আ’লীগের সঙ্গে রাজনীতির মাঠে নামতে চাই

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আ’লীগের সঙ্গে রাজনীতির মাঠে নামতে চাই

সীমান্ত বাধন চৌধুরী ৭:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৯

আ’লীগের সঙ্গে রাজনীতির মাঠে নামতে চাই

রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক। নায়ক রিয়াজ নামেই পরিচিত। রিয়াজের সুচন্দা আর ববিতা বুজি এবং চম্পা বুবুর হাত ধরেই তার চলচ্চিত্রে আসা। তবে এখন প্রায় আট বছর হয়ে গেল রিয়াজ চলচ্চিত্র থেকে দূরে।

‘পড়েনা চোখের পলক’ খ্যাত নব্বই দশকের এই নায়ক ইদানীং পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। সম্প্রতি রাজনীতির মাঠে নামার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

তবে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনেতা থেকে নেতার খাতায় নাম না লেখালেও নানাভাবে দেশের জন্য, তার দলের জন্য নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন।

কিশোরী-তরুণীদের ক্র্যাশ, হার্টথ্রব নায়ক রিয়াজ সম্প্রতি পরিবর্তন ডটকমের একান্ত সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সীমান্ত বাধন চৌধুরী।

কীভাবে এলেন চলচ্চিত্র জগতে?

হঠাৎ করেই আসা। ববিতা বুজির হাত ধরে আর জসিম ভাইয়ের বাংলার নায়কে অভিনয়ের সূত্রে আমার চলচ্চিত্রে আসা।

ইদানীং সিনেমায় আপনাকে একেবারেই দেখা যায় না। অনিয়মিত কেন?

ইদানীং না। আমি গত আট বছর ধরে কাজ করছি না। ভালো পরিচালক, ভালো ছবি পাচ্ছি না বলেই কাজ করা হচ্ছে না।

তাহলে ব্যস্ততা কি নিয়ে?

আমার একটা বিজনেস প্রতিষ্ঠান (বিজ্ঞাপনী সংস্থা) আছে। এটা নিয়েই কাজ করছি। ব্যস্ততা এটাকে ঘিরেই।

টিভি নাটক করছেন না?

হ্যাঁ, নাটক করছি। তবে আমি খুব সিলেকটিভ স্ক্রিপ্ট পেলে কাজ করি। এই মুহূর্তে কোনো কাজ হাতে নেইনি কারণ সামনের দু’মাস অর্থাৎ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটু ব্যস্ত থাকব। এ কারণে হাতে কোনো কাজ নিচ্ছি না।

সিনেমা, নাটক, মডেল, উপস্থাপক ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে আপনার বিচরণ। কোন ক্ষেত্রে কাজ করে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন?

আসলে আমি তো ফিল্ম থেকেই সবকিছু পেয়েছি, সো আমি ফিল্মটাকেই সবার আগে প্রাধান্য দেই। এবং রিয়াজের জন্ম হয়েছে ব্যাসিক্যালি এফডিসি থেকে। কাজেই এফডিসি ঘরানার ফিল্মটা আমার কাছে সবার আগে। ওটাই আমার রুট। এছাড়া আমাকে অনেক সময় অনেক ধরনের কাজ করতে হয়, করিও। এটা নির্ভর করে ...। এখন সবাই সবকিছু করছে, আমিও চেষ্টা করি সবকিছু করতে। যে অভিনয় করছে, সে গানও গাইছে। যে গান গাইছে সে অভিনয়ও করছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করার একটা প্রচেষ্টা আর কি।

দর্শক আগের মতো সিনেমা হলমুখী নয় কেন? আপনার কি মনে হয়?

আমার কাছে যেটা মনে হয়, মানুষ ভালো সিনেমা দেখতে চায়। বাস্তবসম্মত ছবি দেখতে চায়। সেই সিনেমাটা হয়তো আমরা বানাতে পারছি না। এবং বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। মানুষ চাইলেই সারা পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় পাচ্ছে, পৃথিবীকে দেখতে পারছে। আন্তর্জাতিক ছবিগুলো চাইলেই মানুষ সাথে সাথে দেখে ফেলছে। আর আমরা আন্তর্জাতিক ছবি থেকে অনেক পিছিয়ে। আমাদের মেকিং সেই পর্যায়ে নেই। ওই পর্যায়ের ছবি যদি হয় তাহলে মানুষ বাংলাদেশের ছবি দেখতে চাইবে। সো যতদিন না তেমন ছবি হচ্ছে ...। আর ফর্মেটের ছবি আমার মনে হয় মানুষ এত দেখেছে যে এখন আর দেখার আগ্রহ পায় না।

এই যে চলচ্চিত্রের দুরবস্থার কথা বললেন। এ থেকে উত্তরণ কীভাবে সম্ভব বলে মনে করেন?

