সংসারই জীবনের বড় অধ্যায়

ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৬

সংসারই জীবনের বড় অধ্যায়

সীমান্ত বাঁধন চৌধুরী ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০১৯

সংসারই জীবনের বড় অধ্যায়

ঈশিতা। পুরো নাম রুমানা রশিদ ঈশিতা। দেশের জনপ্রিয় শিল্পী। টেলিভিশনে ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানে শিশুশিল্পী হিসেবে তিনি প্রথম খ্যাতিলাভ করেন।

নতুন কুঁড়ির ঈশিতা অভিনয়ের পাশাপাশি মডেল, নাচ, গান ও পরিচালনায় সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। বিটিভির নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় ‘ফালানি’ চরিত্রে তার অসাধারণ অভিনয় এখনো দর্শক হৃদয়ে অটুট।

বড় হওয়ার পর শহীদুল হক খানের ‘তিথি’ নাটকের মুখ্য চরিত্রের মধ্যদিয়ে নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু হয় ঈশিতার। নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানে ছোট্ট কুঁড়ি আজ পরিস্ফূটিত ফুলে পরিণত হয়েছেন।

অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী, নাট্য নির্দেশক ও গায়িকার পর বেছে নিয়েছেন ব্যবসা এবং শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে। ঢাকার বনানীতে অবস্থিত বেসরকারি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেসের আওতাধীন মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষকতা করছেন ঈশিতা।

মহাখালীতে ‘হোয়াই নট’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা চালাচ্ছেন তিনি। ব্যবসা আর পরিবার নিয়ে ব্যস্ত এই অভিনেত্রী নানা বিষয়ে কথা বলেছেন পরিবর্তন ডটকমের সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সীমান্ত বাঁধন চৌধুরী।

কত বয়সে অভিনয়ে এসেছিলেন?

যখন আমি নাচ শুরু করি তখন আমার তিন বছর বয়স। আর যখন থেকে টেলিভিশনে কাজ শুরু করি তখন আমার বয়স পাঁচ। পাঁচ বছর বয়স থেকে আমি একটানা কাজ করেছি।

তখন কি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন?

প্লে গ্রুপে পড়তাম। আমি প্রথমে পড়তাম ধানমন্ডি টিউটোরিয়ালে। তারপর ওয়ান থেকে টেন পর্যন্ত হলিক্রস, এরপর ভিকারুননেসা, নর্থসাউথ।

শিল্পী হয়ে উঠার উৎসাহ পরিবারের কাছ থেকে নিশ্চয়ই?

আসলে আমার শুরুটা এমন একটা সময়ে, যখন আমার বোঝার বয়স হয়নি। সো, আমার বাবা, মা, নানি, দাদি সবারই একটা উৎসাহ ছিল, আমি নাচ করি, গান করি, অভিনয় করি। ফ্যামিলির সাপোর্ট না থাকলেতো অত ছোট বাচ্চার পক্ষে কিছু করা সম্ভব হতো না। সবার অনুপ্রেরণা ছিল।

তার মানে অভিনয় শিল্পী হবেন, এটা শুরু থেকেই পরিবারের ইচ্ছে ছিল?

শিল্পী হব। অভিনয় শিল্পী হব না নৃত্যশিল্পী হব— অমন সুনির্দিষ্ট কোনো ইচ্ছে ছিল না। সেটা প্রতিভা যেদিকে থাকবে, সেদিকেই ধাবিত হবে।

নতুন কুঁড়িতে এসেইতো পুরোপুরি শুরু করেছিলেন—

নতুন কুঁড়ির আগে থেকেই আমি টেলিভিশনে কাজ করি। নতুন কুঁড়ি হচ্ছে ১৯৮৮ এ ‘ক’ শাখা আর ‘খ’ শাখা ছিল ১৯৯১ এ। কিন্তু, আমি মূলত কাজ করি ১৯৮৬ থেকে।

অভিনয় শিল্পী, মডেল, নৃত্যশিল্পী, গান সবক্ষেত্রেই আপনার পদচারণা। কোন ক্ষেত্রটা আপনার কাছে স্বাচ্ছন্দ্যের?

ছোটবেলায় কয়েকটা মডেলিং করেছি। বড় হওয়ার পর পারসোনালি আমি ওদিকটায় আগ্রহ বোধ করিনি। বড় কেউ কণ্ঠশিল্পী হয়, অভিনয় শিল্পী হয় এমন। তো আমার আগ্রহের জায়গা ওটা ছিল না। লাক্সে মডেলিং করা তখন অনেকেরই একটা আগ্রহের জায়গা ছিল, তো আমি যখন অফার পাই, ওটা করি। তার আগে পরে অনেক অফার এসেছে কিন্তু এ বিষয়ে আমি আগ্রহী ছিলাম না। তা সে র‍্যাম্পেই হোক বা টেলিভিশনেই হোক। আর স্বাচ্ছন্দ্য বলতে আমি শিল্পের যেকোনো ধারায়ই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। শিল্পের সব কিছুর সাথেই সব কিছুর একটা যোগসূত্র আছে।

পরিচালনাও করেন শুনেছি...

পরিচালনা বলতে দীর্ঘ ১১ বছর আমি চ্যানেল আইতে কাজ করেছি। চাকরির সুবাধেই আসলে পরিচালনাটা করা। আর আমি গত চার বছর ধরে অভিনয়ও খুব কম করি। গত বছর আমার দুটো নাটক গেছে। এ বছরও দু-তিনটার বেশি নাটক যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তাহলে ব্যস্ততা কি নিয়ে?

