আমি অনেকের ওপর ক্রাশ খেয়েছিলাম: পড়শি

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ | 2 0 1

আমি অনেকের ওপর ক্রাশ খেয়েছিলাম: পড়শি

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:০৯ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০১৯

আমি অনেকের ওপর ক্রাশ খেয়েছিলাম: পড়শি

গান তার ভালো লাগত না। কিন্তু নাচতে তার ভালো লাগত। হতে চেয়েছিলেন নৃত্যশিল্পী। তাই গানের ওস্তাদ এলেই ফাঁকিবাজির শেষ ছিল না তার। সেই দুষ্টু, ফাঁকিবাজি মেয়েটি আজ দেশের একজন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সাবরিনা পড়শি। পড়শি নামের যিনি বেশি পরিচিত।

ক্ষুদে গানরাজের মিষ্টি কণ্ঠের সেই মিষ্টি মেয়ে কন্ঠশিল্পী পড়শী তার ব্যক্তিগত ও সঙ্গীতজীবন নিয়ে অনেক অজানা কথা আন্তরিকতার সাথে বলেছেন পরিবর্তন ডটকম-এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সীমান্ত বাঁধন চৌধুরী

গানের জগতের শুরুটা কেমন ছিল?  

আমার নানুর কাছে গানের হাতেখড়ি। গান এবং নাচ দুটোই একসাথে করতাম। নানু যখন দেখলেন গানে আমি ভাল করছি, তখন একজন ওস্তাদজীর কাছে আমাকে দিলেন। ওস্তাদ নিয়াজ মামুন স্যারের কাছেই আমার গানটা শেখা। উত্তরায় নানুর কাছে থেকেই সবকিছু শিখেছি। ক্লাস এইটের পর মায়ের কাছে যাই।

পরিবারে কার থেকে উসাহটা বেশি পেতেন? 

মেইনলি পুরো উৎসাহটা নানুর কাছ থেকে পেয়েছি, সাথে মায়েরও উৎসাহ ছিল। এখন ভাইয়া শুধু গানের উৎসাহ দেয় না, সব কিছুতেই ভাইয়া। এমন কি আমি কখন ঘুমাবো তাও ভাইয়া বলে দেন।

ভাইয়া আবার মাঝে মাঝে আমাকে বকা দেয়, কারণ আমি খুব অলস একটা মেয়ে। আমার ভোরে ওঠে নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পড়ি। কিন্তু ভাইয়া বলে, তুমি নামাজ পড়ার পর রেওয়াজ করে ঘুমাবে। কিন্তু অনেক সময় হয় না ওটা। ভাইয়া আর পাঁচ মিনিট, এই বলেই দেখা যায় ঘুমিয়ে ১০টায় ওঠেছি। তবে, যখনি ওঠি রেওয়াজটা করি।

কণ্ঠশিল্পী হওয়াই কি লক্ষ্য ছিল?

ঠিক তা নয়; আমি ড্যান্সার হতে চেয়েছিলাম। কত্থকে আমি গোল্ড মেডালিস্টও ছিলাম। সত্যি কথা বলি, গানের বিষয়টা আমার ভাল লাগার ছিল না। ওস্তাদ যখন আসতেন তখন আমি বলতাম, আজকে আমার মাথা ব্যথা, আজ পেট ব্যথা, হাত ব্যথা, পা ব্যথা- ব্যথার আর শেষ ছিল না। আমাকে জোর করে করে নানু বসাতেন গান করার জন্য। আমার গান গাওয়ার প্লেস এটাই (নানুর বাসা) ছিল। ওস্তাদজী প্রেশার দিয়ে হোম টাস্কগুলো করাতেন। এভাবেই ধীরে ধীরে গানের প্রতি ভাল লাগা বাড়তে থাকে, আর নাচ থেকে দূরে সরে যেতে থাকলাম।

নাচ, গান, অভিনয়, উপস্থাপনা সবক্ষেত্রেই পদচারণা...

