‘মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫

‘মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি’

মো. আহসান উল্লাহ নিপু ১:৫৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭

print
‘মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি’

দিনে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। সম্প্রতি অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে এ মাধ্যমের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে মেঘনা ব্যাংক ‘ট্যাপ এন পে’ নামে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। এ পদ্ধতিতে লেনদেন নিরাপদ। খোলা কাগজের পক্ষে মেঘনা ব্যাংক লিমিটেডের হেড অব এডিসি মো. আহসান উল্লাহ নিপুর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফরিদ আহমেদ

ট্যাপ এন পেএর সেবা কীভাবে পাবেন গ্রাহকরা?

এখানে বলে রাখি আমরা কিন্তু অন্যদের মত টেলকো (TELCO) নির্ভরশীল না। আমরা Self-Dependent| ‘ট্যাপ এন পে’ তে মোবাইল নাম্বার শুধুমাত্র এটাউন্ট নাম্বার হিসাবে কাজ করবে। বাকি সব কাজ হবে কার্ডে। এখন আসল কথায় আসি, ‘ট্যাপ এন পে’ একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে মাত্র একটি একাউন্ট খোলা যাবে। অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং এর মত এক আইডি দিয়ে একাধিক  একাউন্ট খোলার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে সঙ্গে আপনি যে আইডি দিয়ে একাউন্ট খুলছেন তা আমরা সঙ্গে সঙ্গে ভেরিফাই করে ফেলছি। কারণ আমাদের নিজস্ব ন্যাশনাল আইডি টার্মিনাল আছে। সুতরাং ভুয়া আইডি দিয়ে ‘ট্যাপ এন পে’ তে কোন একাউন্ট খোলার সুযোগ নেই। এতে করে মাদকের লেনদেন (Terrorism Finance) সহ সকল অবৈধ লেনদেন অনেকটা হ্রাস পাবে এবং মোবাইল ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হবে।

দেশের মোবাইল ব্যাংকিং সেক্টরের বর্তমান অবস্থাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

দেখুন এক কথায় বলতে গেলে বলবো দেশের মোবাইল ব্যাংকিং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি আশীর্বাদ। বিশেষ করে মূলধারার ব্যাংকিং সুবিধা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সেবা দিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্ম হলেও তরুণ প্রজন্মও এর সুফল ভোগ করছে। আমি বলবো মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সুফল ও আশীর্বাদ আরো  সুন্দর করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা। বর্তমানে যারা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে তাদের মধ্যে অনেকেই নিরাপত্তার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করতে পারেনি।

আপনাদের মেঘনা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং ট্যাপ এন পেকি শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে?

আমরা শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করতে এত সময় নিয়েছি। মেঘনা ব্যাংকের ট্যাপ এন পেতে প্রত্যেকটি লেনদেনের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। ট্যাপ এন পেতে প্রত্যেকটি লেনদেনের প্রেরক ও গ্রহীতার তথ্য আমাদের কাছে চলে আসবে। ঠিক এটিএম বুথে লেনদেনের মতই হবে আমাদের ট্যাপ এন পে। সুতরাং আমি বলবো ট্যাপ এন পেহবে ভালো মানুষের জন্য নিরাপদ মোবাইল ব্যাংকিং।

কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন? আপনারা কি এমন প্রযুক্তি এনেছেন?

দেখুন গতানুগতিক মোবাইল ব্যাংকিং এর সঙ্গে এখানে আরও Three Factor Security নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এনএফসি কার্ড (N F C Card), ওটিপি (One time password) এবং রিয়েল টাইম ইনভয়েস (Real time invoice) এই থ্রি ফ্যাক্টর সিকউরিটিগুলোই আমাদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

গ্রাহক কীভাবে এগুলোর ব্যবহার করবে? ব্যাখ্যা করবেন?

আপনি নিশ্চয় জানেন এখন যারা গতানুগতিক মোবাইল ব্যাংকিং করছে তাদের অস্ত্র হল একটি মাত্র পাসওয়ার্ড। কিন্তু আমাদের মোবাইল ব্যাংকিং এর ভিন্নতা হল, এখানে লেনদেন করতে গেলে একটি Physical Card (এটিএম কার্ডের মত) লাগবে। যে কার্ডটি আমাদের এজেন্টদের কাছে সরবরাহকৃত টার্মিনালগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। টার্মিনালে কার্ডটি টাচ করলেই একটি ওটিপি (One time password) জেনারেট হবে। সেই Password দিয়ে লেনদেনটি সম্পূর্ণ করতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে একটি Real time invoice ওই টার্মিনালটি সরবরাহ করবে।

টার্মিনালের বিষয়টা ব্যাখা করবেন?

আমরা প্রত্যেকটি এজেন্টের কাছে সকল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালানোর জন্য সব ধরনের প্রযুক্তি সরবরাহ করবো। এজন্য এগুলোকে এজেন্টের পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং টার্মিনাল বলা হবে। এরা অনেকটা ব্যাংকের ব্রাঞ্চ এর মত কাজ করবে। যেমন- টাকা জমা, উত্তোলন, সঞ্চয়সহ তার লেনদেনের বিবরণী নিতে পারবে।

ট্যাপ এন পে’-তে গ্রাহকরা কী কী সেবা পাচ্ছেন?

