শিল্পী ছাড়া জীবনে আর কিছুই হতে চাইনি: ফাহমিদা নবী

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ | 2 0 1

শিল্পী ছাড়া জীবনে আর কিছুই হতে চাইনি: ফাহমিদা নবী

সীমান্ত বাধন চৌধুরী ৪:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

শিল্পী ছাড়া জীবনে আর কিছুই হতে চাইনি: ফাহমিদা নবী

গানের মানুষ ফাহমিদা নবী। বাবা কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী মাহমুদুন্নবী। সঙ্গীত পরিবারে বেড়ে উঠা ফাহমিদা গান গাইতে ভালোবাসতেন ছোটবেলা থেকেই। গানকে ভালবেসে তিনি আর কোনো স্বপ্ন দেখেননি, দেখতে চাননি। ইদানিং ব্যস্ততা অনেক, তবে সবটুকু ব্যস্ততাই তার গান নিয়ে। স্টেজ শো, অ্যালবাম, রিয়েলিটি শোর পাশাপাশি রয়েছে তার ইউটিউব চ্যানেল। এসব কিছুর জন্য গান তৈরি করা, গান আর গানের নানা দিক নিয়ে  পরিবর্তন ডটকমের সাথে খোলামেলা কথা বলেছেন গুণী এই শিল্পী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সীমান্ত বাধন চৌধুরী। 

ইদানিং ব্যস্ততা কেমন?

ফাহমিদা নবী: এপ্রিল থেকে আমার সিলনের কাজটা শুরু হয়েছে। অক্টোবর পর্যন্ত এটা একনাগাড়ে চলবে। সিলনের অডিশন সিলেকশন রাউন্ডে পুরো বাংলাদেশ ঘুরতে হয়েছে। প্রোগ্রামটা গৃহিণীদের নিয়ে। সপ্তাহে চারটা পর্ব করতে হয়। ব্যস্ততা বেশ। তাছাড়া রিসেন্ট ‘মা’ নিয়ে একটা গান করেছি। যা সেপ্টেম্বরের শুরুতেই দর্শক শ্রোতা পেয়ে যাবেন। আমার নিজের ইউটিউবের জন্য এটা করেছি। আর কাউকেই গান দিচ্ছি না। ইনাফ ইজ ইনাফ। অনেক হয়েছে। এখন সবাই যার যার ইউটিউব চ্যানেলেই দিচ্ছে। মার্চ-এপ্রিলের দিকে ডেইলি স্টারের প্রোজেক্ট ‘জীবনের জয়গান’ নিয়ে কাজ করলাম। আমাদের দেশের স্থাপত্য নিয়ে ১৫টা দেশের গান করেছি। এমন সব বিষয় নিয়ে গান, সুরে আনা খুব টাফ। গানগুলো বাপ্পা সামিনা থেকে শুরু করে ইয়াং জেনারেশন ১৫ জনকে দিয়ে গাইয়েছি।

সঙ্গীত জগতে ১৯৭৯ সালে পা রেখেছেন এর আগে কি শিল্পী হওয়াটাই স্বপ্ন ছিল?   

ফাহমিদা নবী: আমি সবসময়ই গানই করতাম। জীবনে কোনোদিন আর কিছু হতে চাইনি। ইভেন গান যে একটা প্রফেশন এটাও জানতাম না। জানতাম না যে গান গেয়ে টাকা ইনকাম করা যায়। আমি গান গাব, এটাই আমার ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন।

মূলত উৎসাহটা কার থেকে পেয়েছেন?

ফাহমিদা নবী: আমার ফ্যামিলির সবাই গান গাইত। মা- বাবা, মামা, খালা সবার কাছ থেকেই উৎসাহটা পেয়েছি।

আপনার ওস্তাদ কে ছিলেন?