প্রথমত, এডুকেশনাল ইন্সটিটিউশন লাগবে। ফিল্ম মেকিং বা প্রত্যেকটা সেগমেন্টের ওপরে পড়াশোনার ব্যাপার আছে, জানার বিষয় আছে। একাডেমিক নলেজ ভেরি ইম্পরট্যান্ট। এরমধ্য থেকে সাউনড ডিরেক্টর বের হয়ে আসতে হবে, প্রফেশনাল পারফর্মার বের হতে হবে ইত্যাদি। এগুলো যদি আমরা পাই তাহলে সিনেমা হলের সার্বিক অবস্থা, হলের পুরনো দিনের অব্যবস্থাপনা, সেগুলোকে পাশে সরিয়ে নতুন সিনেপ্লেক্স আধুনিক সিনেমা হল তৈরি করা সম্ভব এবং কোয়ালিটি ছবি বানাতে হবে। তাহলে আমার মনে হয় উত্তরণ ঘটবে, চলচ্চিত্র জগতে একটা বিপ্লব ঘটবে।

অন্য প্রসঙ্গে আসি, আনুষ্ঠানিকভাবে আপনার রাজনীতির মাঠে নামার কথা শোনা যাচ্ছিল...

আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে নামার কথা এই মুহূর্তে ভাবছি না। আমার বিচার, বুদ্ধি, বিবেচনা দিয়ে যেটা মনে হয়েছে- শিল্পীরা সাধারণত দল-মতের ঊর্ধ্বে হয়। তারপরও শিল্পী একজন মানুষ। তারও একটা মতাদর্শ থাকতে পারে। সেই হিসেবে আমারও একটি মতাদর্শ আছে। আমি মনে করি যে, আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি, তা আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারণে পেয়েছি। এবং তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের হাল ধরে উন্নয়নের বিপ্লব সাধন করেছেন।

বিগত দশ বছরে বাংলাদেশের সকল সেক্টরে উন্নয়নের একটা বিপ্লব হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এই যে অর্জনগুলো এসেছে আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। গত ১০ বছরের বিচারে এই দলটি, আওয়ামী লীগ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশাল কাজ করেছে।

আন্তর্জাতিকভাবেও আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। এটা যে কত বড় মানবতার কাজ! এবং সে কাজের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী পুরস্কৃত হয়েছেন। তার প্রতি বিশ্বের বড় বড় লিডাররা সম্মান দেখিয়েছেন। আমি একটি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশনে গিয়ে দেখে এসেছি সেই রেসপেকট। আমি মুগ্ধ হয়েছি। সো আমি মনে করেছি, এমন একটি দলের আদর্শের সাথে আমি জড়াবো এবং জড়াতে চাই।

দেরি করছেন কেন?

আমি আমার জায়গা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমি আসলে কোনো পদ বা পোস্টের জন্য লালায়িত না। প্রতিটা মানুষের ফিলোসফি এমন হওয়া উচিত যে, দেশ আমাকে কি দিলো না দেখে আমি দেশকে কি দিলাম এটা খেয়াল  রাখা ইম্পরট্যান্ট। আমার জায়গা থেকে আমি যদি একটা গাছ লাগিয়েও কারোর অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে পারি আমি সেটাও ছাড়তে চাই না। পদ বা একদম সক্রিয় হওয়াটা এ মুহূর্তে ভাবছি না। দলের প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তার হাতকে শক্তিশালী করতে যা কিছু করার প্রয়োজন, আমি তা করতে প্রস্তুত আছি। দলমত নির্বিশেষে অসুস্থ শিল্পীদের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী যা করেছেন, এটা বিগত দিনে আমরা কোনো প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে পাই নি। সো এমন একজন মানুষকেই আমরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বারবার দেখতে চাই।

কাজের ক্ষেত্রে কোনো অতৃপ্তি আছে কি? 

চলচ্চিত্র নিয়ে তো অতৃপ্তি থাকেই। যেমন, এমন একটি ছবি আমি করতে চাই, যে ছবিটি এখনো করা হয়ে ওঠেনি। সে ধরনের একটি চরিত্র। সে সুযোগটা হয়তো ভবিষ্যতে হবে আশা করি।

পারিবারিক জীবন কেমন কাটছে?

পারিবারিক জীবনে আমি এক মেয়ের জনক। এ নিয়ে আমাদের তিনজনের ছোট সংসার। বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। মা মারা গেছেন কিছুদিন আগে। সো আমাদের তিনজনের সংসারে আমি মনে করি আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি। আমরা আলহামদুলিল্লাহ বলি প্রতিটা মুহূর্তে। আমার যারা ভক্ত, দর্শক, আমি তাদের কাছে আমাদের সুস্থতার জন্য দোয়া চাই। এবং আমরা যেন আজীবন এভাবেই থাকতে পারি, এই দোয়া চাই। পাশাপাশি আমার যারা ভক্ত এবং পরিবর্তন ডটকমের পাঠক, তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেন দীর্ঘায়ু হোন সেই দোয়া করবেন।

এইচআর

 

সাক্ষাৎকার: আরও পড়ুন

আরও