অ্যাকচুয়ালি নট লাইক দ্যাট। ছোটবেলা থেকে আমার নানুর ইচ্ছে ছিল, শিল্পের সবক্ষেত্রেই আমাকে পারদর্শী করে তোলা। আমার নানু এখনো বলে যে, তুমি প্রফেশনালি যে বিষয়টাকে নিতে চাও ইটস আপ টু ইউ। আমি কখনো বলব না, তোমার এটা করা উচিত, ওটা করো।

আমাকে ফ্যামিলি থেকে কখনো বলা হয়নি, তোমাকে বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, ডাক্তার হতে হবে। ফ্যামিলি বলেছে, তুমি যা হতে চাও, নিজে ভাল থেকে সেটাই করো ডেফিনিটলি ছোটবেলা থেকে আমাকে আবৃত্তি শিখিয়েছেন নানু, গান শিখিয়েছেন নানু, নাচ শিখিয়েছেন, অঙ্কন, ডিবেটিং সব কিছুই শিখিয়েছেন নানু। তারপর বলা হলো, তুমি যে সেক্টরে যেতে চাও যেতে পারো।

এসবের মধ্যে কোন সেক্টরটা বেশি পছন্দের?

ডেফিনিটলি মিউজিক। যেহেতু গান গাই, মিউজিকটা ফার্স্ট প্রায়োরিটি বলবো, কমফোর্টেবল জোন বলবো, লাভিং একটা ব্যাপার বলবো। আরজিং, উপস্থাপনা এসবই শখের বসে করা, তবে আরজিংটা অনেকদিন ধরে করছি বলেই শখ থেকে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে বলা যায়। আর অভ্যাসে যা পরিণত হয় তাতে ভালবাসা অটোমেটিক চলেই আসে। কেউ যদি বলে গানের পরে কোনটা আমার ভালোলাগার জায়গা, আমি বলব আরজিং।

সিনেমায় অভিনয় করেছেন শোনা যায়?

এটা একটা মিস কন্সেপশন। আমি নাকি মুভি করেছি অনেকেই বলে থাকেন। হ্যাঁ, আমি একটা মুভিতে গান করেছিলাম, সেখানে আমার অ্যাপিয়ারেন্স ছিল। মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং, মিস কন্সেপশন সব মিস মিলিয়ে খিচুড়ি করে আমাকে নায়িকা বানিয়ে ফেলেছে। নো আমি নায়িকা হইনি।

নায়িকা হতে চান?

সব কিছু সবার জন্য না। কিছু ব্যাপার আছে অটোমেটিক্যালি হয়ে যায়। আর কিছু ব্যাপার শত জোর করলেও হয় না। মিউজিকটা আমার অটো হয়েছে। মিউজিকের পরে জোর করে আর নিজেকে কোথাও বসাতে চাই না। আমি একদম ইন্টারেস্টেড না। আমাকে দিয়ে এটা হবেও না।

শিল্পী পড়শিকে নিয়ে আপনি কতটুকু স্যাটিসফাইড?

গানটা আমি আসলে সবসময়ই গেয়েছি নিজের জন্য প্রথমত। এখন যারা আমার গান শুনছেন তাদের জন্য এখন গাচ্ছি। ফিফটি নিজের জন্য, ফিফটি তাদের জন্য। আমি চেয়েছি আগে গানকে ভালবাসতে। নিজে যখন ভালবাসতে পারবো, তখন ভালবাসাটা অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারব। আমাকে কেউ সেলিব্রিটি শব্দটা বললে আমি হেইট করি, আমি বিরক্ত হই। আমি কখনো সেলিব্রিটি হতে গান গাই না। গান গাই নিজের জন্য; আর যারা গান পছন্দ করেন তাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য। স্যাটিসফ্যাকশনের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, আমি এখনো নিজেকে নিয়ে স্যাটিসফাইড না। বিকজ অনেক অনেক ল্যাকিংস আছে আমার গানে। আমি আরও ইম্প্রুভমেন্ট চাই। আরও অনেক কিছু চাই গানে। যা কি না এখনো হয়ে ওঠেনি।

গান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

ভবিষ্যৎ জানি না। আল্লাহ কপালে যা রাখবেন তাই হবে। আমি আসলে প্রতিদিনের পরিকল্পনা করি। কালকের চিন্তা করি। আজ যেটা গাইছি, আগামীকাল এটা আরও কি করে নিখুঁত করা যায় সেই চেষ্টাই করে যাই। ১০/২০ বছর পরে কি হবে সে চিন্তা করি না। 

ক্রেজি ফ্যানদের কেউ আপনার প্রেমে পড়েছিল?

