নিশ্চুপ শাজাহান সিরাজ, খোঁজ নেয় না কেউ

ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫

নিশ্চুপ শাজাহান সিরাজ, খোঁজ নেয় না কেউ

সিফাত বিনতে ওয়াহিদ ৩:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬

নিশ্চুপ শাজাহান সিরাজ, খোঁজ নেয় না কেউ

তুখোড় ছাত্রনেতা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠকারী, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা বর্ষীয়ান রাজনীতিক শাজাহান সিরাজ গুরুতর অসুস্থ। ২০১২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, সম্প্রতি তিনি হারিয়ে ফেলেছেন বাকশক্তিও। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে মেয়ে সারোয়াত সিরাজের গুলশানের বাড়িতেই অবস্থান করছেন তিনি। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিতে যাওয়া হয় সেখানে। কথা হয় তার সহধর্মিনী, এক সময়ের রাজনৈতিক সহকর্মী, সাবেক ছাত্রনেত্রী এবং বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক রাবেয়া সিরাজের সঙ্গে। একান্ত আলাপচারিতায় আদ্যোপান্ত শাজাহান সিরাজকে তুলে ধরেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

কেমন আছেন প্রবীণ এই নেতা জানতে চাইলে মলিন মুখে রাবেয়া সিরাজ জানান- মানুষের মৃত্যু হলে কিংবা হারিয়ে গেলে সেই শোক কিছু দিন পর কাটিয়ে উঠা যায়, কিন্তু চোখের সামনে একটা মানুষ দিনের পর দিন এভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে এই দৃশ্য সহ্য করা খুব কঠিন। আমি এবং আমার পরিবার সেই কঠিন সময়টাই পার করছি।

২০১২ সালে মূলত তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। অপারেশনের পর চার দফা কেমোথেরাপি দেওয়া হয় । কিছুটা সুস্থ হলে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে গুলশানের বাসাতেই বিশ্রামে ছিলেন। রাজনৈতিক কিংবা পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন না। তবে মাঝে-মধ্যে টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়ি যেতেন।

২০১৪ সালের শেষের দিকে হঠাৎ করেই নীরব হয়ে যান তিনি। নির্বাক কেবল চেয়ে থাকেন, কথা বলা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় তাকে দ্রুত ভর্তি করা হয় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে। শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে। সেখানে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মাথায় টিউমার ধরা পড়ে। কিন্তু আগে থেকেই তিনি ডায়াবেটিস- কিডনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত থাকায় মাথায় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকরা ওষুধের মাধ্যমে টিউমারটি অপসারণের পরামর্শ দেন। বেশ কিছুদিন সেখানে অবস্থানের পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ফিরে আসেন দেশে।

দেশে ফেরার পর খুব বেশিদিন ভালো থাকেননি তিনি, অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে। সেখানে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি যা খাচ্ছেন সেসবই খাদ্যনালীর পরিবর্তে তার কণ্ঠনালী দিয়ে ফুসফুসে ঢুকে যাচ্ছে। সে কারণে মুখের পরিবর্তে পেটে টিউব লাগিয়ে তরল খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা, এমনকি যতদিন তিনি বাঁচবেন ততদিন এভাবেই তাকে খাওয়াতে হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিচলিত হয়ে পড়েন প্রবীণ এই নেতার সহধর্মিনী রাবেয়া সিরাজ। তিনি টিউব না লাগিয়েই শাজাহান সিরাজকে বাসায় নিয়ে আসেন। কিন্তু সপ্তাহ দুয়েক পরই পুনরায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়লে অ্যাপোলো হাসপাতালেই তার পেটে টিউব লাগানো হয়। এরপর থেকে মুখ দিয়ে আর কোনো খাবার খাননি মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের চার খলিফার একজন শাজাহান সিরাজ।

১৯৪৩ সালে টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করা শাজাহান সিরাজ ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠে আসেন। তিনি ছিলেন ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ (নিউক্লিয়াস) এর সক্রিয় কর্মী, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা। সশস্ত্র যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স’ (বিএলএফ) বা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি স্বাধীনতার পূর্বে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন। তখন যাদের ‘চার খলিফা’ বলা হত তাদেরই একজন শাহজাহান সিরাজ ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ‘ছাত্র আন্দোলনের নিউক্লিয়াস’র পক্ষে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। স্বাধীনতার পর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ প্রতিষ্ঠা এবং জাসদের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। অন্য তিন খলিফা হলেন- আ.স.ম আব্দুর রব, আবদুল কুদ্দুস মাখন ও নূরে আলম সিদ্দিকী।

৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে বিশাল এক ছাত্র-জনসভায় বঙ্গবন্ধুর সামনে ইশতেহার পাঠ করেছিলেন শাজাহান সিরাজ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এই নেতার সে সময়ের রাজনৈতিক কর্মী এবং সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের ছাত্রলীগের তৎকালীন ভিপি রাবেয়া সিরাজ। সেদিনের স্মৃতিচারণ করে রাবেয়া সিরাজ বলেন- ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় পতাকা উত্তোলন করেন আ.স.ম আবদুর রব। সেখান থেকেই পরবর্তী দিনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠের পরিকল্পনা করা হয়। সেদিন পল্টন ময়দান লোকে লোকরণ্য হয়েছিল। যেদিকেই চোখ যায় কেবল মানুষ আর মানুষ। গাছের ডালে, ছাদে, যেখানে যেভাবে মানুষ পেরেছে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধু তখনও পৌঁছাননি কিন্তু মানুষের স্রোত আর উত্তেজনা আর ধরে রাখা যাচ্ছিল না, ফলে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ছাত্রলীগের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। চারপাশ থেকে করতালি এবং ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’সহ নানা ধরনের স্লোগানে সমাবেশ পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ইশতেহার পড়ার কিছুক্ষণ পরে বঙ্গবন্ধু সমাবেশে এসে উপস্থিত হন, উনার (বঙ্গবন্ধু) সামনে দ্বিতীয়বারের মতো আবার উনি (শাজাহান সিরাজ) ইশতেহার পাঠ করেন। এর কিছুদিন পর তো যুদ্ধই শুরু হয়ে যায়। আমার সারা জীবনের কষ্ট আমি তার সঙ্গে কিংবা আলাদাই হোক না কেন- যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। আমাদের নিউক্লিয়াসের সদস্যদের একটা রক্ত শপথ ছিল, যতদিন দেশ স্বাধীন না হবে, আমরা জীবন উৎসর্গ করতে হলে তা-ই করব কিন্তু কোনোভাবেই কেউ বিয়ে করতে পারব না। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছুদিন আগেই গোপনে আমাদের বিয়ে হয়ে যায়। আমি তখন সন্তান সম্ভবা ছিলাম, ফলে যুদ্ধে আর আমার যাওয়া হল না। যুদ্ধচলাকালীন সময়ে তিনি যেন কোনোভাবে মানসিক অস্থিরতার মধ্যে না পড়েন সে কারণে ৯ মাস তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ আমি করিনি। সে সময় বিক্রমপুরের বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে দিন কাটিয়েছি।           

ছাত্রলীগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থেকে, অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে, দেশ স্বাধীনে ভূমিকা রেখে- কেন আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছেড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেছিলেন, জানতে চাইলে তার সে সময়ের সহকর্মী রাবেয়া সিরাজ জানান- দাদা ভাইয়ের (সিরাজুল আলম খান) সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কী নিয়ে বিরোধ হয়েছিল তা আমি সঠিকভাবে বলতে পারব না। ছাত্রলীগের দুইটি ভাগ ছিল। মনি সাহেব, তোফায়েল সাহেবরা এক গ্রুপ, আর দাদাভাই (সিরাজুল আলম খান) এবং উনি (শাজাহান সিরাজ) আরেকটি গ্রুপ, যাদের নিউক্লিয়াস বলা হয়। যত দূর শুনেছি, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সিরাজুল আলম খানের মূল দ্বন্দ্ব শুরু হয় যখন স্বাধীনতার পরে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করলেন। কারণ তিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, জাতির পিতা- তাই দেশ স্বাধীনের আগে তিনি তার ছাত্রনেতা এবং অন্যান্য নেতা কর্মীদের কথা দিয়েছিলেন- তিনি সেই নেতা হয়েই থাকবেন, কোনো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বা পদ গ্রহণ করবেন না। দেশ স্বাধীনের পর তিনি যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন তাদের সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ৪ঠা জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেই মূলত গণ্ডগোল শুরু হয়। নূরে আলম সিদ্দিকী ছিলেন তখন ছাত্রলীগের সভাপতি, শাজাহান সিরাজ সাধারণ সম্পাদক। স্বাধীনতার পূর্বে থেকেই একটি বিষয়ে আমাদের মতপার্থক্য দেখা দেয়। আমরা (সিরাজুল আলম খান, শাজাহান সিরাজ) বলতাম- ‘স্বাধীন করো, স্বাধীন করো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, আর উনারা (নূর আলম সিদ্দিকী, আবদুল কুদ্দুস মাখন) চাইতেন ছয় দফা দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করতে। সেই দ্বন্দ্ব থেকেই ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে তারা জাসদ গঠন করেন।

পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের দীর্ঘদিনের সঙ্গী জানান- ১৯৯৪ সালে শাজাহান সিরাজ বিএনপিতে যোগ দেন। সে সময় সন্তানদের সঙ্গে তিনি (রাবেয়া) দেশের বাইরে অবস্থান করায়, ঠিক কী কারণে জাসদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন সে বিষয়ে তার সঠিক জানা নেই।

বিএনপিতে যোগদানের পরে শাজাহান সিরাজ পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে পুনরায় চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এলে তাকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে তিনি পাটমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে পলিথিন নিষিদ্ধ, রাজপথে তিন চাকার যানবাহন নিষিদ্ধসহ বেশ কিছু প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি। এছাড়া নিজের নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের কালিহাতীর উন্নয়ন এবং সংস্কারেও শাজাহান সিরাজের ভূমিকা অপরিসীম।

