স্বার্থ, সুরক্ষা এবং পাপ

ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ | 2 0 1

স্বার্থ, সুরক্ষা এবং পাপ

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৬:৫৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৮

স্বার্থ, সুরক্ষা এবং পাপ

মানুষ বৈশিষ্ট্যগতভাবেই স্বার্থপর। সে সবার আগে নিজের স্বার্থ ও সুরক্ষার কথা ভাবে। এই ভাবনা তার অস্তিত্ব টেকানোর জন্য জরুরী। সে যদি এমন না করে, তাহলে হয়তো আর বেশিদিন সে পৃথিবীতে টিকে থাকবে না অথবা তাকে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন অন্তত হতে হবে।

স্বার্থ ও সুরক্ষার এটাই সেই চাহিদা, যা মানুষকে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জীবন সংগ্রামের পথে পরিচালিত করে। এজন্যই মানুষ শিকার করে, চাষাবাদ করে, চাকুরী ও ব্যবসা-বানিজ্যে নিজেকে নিয়োজিত করে। এভাবে সম্পদ ও অর্থ সঞ্চয় করে, বসতি নির্মাণ করে গোত্র ও বংশের আকৃতিতে মিলে মিশে জীবন যাপন করে।

তবু স্বার্থ ও সুরক্ষার এই চাহিদা এ সকল বৈধ সীমায় আবদ্ধ থাকে না সবার বেলায়। বরং মানব ইতিহাসে যুলুম-নির্যাতন, বে-ইনসাফী, পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদ, অপরের জান, মাল ও ইজ্জত-আব্রুর পদদলন, কারো জমি জবরদখল করা, অন্য দেশ ও জাতির উপর আক্রমণ করা এবং তাদেরকে দাসে পরিণত করা পর্যন্ত যতো ঘটনা সামনে আসে, এসবের পেছনে অধিকাংশ এই চাহিদাই কার্যকর থাকে।

খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঘাটতির কোন সময়ে বড় ব্যবসায়ী এ কারণেই স্টক এক্সচেঞ্জ করে। সরকারী কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা লোকেরা এ কারণেই ঘুষ নেয় এবং জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করে। একজন দুর্বল লোককে শক্তিশালির হাতে নির্যাতিত হতে দেখে কিছু করার শক্তি থাকা সত্ত্বেও মানুষ এ কারণেই হাত-পা গুটিয়ে নির্বিকার থাকে।

এই আচরণ সুস্পষ্টই অন্যায্য স্বার্থপরতার। সাময়িকভাবে মানুষ যদিও এর মাধ্যমে নিজের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে সফলও হয়ে যায়, কিন্তু এ কথা মনে রাখা চাই যে, বেশিদিন বাকী নেই যখন বিশ্বের প্রতিপালক পরিপূর্ণ ইনসাফের সেদিন কায়েম করবেন। যেদিন সরিষার দানা পরিমাণ যুলুমও কেউ যদি কামাই করে থাকে, আল্লাহ তার এই যুলুমের হিসাবও নিবেন।

যদি কারো সম্পদ আত্মসাৎ করে থাকে, তার হিসাব দিতে হবে। কাউকে গালি দিলে এরও জবাদিহি করতে হবে। কারো জমি অবৈধ দখল করলে, এরও বোঝা নামাতে হবে। কারো ইজ্জতের উপর হামলা করলে, কাউকে অপবাদ দিলে, অথবা কাউকে শারীরিক বা মানসিকভাবে কষ্ট দিলে – এগুলোর প্রতিটির ব্যাপারে বিচারের মধ্য দিয়ে পার হতে হবে।

এটা হবে সেদিন যেদিন প্রতিটি মানুষ জেনে নিবে যে, সবচে বড় লাভ আসলে ছিল জান্নাত অর্জন করা। আর সবচে বড় সুরক্ষা ছিল আসলে জাহান্নাম থেকে বাঁচা। অতএব, যে সকল লোকেরা দুনিয়ার জীবনে চলতে জান্নাত-জাহান্নামের এই লাভ-ক্ষতিকে সামনে রাখে, সে সকল লোকেরাই সেদিন সফল হবে। এরা সেসব মানুষ যারা দুনিয়াবী স্বার্থের আগে আখেরাতের স্বার্থের কথা ভাবে। দুনিয়ার ক্ষতি এবং এ থেকে বেঁচে থাকার কথা ভাবার আগে জাহান্নামের প্রজ্জলিত আগুনের ব্যাপারে চিন্তিত থাকে।

এমন লোক কখনো নিজের স্বার্থ ও সুরক্ষার জন্য কারো উপর যুলুম করে না। কারো সম্পদ অবৈধ পথে আত্মসাৎ করে না। কারো ইজ্জতের উপর আক্রমণ করে না। আর যদি কখনো কোন কারণে এমন কোন ঘটনা ঘটেও যায় তাহলে সাথে সাথেই তাওবার পথ অবলম্বন করে। নিজের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়, ক্ষমা প্রার্থনা করে। যার ভধিকার খর্ব হয়েছে, তার অধিকার তাকে পুনরায় বুঝিয়ে দেয়। এরাই সেই সকল মানুষ, যাদের তাওবা তাদের প্রতিপালকের কাছে গ্রহণীয় হবে।

আর রইল সে সকল লোকের কথা, যারা নিজের স্বার্থ ও সুরক্ষার জন্য অপরের জান, মাল ও ইজ্জতের ক্ষতি করতে কোন প্রকার কার্পণ্যবোধ করে না। তারা মূলত সবার চেয়ে এগিয়ে নিজের ক্ষতি করছে। তারা জান্নাত ছেড়ে জাহান্নামকে নিজেদের ঠিকানা বানিয়ে নিচ্ছে। নিশ্চয়ই জান্নাত হতে বঞ্চিত হওয়ার মত দুর্ভাগ্য আর কোনকিছুতে নেই। আর জাহান্নামের ক্ষতির চেয়ে বড় আর কোন ক্ষতি নেই।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
উম্মাহর পুনরুত্থানে ইসলামের দাওয়াত
বাইতুল মুকাদ্দাস মুসলমানের ধর্মীয় উত্তরাধিকার
আফগান ফিলিস্তিন কাশ্মীর: যেখানে মিশে গেছে রক্ত-মাটি
ফিলিস্তিন : যেখানে দলিত মানবতা

 

বিবিধ: আরও পড়ুন

আরও