এভেঞ্জার সুপারহিরো এবং দাজ্জাল

ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ | 2 0 1

এভেঞ্জার সুপারহিরো এবং দাজ্জাল

কায়সার আহমেদ ৫:০১ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০১৮

এভেঞ্জার সুপারহিরো এবং দাজ্জাল

পৃথিবীতে শয়তানী শক্তির কালো ছায়া বিরাজ করছে। চারদিকে শুধু ধ্বংস আর ধ্বংস। সাধারণ মানুষ যুলুম ও নির্যাতনের শিকার। কর্পোরেট দখলদারদের ইচ্ছামাফিক দুনিয়া নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। হত্যা, খুন, মাদকাস্ত্র, অন্যায় বেড়েই চলছে। দুনিয়ার বাহিরের শয়তানী এলিয়ান শক্তি দুনিয়াকে ধ্বংস করতে আসছে। ন্যায় শাসকের হাত থেকে চুরি করে অন্যায়কারীরা পরমাণু শক্তি বা বায়োলোজিক্যাল ওয়েপন হাতিয়ে নিয়েছে। মানুষ এখন একজন ত্রাণকর্তার অপেক্ষা করছে।

তারা স্বপ্ন দেখে কেউ তাদের হয়ে রিভেঞ্জ নিবে, এভেঞ্জ করবে। তারা এভেঞ্জারের স্বপ্ন দেখে। এর মধ্যেই আগমন করে ব্যাট ম্যান, সুপার ম্যান, আইরন ম্যান, ক্যাপ্টেন, থর, হাল্ক এর মত সুপারহিরো যারা মযলুমের পক্ষে যালিমের বিরুদ্ধে লড়াই করে, একা একাই পুরো অন্যায়কে ধ্বংস করে দেয়। পুরো মানব জাতির পক্ষ হতে এভেঞ্জ করে এই এভেঞ্জাররা। - এমনই হয় এই সব ফ্যান্টাসি, সুপারহিরো টাইপের মুভি। যার সাথে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। সবই কল্পনা। 

এসবের সাথে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই!! সত্যিই কি নেই? তাহলে খ্রিষ্টানরা সেকেন্ড কামিং ইসা আলাহিস সালামের অপেক্ষা কেন করছে? কেন তারা মিলেনিয়াম কিংডমের কল্পনা করছে? কেন ইয়াহুদিরা মাসিহা তথা দাজ্জালের আগমনের অপেক্ষা করছে দীর্ঘ দুই হাজার বছর ধরে? কেন তারা মেসিয়ানিক এইজের স্বপ্ন দেখছে? কেন হিন্দুরা সত্যযুগের কল্পনা করে? কেন কলকি অবতারের অপেক্ষা করছে? আর মুসলিম? হ্যাঁ, আমরা বাকিদের মত দুনিয়াতে কোনো জান্নাতি যুগের কল্পনা করি না আমরা মৃত্যুর পরেই জান্নাতে বিশ্বাস রাখি। কিন্তু ইমাম মাহদি ও ইসা আলাহিস সালাম তো এমনি এক চরিত্র। 

আমাদের অবচেতন মনে এই ধরনের সাইন্স ফিকশন সুপারহিরো মুভি অনেক বেশি যায়গা করে নিচ্ছে। ধর্ম সাইডে রাখলেও এমন কিছু সুপারহিরো টাইপের ধারনা আমাদের মনেও খেলা করে। তাদের সুপারহিরোতে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় থাকে, যেমন তারা সাইন্সের পুজা করে। তাই তো বিজ্ঞানের উন্নতি এবং এর মাধ্যমে অত্যাধুনিক অয়েপনস এর সাহায্যে তৈরি করা হয় আইরন ম্যানদের। আর জিনগত ভাবে বিভিন্ন ক্যামিকেলের প্রভাব বিস্তার করে ল্যাবরেটরিতে তৈরি হয় ক্যাপ্টেন, হাল্ক ইত্যাদি সুপারহিরো। সুপারহিরোরা হয় আধুনিক, বেপরোয়া, ধর্ম-কর্ম না মানা টাইপের চরিত্র। অন্যদিকে নারী সুপারহিরোরা হয় পাক্কা ফেমিনিস্ট ও ফিমেইল ফ্রিডমে বিশ্বাসীরা। 

থর। থর হল গড অডিনের পুত্র। সেও একজন গড! থরকে অডিনের স্থান নিতে হলে অর্থাৎ এসগারডের (গডদের দুনিয়ারর) কিং হতে হলে বা সিংহাসনে বসতে হলে একটি ত্যাগ দিতে হবে। ডান চোখের ত্যাগ। এই ত্যাগের ফলে সে এসগারডের কিং হয়। তার বাবা অডিনও ডান চোখে অন্ধ ছিল। এরা নাকি গড। অথচ তাদের বেশভূষা দেখেলেই শয়তান মনে হয়। স্যাটানিক টেম্পলের মূর্তির মত এদের মুখ। কপালে লম্বা দুটি শিং। মানুষের অবচেতন মনে দেখছে, একজন ডান চোখের অন্ধু গড মানুষের ত্রাণকর্তা। গড এবং বিজ্ঞানের মিশ্রনে তৈরি মিলিত এভেঞ্জারস দুনিয়াকে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে বাঁচাচ্ছে। দখলদার দাজ্জালী শক্তি কেন এমন এভেঞ্জাজারের মাঝে সাধারণ মানুষকে ডুবিয়ে রেখেছে। অবশ্যই তারা এভাবেই দাজ্জালকে আমাদের কাছে সুপারহিরো বানিয়ে উপস্থাপন করবে। তখন তাবত ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ডের মত মুসলিম তরুণ-তরুণীরাও তাকে সুপারহিরো ত্রানকর্তা লিডার অফ এভেঞ্জারস বলে মেনে নিবে। এই সব কি কোনো মহাপরিকল্পনার অংশ নয়? আসলেই চিন্তার বিষয়।

এমএফ/

 

বিবিধ: আরও পড়ুন

আরও