দীর্ঘ চার বছর ধরে অসুস্থ স্বামীর সেবা-শুশ্রূষা করতে করতে নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন রাবেয়া সিরাজ। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগে আক্রান্ত রাবেয়া সিরাজ নিজেও সম্প্রতি অ্যাপোলো হাসপাতালে বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মৃদু স্বরে বলেন- আমারও বয়স হয়েছে। যতটা না আমার শারীরিক সমস্যা তার চেয়েও এখন বেশি দেখা দিয়েছে ডিপ্রেশন। অসংখ্য রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা সামলাতে সামলাতে এবং দীর্ঘদিনের সংসার জীবন ও রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গীকে ২৪ ঘণ্টা এভাবে ধুঁকে ধুঁকে কষ্ট পেতে দেখে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছি।

তিনি জানান, ফুসফুসের টিউমারটি অপসারণের পরে উনি (শাজাহান সিরাজ) অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু মাথায় টিউমার ধরা পড়ার পর একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়েন। ভেঙে পড়ে তার স্বাস্থ্য। শুকিয়ে গায়ের চামড়া হাড়ের সঙ্গে লেগে গেছে। মাথায় ও মুখে কিছুদিন পর পর পানি জমে অস্বাভাবিক রকম ফুলে যায়।

এক সময়ের ব্যস্ততম এই ডাকসাইটে নেতা এখন দিনের অধিকাংশ সময়ই ব্যস্ততাহীন বিছানায় শুয়ে-ঘুমিয়ে কাটান। জেগে থাকলে মাঝে মাঝে টেলিভিশনের কাছে বসেন। একা হাঁটা-চলার শক্তি হারিয়েছেন বহুদিন, দুজনের কাঁধে ভর করে যেতে হয় বাথরুমে। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে মাথা নাড়ান। গত দুবছর ধরে কথা বলতেন অনেকটা ইশারা-ইঙ্গিতে, এখন সেটিও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

ছাত্রলীগ থেকে বাম ঘরানা হয়ে রাজনীতির জটিল অঙ্গনে উল্টো পথে হেঁটে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন শাহজাহান সিরাজ। সর্বশেষ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। একসময় তার ঢাকার ও টাঙ্গাইলের বাড়ি রাত-দিন নেতা-কর্মীদের পদচারণায় মুখরিত থাকত। সেখানে ভিড় করতেন বিভিন্ন সময়ের সহকর্মীরা। অসুস্থতার পর থেকেই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসান হয়েছে। দেশের দুই বড় দলের রাজনৈতিক নেতা ছিলেন তিনি, অংশ নিয়েছেন দেশ স্বাধীনের সংগ্রামে। জানতে চাওয়া হল অসুস্থ শাহজাহান সিরাজের খোঁজ রাখেন কী তার এক সময়ের সহকর্মীরা? এবার রাবেয়া সিরাজ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ব্যথিত কণ্ঠে বললেন- তার অসুস্থতার কথা সবাই জানেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দল বিএনপির কোনো নেতা তাকে দেখতে আসেন না। বছর দেড়েক আগে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও তোফায়েল আহমেদ সাহেব একদিন এসেছিলেন। খবর নেওয়ার মধ্যে নূর আলম সিদ্দিকী সাহেব, আ স ম আবদুর রব সাহেব নিয়মিত খোঁজ খবর রাখেন। গয়েশ্বর বাবুও খোঁজ নেন। উনাদের বাইরে আর কেউ আসেননি বা খোঁজ রাখেননি। তার যারা কর্মী ছিলেন, যাদের তিনি নেতা- সেই টাঙ্গাইলের লোকজন মাঝে মাঝে আসেন। কিন্তু কোনো বড় দলের নেতারা নয়। আমার পক্ষে তো আর কাউকে গিয়ে বলা সম্ভব নয়- আমার স্বামী অসুস্থ; এসে দেখে যান, অনেকে সেটাও করতে পারে। আমি পারি না। সবাই জানেন তিনি অসুস্থ, নতুন করে আর কাকে কী বলার আছে?

রাবেয়া সিরাজ আক্ষেপ নিয়ে হতাশ কন্ঠে বলেন- তিনবার মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন শাজাহান সিরাজ অথচ নিজের নামে কোথাও কোনো কিছু প্রতিষ্ঠা করেননি। জোট সরকারের আমলে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর কলেজের শিক্ষকরা আবদার করেছিলেন- শাজাহান সিরাজের নামে কলেজের নামকরণ করার জন্য। এরপর সরকারের কাছে আবেদনও করা হয়। এমনকি  শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমি নিজে কয়েকবার গিয়েছি। তিনিও দিব-দিচ্ছি বলে কেবল ঘুরিয়েছেন। তাই বর্তমান সরকারের কাছেও আমাদের চাওয়া-পাওয়ার আর কিছু কী আছে?

এসবিডব্লিউ/এসবি/এইচএসএম