আই ডোন্ট নো। অনেকে ভয়েস পছন্দ করে বলেছেন, আপু আই লাভ ইউ, এটাই। প্রেম অত সোজা নয়। আই ডোন্ট হ্যাভ অ্যানি বয়ফ্রেন্ড। বিকজ আমার যে ভাই! মাশাআল্লাহ। ইটস নট পসিবল। আর ওয়ান সাইডেড লাভ? জানি না। আমি খুব স্ট্রেট ফরোয়ার্ড কথা বলি। যা ভাল লাগে না তা মুখের ওপর বলে দেই। আমার ধারণা স্ট্রেট ফরোয়ার্ড মেয়েদের প্রেমে কমই পড়ে মানুষ। তবে ফ্যানদের মধ্যে একজন হাত কেটে আমার নাম লিখে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে। ওটা ভাইয়াকে বলার পর ভাইয়া ঐ ছেলেকে বুঝিয়ে কিছু কথা লিখেছিল, অন্যান্য ফ্যানরা মনে করেছে, এটা করলে পড়শি দেখি রেসপন্স করছে। তাহলে আমরা এটা করলে পড়শি আমাদের সাথেও কমিউনিকেট করবে। সো তারা তিন চারজন হাত কেটে আমার নাম লিখে ফেলল, (হাসি)।              

তবে, আমার অনেককে ভাল লেগেছে। হাবিব ভাইয়া, হৃদয় ভাইয়া থেকে শুরু করে আমি অনেকের ওপর ক্রাশ খেয়েছিলাম (হাসি)। ওরকম ভাবে হয় নাই। আমি জানি না কেন হয় নাই। মাঝে মাঝে অন্য ফ্রেন্ডসদের যখন বয়ফ্রেন্ড দেখি, তখন আম্মুকে বলি। আম্মু বলে তোমার বয়ফ্রেন্ড নাই কেন? আমি বলি আম্মু, আমার একটা বয়ফ্রেন্ড (bf) লাগবে, এনে দাও (হাসি)। আম্মু বলে, আমি তোর জন্য বয়ফ্রেন্ড (bf)  কোথা থেকে এনে দেব? বাংলাদেশে কি ছেলে নাই? ছেলে খুঁজে দেখ না তাই পাও না। আমাদের বাসার ওপর তলায় একটা ফ্রেন্ড থাকে। ও আর আমি বিকেলে ছাদে উঠতাম, বলতাম চলো আজ আমরা বয়ফ্রেন্ড করতে ছেলে খুঁজবো। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য ডানে বাঁয়ে কোথাও ছেলে দেখি না, (হাসি)।

তাহলে পড়শির বিয়েটা প্রেমের হবে না অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ? 

যদি কপালে থাকে বিয়ে হবে। আমি বলব না যে প্রেম করেই বিয়ে করতে চাই। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ চাই না সেটাও বলব না। একজন ভাল মানুষ, তাকে বিশাল টাকার মালিক হতে হবে, সুন্দর, লম্বা, আকর্ষণীয় ইত্যাদি সব হতে হবে- নট লাইক দ্যাট। একজন ভাল মানুষ হলেই হলো। যে আমাকে বুঝবে, আমি যাকে বুঝবো, ওরকম কোন মানুষকে যদি লাইফে পাই, তাহলে প্রেমের বিয়ে হলে হতে পারে।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

পরিবর্তন ডটকম-কেও অনেক ধন্যবাদ

ছবি: ওসমান গনি

 

সাক্ষাৎকার: আরও পড়ুন

আরও