ইসলামে স্বাধীনতার সীমানা

ঢাকা, ১২ এপ্রিল, ২০১৯ | 2 0 1

ইসলামে স্বাধীনতার সীমানা

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০২, ২০১৮

ইসলামে স্বাধীনতার সীমানা

স্বাধীনতার মূলনীতির পক্ষে ইসলামের অবস্থান। দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এ ব্যাপারে তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি করে গিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “তোমরা কবে থেকে তাদের ক্রীতদাস বানিয়েছ, অথচ তাদের মায়েরা তো তাদেরকে স্বাধীন হিসেবেই জন্ম দিয়েছে!” আলী ইবনে তালিব (রা.) তাঁর অসীয়তে বলেছেন, “অন্যের জীবনকে যাপন করো না, আল্লাহ তোমাকে স্বাধীন হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।” প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সৃষ্টির নিয়ম ও জন্মের প্রকৃতি অনুযায়ী মানুষ স্বাধীন। তাই স্বাধীনতা মানুষের অধিকার, মানুষ কারো দাস নয়।

ইসলাম এসেই স্বাধীনতাকে সমর্থন করেছে। অথচ স্পষ্ট যে, সে যুগে চিন্তা, রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম এবং অর্থনীতির দিক থেকে মানুষ পরাধীন ছিল। ইসলাম মানুষকে বিশ্বাস, চিন্তা, মতপ্রকাশ ও সুস্থ সমালোচনার অধিকার দিয়েছে। মোটকথা, মানুষ যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীনতা বা অধিকার চায়, তার সবগুলোই ইসলাম তাকে দিয়েছে।

তবে ইসলাম স্বাধীনতা দিয়েছে ব্যক্তির অধিকারের। ধর্মের পর অধর্ম ও পাপাচারের স্বাধীনতা ইসলাম দেয় নি। আজকাল যাকে ব্যক্তি স্বাধীনতা হিসেবে দাবি করা হয়, ইসলামের স্বাধীনতার স্বরূপ তেমনটা নয়। ‘ব্যক্তি স্বাধীনতা’ পরিভাষা ব্যবহারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ইচ্ছেমতো ব্যাভিচার, মদপান ও সব ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ করার সুযোগ তৈরি করা। তবে কল্যাণ ও সংশোধনের সাথে জড়িত ব্যাপারগুলোর কোনো স্বাধীনতা সেখানে নাও থাকতে পারে।

অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে, সমালোচনা করা যাবে না, যা বিশ্বাস করা হয় তা বলা যাবে না, উত্তম কাউকে বলা যাবে না, ‘তুমি ভালো কাজ করেছ’, খোঁড়াকে খোঁড়া বলা যাবে না। ব্যক্তি স্বাধীনতা রয়েছে শুধু নিজেকে নষ্ট করার মধ্যে, নিজের চরিত্র বরবাদ করার মধ্যে, নিজের চেতনাকে বিকৃত করার মধ্যে, নিজের ইবাদতকে নষ্ট করার মধ্যে, নিজের পরিবারকে ধ্বংস করার মধ্যে।

এই যদি হয় স্বাধীনতার অর্থ, তাহলে ইসলাম এমন স্বাধীনতাকে অনুমোদন করে না। কারণ এটা পাপাচারের স্বাধীনতা; অধিকারের স্বাধীনতা নয়। ইসলাম চিন্তাভাবনা, জ্ঞান, মতামত গঠন, মতপ্রকাশ, সমালোচনা, বিশ্বাস ও ধর্মের স্বাধীনতাকে অনুমোদন করে। এই স্বাধীনতাগুলোর উপরই মানবজীবন দাঁড়িয়ে আছে। যা অন্যের ক্ষতিসাধন করে না- এই আইনী শর্ত ও নীতির চুক্তিতে ইসলাম মানুষকে স্বাধীনতা দেয়।

ইসলামের সাধারণ মূলনীতি হলো, “ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও নয়, ক্ষতিগ্রস্ত করাও নয়।” আদতে এমন কোনো স্বাধীনতা কি আছে, যা নিজের বা অন্যের ক্ষতিসাধনের অনুমোদন দেয়? যদি থাকে তাহলে এমন স্বাধীনতাকে মোকাবেলা করা উচিত, শর্তাধীন করা উচিত। কারণ, যেখান থেকে অন্যের স্বাধীনতার শুরু হয়, আপনার নিজের স্বাধীনতা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। তাই এমন স্বাধীনতার কথা কেউই সমর্থন করে না, যেখানে স্বাধীনতার নামে অপরকে দমনপীড়ন বা নিষ্পেষিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

রাস্তায় সবার চলাফেরার স্বাধীনতা থাকলেও রাস্তার আদবকায়দাও তো মেনে চলতে হবে। আপনি অপরের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন না বা যানবাহনের পথ রোধ করতে পারেন না। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করতে পারেন না। লাল বাতি জ্বললে আপনাকে থেমে যেতে হবে কিংবা নির্ধারিত পথেই আপনাকে হাঁটতে হবে। এগুলোই হচ্ছে আপনার স্বাধীনতার শর্ত বা সীমারেখা। সবার কল্যাণের স্বার্থেই এই বিধিনিষেধ ঠিক করা হয়েছে।

প্রত্যেক মতাদর্শ ও ব্যবহারিক ব্যবস্থার মধ্যেই স্বাধীনতার এরূপ সীমারেখা নির্ধারিত রয়েছে। ইসলামও তাই করেছে। কেননা মানবতার জন্যে এটাই সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবস্থা।

(এ নিবন্ধটি অন ইসলাম ডটনেটে হাদিয়াহ নাম্মি জনৈকা নারীর “ইসলামে ব্যক্তির নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা প্রসঙ্গে ইসলামের অবস্থান কী?” -এ প্রশ্নের জবাবে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইসলামিক স্কলার শাইখ ইউসুফ আল-কারযাভীর উত্তরের অংশ বিশেষ।)

এমএফ/

আরও পড়ুন...
মুসলিম রাষ্ট্রে অমুসলিমদের অধিকার!

 

বিবিধ: আরও পড়ুন

আরও