প্রচলিত মোবাইল ব্যাংকিয়ের চেয়ে আমরা ১০ শতাংশ কম খরচে সেবা দিচ্ছি। আমরা প্রত্যেক গ্রাহককে একটি করে এনএফসি কার্ড সরবরাহ করছি। এই কার্ডটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া ‘ট্যাপ এন পে’ তে  ক্যাশ ইন আউট, ইউটিলিটি বিলসহ সরকারি সকল ধরনের বিল পরিশোধ করা যাবে। মোবাইল রিচার্জ ও রেমিট্যান্স সংগ্রহ করা যাবে ‘ট্যাপ এন পে’।

এনএফসি কার্ডের ব্যবহার কি শুধু মোবাইল ব্যাংকিংয়েই সীমাবদ্ধ?

না। এনফসি কার্ডের ব্যবহারের পরিসর অনেক বড়। দেশের বিভিন্ন টোল প্লাজায় এ টার্মিনালটি থাকবে। এসব টার্মিনালে টাচ করলেই অটো টোল পরিশোধ হয়ে যাবে। সুতরাং এনফসি কার্ডটি দিয়ে টোল প্রদান করা যাবে। এছাড়া এ কার্ডটি দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকল ধরনের টিকেটিং, পেট্রোল পাম্পসহ বিভিন্ন শপিংমলে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করা যাবে।

ট্যাপ এন পে’-এর বর্তমান অবস্থা ও ভবিষৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলুন?

‘হাতের মুঠোয় টাকা’ এই শ্লোগান নিয়ে আমাদের মেঘনা ব্যাংকের ‘ট্যাপ এন পে’ চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে ‘ট্যাপ এন পে’ ঈর্ষণীয় সাফল্য লাভ করেছে। এখন পর্যন্ত ‘ট্যাপ এন পে’ এর মাধ্যমে আট কোটি টাকারও বেশি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। দেশজুড়ে সাড়ে সাত  হাজার এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ টার্মিনাল (এজেন্ট) বসানো হবে। এরমধ্যে ১০ হাজার টার্মিনাল আমাদের হাতে চলে এসেছে। যার মধ্যে আট হাজারের মতো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ‘ট্যাপ এন পে’ এর  জন্য সারা দেশে ডিলার ও এজেন্ট নিয়োগ করা  হচ্ছে। যাদেরকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। আমাদের প্রচেষ্টা ও কাজের এ গতি অব্যাহত থাকলে আগামী বছর দিনে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা লেনদেন হবে বলে আশা করছি।

ট্যাপ এন পে’-এর সেবা শহরকেন্দ্রিক নাকি গ্রামকেন্দ্রিক অগ্রাধিকার পাবে?

বর্তমানে দেশে ৩০ শতাংশ মানুষ ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় রয়েছে। এর অধিকাংশই শহরের। বাকি ৭০ শতাংশ মানুষই ব্যাংকিং সেবার বাইরে আছেন। এদের বসবাস গ্রাম কেন্দ্রীক। মূলত ব্যাংকিং সেবার আওতায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে আনার জন্যই মেঘনা ব্যাংকের ‘ট্যাপ এন পে’- এর আগমন। আশা করছি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে ট্যাপ এন পে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা  রাখবে। কারণ আমরা ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা বিশাল জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবা দিতে এসেছি। শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ স্বল্প খরচে এবং ব্যাংকের কোন ব্রাঞ্চ ছাড়াই তারা সকল ধরনের সেবা পাবেন।

তিনি আরো বলেন, মেঘনা ব্যাংকের ‘ট্যাপ এন পে সার্ভিস’ বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রচলিত গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জাতির অর্থনৈতিক উন্নয়নে ‘দূর হবে নিকট’, ‘অনাত্মীয় হবে আত্মীয়’, সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ও অগ্রসরের আকাঙ্খা হবে বাস্তব। ব্যাংকের একটি শাখায় যা করা যায়, এই সেবার পয়েন্টেও সব কিছু করা যাবে অনায়াসে। একটি মিনি ব্যাংক স্টেটমেন্টও পাওয়া যাবে। মোট কথা মেঘনা ব্যাংক ‘ট্যাপ এন পে’র সেবা বাংলাদেশের ব্যাংকিংখাতকে বদলে দেবে।

আপনি বলেছেন ট্যাপ এন পে’-এর মাধ্যমে সারাদেশে ক্ষুদ্র  ও মাঝারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা হবে। বিষয়টা ব্যাখ্যা করবেন?

দেখুন আমরা কেবল ব্যাংকিং সেবার বাইরের মানুষকে সেবার আওতায় এনেই ব্যাংক থেমে যাবে না। কয়েক লাখ এজেন্ট তৈরির মাধ্যমে সৃষ্টি করা হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। যাদের অধিকাংশই হবেন নারী। আমরাই তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করবো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য। আমাদের নতুন দর্শন হলো দ্বৈত উপার্জন।

 
.



আলোচিত সংবাদ