ফাহমিদা নবী: আমি ওয়ানে আর সোমা কেজি ওয়ানে পড়ে। আমরা তখন গান করি, তা শুনে আব্বাকে আম্মা একদিন বলল, ওরা এমনি এমনি গান গাইলে তো হবে না, ওস্তাদ রাখতে হবে। তো মোসাদ আলী নামের একজন আব্বার কাছে আসতেন। আব্বা মোসাদ চাচাকে বললেন, তুমি আমার দুই মেয়েকে একটু গান শেখাবে। ওনার কাছে শিখতে শিখতে আব্বা আজিমপুর কমিউনিটি সেন্টারে আধুনিক সঙ্গীত নিকেতন নামে একটা প্রতিষ্ঠান করলেন। ওখানে ওস্তাদ আমানুল্লাহ খান শেখাতেন। আব্বা তাকে বললেন, আমার দুই মেয়েকে আপনি বাসায় এসে একটু শেখাবেন। এভাবেই শেখাটা হয়ে গেল।

আপনার বাবা কিংবদন্তি শিল্পী মাহমুদুন্নবীর প্রভাব আপনার জীবনে কতখানি?

ফাহমিদা নবী:  সম্পূর্ণ। আমিই আমার বাবার আয়না। আমি আমার দিকে তাকালে বাবাকে দেখতে পাই। আমার চেহারাটাও বাবার মত। আম্মাও বলতেন, তোমাকে দেখলে মনে হয় মাহমুদুন্নবী দাঁড়ায় আছে। আমার আব্বা কালো ছিলেন তাই আমরাও কালো হয়েছি। দিনাজপুরে আমার নানা বাড়ি। আমার খালারা অত্যন্ত সুন্দরী। আমার আম্মাও অনেক ফর্সা, ময়দার মত। আমাদের দেখে নানা বাড়ির আশে পাশের লোকজন বলতো– “ইয়া আল্লাহ, এগুলো ঝর্ণার (আমার আম্মার নাম) বেটি! এতো কালো!”

প্রথম টেলিভিশনে গেয়েছেন কবে?

ফাহমিদা নবী:  ক্লাস সেভেনে কলকাকলি করতাম রেডিওতে। সেভেনে থাকতেই প্রথম টেলিভিশনে একটা গান করি আফজাল হোসেনের ‘আপন প্রিয় অনুষ্ঠানে’। তখনো এনলিস্টেড হইনি। এরপর ১৯৭৮-এ এনলিস্টেড হলাম। আমার প্রথম গান লাকি আকন্দের সুরে কাওসার আহমেদ চৌধুরীর লেখা। গেয়েছি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ‘চতুরঙ্গ’ অনুষ্ঠানে। এই আমার শুরু। ওস্তাদ আমানুল্লাহর কাছে তখনও শিখি। আরও শিখি ওস্তাদ জাকির হোসেনের কাছে। যিনি নিয়াজ (নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী) চাচার শ্বশুর। উনি শেখালেন। তখন খুব জোরে জোরে গান গাইতাম। চিৎকার করে করে। পাড়া মহল্লায় ফাংশন হলে শেখানে গাইতাম। আমি একটু টম বয় টাইপ ছিলাম। সবার বস। কোন ছেলে কি বলল, ভাবতাম সাইজ করতে হবে। জিন্স পরতাম। ব্যাডমিন্টন, ভলিবল খেলতাম।

আধুনিক, ক্লাসিক্যাল বাদে অন্য কোন ঘরানার গান পছন্দ করেন?

ফাহমিদা নবী: আমার কাছে সব গানই এক। তবে আমি একটু স্যাড রোম্যান্টিক গান বেশি গাই। কেউ আমাকে দিয়ে গাওয়াতে চাইলেও সব স্যাড গানই আমাকে দেয়। বেশি ফার্স্ট গান আমি কিন্তু গাইনি।

একজন উঠতি শিল্পীর প্রতি আপনার পরামর্শ কি?

ফাহমিদা নবী: শিল্পীর কাজ শুধু স্টাইল করা না। গানের কথা, সুর আত্মস্থ করতে হবে। যতদিন না ওরা এসব আত্মস্থ করতে পারবে ততদিন ওরা তারকাই রয়ে যাবে, শিল্পী হতে পারবে না। আমার মা একটা কথা বলতেন, তুমি গান গাবে শুনে দর্শক নাচবে। তুমিই যদি নেচে ফেলো তাহলে কেমন হয় ব্যাপারটা! তো এগুলোর সাথে সবার মিলবে না। যাদের বলা যায় তাদেরকে কিছু বলি। সবাইকে বলা যায় না।

এসবি

 

সাক্ষাৎকার: আরও পড়ুন

আরও