ব্যস্ততা হচ্ছে আমার বাচ্চারা এখনো ছোট। প্লাস আমার একটা ব্যবসা আছে। আমি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে পড়াই। ওটা নিয়ে ব্যস্ততা আছে।

আগের মতো করে কি অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা আছে?

চলেতো যাইনি। আমি যখন অনেক ব্যস্ত, চারিদিকে খ্যাতি, তখনও কিন্তু অনেক কমই কাজ করতাম। ফিরে আসা চলে যাওয়ার বিষয় নেই। আমার সমসাময়িকরা যখন মাসে ৩০ দিন কাজ করতো, আমি পাঁচ কি সাত দিন কাজ করতাম। এখনও বলতে গেলে ওই রকমই কাজ করছি।

তার মানে খুব বেছে বেছে কাজ করেন?

অনেক বেছে করেছি, সেটাও বলব না। পড়াশুনা চালিয়ে নিয়ে গেছি পাশাপাশি সময়ে যেটা মিলেছে, সেভাবে কাজ করেছি। অনেক সময় অনেক পছন্দের স্ক্রিপ্ট, পছন্দের কাজও আমার করা হয়নি। সো আমি বলব, আনফরচুনেটলি ব্যাটে-বলে হয়নি তাই অনেক কাজও করা হয়নি।

এই ব্যাট-বলটা কি?

ওই যে বললাম, পড়াশুনা করেছি কন্টিনিউয়াসলি! তারপর ২২ বছর বয়সে বিয়ে করে ফেলেছি। সংসারই তো জীবনের একটি বড় অধ্যায়।

নতুনদের ভিড়ে আপনাদের মতো পুরনো গুণী শিল্পীদের এখন কম ডাকা হয়। কথাটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

আমি যদি অমন করে মেইনস্ট্রিমে থাকতাম তাহলে বুঝতাম ডাক পড়া না পড়ার বিষয়টা। আমি সচেতনভাবেই তিন বছর কাজ করিনি যখন আমার বাচ্চাটা হয়। কারণ, আমার বাচ্চাকে সময় দিতে হবে। আমি আসলে বিবিএ শেষ করার ১০ বছর পর এমবিএ করেছি। অন্যান্য ব্যস্ততাতো থাকেই। এরপর আমার কাছে যে ক’টা স্ক্রিপ্ট আসে, সব কাজ করা আসলে আমার পক্ষে সম্ভব না। কারণ, লাইফ সাইকেলের সাথে সাথে তো প্রায়োরিটি চেঞ্জ হয়। এখন আমার প্রায়োরিটিটা অন্যরকম। বাকিরা কি করছেন জানি না। অনেকে আছেন যারা তখনও নাটক করতেন এখনো নাটকই করছেন। অন্য কোনো ক্যারিয়ার তাদের নেই। তাদের ব্যাপার আর আমারটা এক না।

নতুন আর্টিস্টরা কেমন কাজ করছেন, আপনার মনে হয়?

আমার মনে হয়, এখন যারা কাজ করছেন, নির্মাতা বলেন, শিল্পী বলেন অনেক বেটার। আমরা যেগুলো ভুল করে করে শিখেছি, তারা এই গ্লোবালাইজেশনের যুগে, ইন্টারনেটের যুগে অনেক কিছু শিখেই মিডিয়ায় আসে। মিডিয়ার পজেটিভ দিকগুলো দেখতে হবে, শুধু সমালোচনা করলে চলবে না। আমরা অনুপ্রেরণা না দিলে বাইরের লোকেদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা, প্রশংসা আশা করব কিভাবে?

মনে দাগ কেটে আছে আপনার করা এমন কাজগুলোর দু’একটা জানতে চাই...

গতবছর যেটা হয়েছিল ‘পাতা ঝরার দিন’ এটা অবশ্যই একটা উল্লেখযোগ্য কাজ। তাছাড়া আব্দুল্লাহ আল মামুন আঙ্কেলের ‘বিহঙ্গ’সহ অনেকগুলো ভালো কাজ করেছি।

সময় সুযোগ পেলে আগের মতো আপনাকে মিডিয়ায় দেখা যাবে?

আমি কিন্তু এ জেনারেশনের শিল্পী না। এ জেনারেশনের শিল্পীরা এখন কাজ করছে। আমার জেনারেশনের শিল্পীরা আমার মতো তারাও কিন্তু পারিবারিক, ব্যক্তিগত বা অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে। আমার যে ব্যস্ততা থাকে, একথা চিন্তা করে বাকি সময় আমার উপস্থিতি যদি চায় কেউ, ততটুকু উপস্থিতি আমার আছে। তবে আমি যখন যে কাজটা করি, তখন চেষ্টা করি কাজটা নিষ্ঠার সাথে করার।

ব্যবসা করছেন বলছিলেন। কি ধরনের ওটা?

আমার একটা রেস্টুরেন্ট আছে মহাখালীতে। ওটার নাম ‘হোয়াই নট’। জবের পাশাপাশি ওখানেও সময় দেই।

সংসার কেমন চলছে?

সংসার ভালো চলছে। আমার সংসার অনেক দিনের। সংসারের বয়স এখন ১৬ বছর। হাজব্যান্ড প্রকৌশলী আরিফ দৌলা। আমার এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ের বয়স সাড়ে তিন, প্লে গ্রুপে পড়ে। ছেলে ক্লাস ফোরে পড়ে।

এটা প্রেমের বিয়ে ছিল?

না। পারিবারিকভাবে হয়েছে।

এসবিসি/এইচআর