একটুখানি ‘ইহসান’-এর গল্প

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

একটুখানি ‘ইহসান’-এর গল্প

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৮

একটুখানি ‘ইহসান’-এর গল্প

যুবক অফিস থেকে ফিরছে। প্রচণ্ড তুষারপাত হচ্ছে। রাস্তায় যানবাহন খুব একটা নেই। এই প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও এক বৃদ্ধ ফুটপাতে বসে আছে। বিক্রির জন্য সামনে কিছু কলা রাখা। দেখে মনটা কেমন করে উঠল। বাসায় কলা আছে, তবুও এগিয়ে গেল। কাছে পৌঁছার আগেই অপরদিক থেকে আরেক যুবক এসে সব কলা দরদাম করে কিনে নিলো। কলাগুলো ব্যাগে ঢুকিয়ে হনহন করে হাঁটা দিলো। শীতের রাতে তাড়াতাড়ি ঘরে পৌঁছতে পারলেই শান্তি!

 

প্রথম যুবকের বেশ কৌতূহল হলো। ক্রেতা যুবকের পিছু পিছু গিয়ে তাকে ধরল। কুশল বিনিময় করে জানতে চাইল, আচ্ছা, আপনি কি সত্যি সত্যি ঘরের প্রয়োজনে কলাগুলো কিনেছেন?

জি না, ভাই! বৃদ্ধ মানুষটা এই শীতে ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে বসে আছে। দেখে মনটা মোচড় দিয়ে উঠল। নিতান্ত বাধ্য না হলে, এভাবে ক’টা কলা নিয়ে বসে থাকে না। তাই দরদাম না করে, হাতে যা উঠেছে, মুরুব্বির হাতে গুঁজে দিয়েছি। 

যুবক অবাক হয়ে গেল। আল্লাহতা’আলা বৃদ্ধের জন্য তার চেয়েও উত্তমজনকে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সে বড়জোর ন্যায্য দামটাই দিত হয়তো। 

আচ্ছা, বৃদ্ধের কি এমন কোনো আমল আছে, যার বরকতে আল্লাহতা’আলা দুই যুবককে পাঠিয়ে দিলেন? পরদিন থেকে আসা যাওয়ার পথে, বৃদ্ধার দিকে খেয়াল রাখতে শুরু করল। তৃতীয় দিন একটা দৃশ্যে চোখ আটকে গেল। ঝাড়ুদার রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করছে। ময়লার ভ্যানটা দাঁড় করিয়ে গেছে, কলা বিক্রেতার কাছে। ঝাড়ুদারের ছোট্ট মেয়েটাও বাবার সাথে এসেছে। গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ময়লা, ছেঁড়া একটা ফ্রক গায়ে। কলা বিক্রেতা দু’টি কলা নিয়ে কাছে গেল। মিষ্টি হাসি দিয়ে মেয়েটাকে কী বলছে, আর কলার খোসা ছাড়িয়ে টুকরা করে খাইয়ে দিচ্ছে। মেয়েটা কলা খেতে খেতে ফোকলা হাসিতে গড়িয়ে পড়ছে!

এফএস/আরপি