুন। অধিক খাবার গ্রহণ করে শরীরকে কষ্ট দেওয়ার কোন অর্থ হয়না। এটি শুধু আপনার চাহিদাকে বৃদ্ধি করবে এবং রোযাকে আপনার জন্য কষ্টকর করে তুলবে।

২. সকাল সকাল নাস্তা
রমযানের সারাটি দিন রোযা রাখতে ফজরের সময় হওয়ার আগেই আমরা ঘুম থেকে উঠে কিছু খেয়ে নেই, যা সাহরী নামে পরিচিত। রোযার এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি কখনোই পরিহার করার মত নয়। সাহরীর সাথে শরীরকে মানানসই করার লক্ষ্যে এখন রমযানের আগে যতখানি সম্ভব, সকাল সকাল নাস্তা সেরে রাখুন।

৩. মাঝখানে হালকা খাবার থেকে বিরত থাকা
শুধু দিনের তিনটি প্রধান খাবারের সময়ই খাবার গ্রহণ করুন; সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবার। এর মাঝখানে যেকোন কিছু খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। রমযানে শুধু দুইটি সময়ের খাবার গ্রহণের সাথে (সাহরী ও ইফতার) নিজেকে মানানসই করার লক্ষ্যে নিজের খাদ্যাভ্যাসকে এভাবে পরিবর্তন করে নিতে পারেন।

৪. চা-কফি পান হ্রাস করা
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা দিনের মধ্যে কাজের ফাঁকে বারবার চা-কফি জাতীয় পানীয় পান করেন। কাজের ফাঁকে চা-কফি পান না করলে তারা কাজের প্রতি মনোযোগ দিতে পারেন না। রমযানে যেহেতু বার বার চা-কফি পানের সুযোগ পাওয়া যাবে না, তাই হঠাৎ করে চা-কফি পান না করলে তাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজে অসংলগ্নতা দেখা দিতে পারে। সুতরাং এই অবস্থার সাথে অভ্যস্ত হতে তাদের জন্য এখন থেকেই চা-কফি পানের পরিমান ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা প্রয়োজন।

৫. ধুমপান ত্যাগ
যে ধুমপায়ীরা অপ্রস্তুতভাবে রমযানের রোযা রাখা শুরু করেন, তাদের মধ্যে হঠাৎ ধুমপান ত্যাগের কারনে বিভিন্ন প্রকার মানসিক সমস্যা যেমন- বিরক্তি, হতাশা, অধৈর্য প্রভৃতি লক্ষ্য করা যায়। এই অবস্থা থেকে বাঁচতে জন্য এখনই ধুমপান কমিয়ে আনুন। পাশাপাশি রমযানকে আপনার ধুমপানের মত বদঅভ্যাস ত্যাগের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন।

৬. নফল রোযা
রমযানের রোযার জন্য প্রস্তুতি হিসেবে কিছু নফল রোযা আদায় করুন। এর মাধ্যমে আপনি সহজেই রোযা রাখায় অভ্যস্ত হতে পারেন।

৭. ঘুমের নিয়ন্ত্রণ
আমাদের অনেকেরই বদঅভ্যাস অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকা। এই অভ্যাসটি বদল করে আমাদের আগে আগে শয্যাগ্রহণ করা উচিত, কেননা রোযা রাখার জন্য আমাদেরকে সাহরীর ফজরের সময় হওয়ার আগেই ঘুম থেকে উঠতে হবে। সুতরাং, রাতে সময় নষ্ট না করে আমাদের আগে আগে ঘুমের অভ্যাসটা করে নেওয়া উচিত।

৮. প্রয়োজনীয় বস্তুর সংগ্রহ
রোযা শুরু হওয়ার আগেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বস্তুসামগ্রী যথাসম্ভব সংগ্রহ করে রাখা উচিত। রোযা রেখে বাজার করা খুবই কষ্টসাধ্য কাজ। পাশাপাশি বাজারে সময় নষ্ট করার ফলে অন্য সকল ইবাদতের মাধ্যমে রমযানের বিপুল বরকত অর্জন থেকে আমরা বঞ্চিত হতে পারি। সুতরাং, রোযার আগেই আমাদের উচিত প্রয়োজনীয় বাজার সেরে নেওয়া।

৯. ডাক্তার যোগাযোগ
ডাইবেটিস, রক্তচাপসহ বিভিন্ন প্রকার অসুস্থতায় আপনার যদি রোযা রাখতে সমস্যা হয়, আগেই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। কেননা, আপনার সুস্থতার উপর আপনার রোযা রাখার সামর্থ্য নির্ভরশীল।

এমএফ/

আরও পড়ুন...

কুরআনের মৌসুমে জাগ্রত হৃদয়ে হোক তিলাওয়াত
রমযানের কাযা রোযার সংখ্যা মনে না থাকলে করণীয়
রোযা ও রমযান : ফাযায়েল ও জরুরি মাসায়েল
রমযান যাদের আল্লাহর সাথে মিলিয়ে দেয়
রমযানে কিভাবে হাসিল করব পূর্ণ রহমত, বরকত ও ফযিলত?
যাকাতের বছর পূর্ণ হলেও রমযানে আদায়ের জন্য বিলম্ব করা জায়েয কী?
সেহরি খাওয়া অবস্থায় আযান হয়ে গেলে যা করবেন
রমযানের রোযা কাযা থাকা অবস্থায় আশুরার রোযার কি হুকুম?