আশরাফ যেভাবে হলেন ‘লাভ গুরু’ ঘটক পাখি, করিয়েছেন ১৭ হাজার বিয়ে (ভিডিও)

ঢাকা, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯ | ৯ চৈত্র ১৪২৫

আশরাফ যেভাবে হলেন ‘লাভ গুরু’ ঘটক পাখি, করিয়েছেন ১৭ হাজার বিয়ে (ভিডিও)

সীমান্ত বাঁধন চৌধুরী ৭:১০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০১৯

শুরুটা কাছের মানুষদের আবদারে। নিতান্তই শখে দু’একটা জুটির ভাগ্য এক করতেন। শখটা কখন যে নেশা হয়ে গেছে বুঝতেও পারেননি। নেশা থেকেই ঘটকালিকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বেও একনামে পরিচিত, ঘটক পাখি ভাই।

দীর্ঘ ৪৩ বছর জীবন জুটি গড়ে দিচ্ছেন তিনি। এরই জন্য এবাড়ি-ওবাড়ি করতে হতো এক সময়, পাখির মতো। এতে মা-বাবার দেয়া কাজী আশরাফ হোসেন নামটি ঢেকে গেল। সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠলেন লাভগুরু ঘটক পাখি নামে।

বরিশাল কোতোয়ালি থানা থেকে ১৯৬৯ সালে ঢাকা আসেন আশরাফ হোসেন। এরপর ১৯৭৪ সালে পুরনো ঢাকার হোটেলে এক কক্ষ ভাড়া নিয়ে ঘটকালির ব্যবসা শুরু করেন। বিয়ের জুটি মেলানোর কাজে সিদ্ধহস্ত ৭০ বছর বয়সী পাখি ভাই নিজেও জীবনে দুটি বিয়ে করেছেন। একটি মা-বাবা দিয়েছেন। অন্যটি পেশার সূত্রে জীবনে আপন করে নিয়েছেন।

দু’সংসার মিলে চার ছেলে, চার মেয়ে। এক মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। নানা পেশায় প্রতিষ্ঠিত চার ছেলে, এক মেয়েকে নিয়ে প্রথম স্ত্রী বরিশালেই থাকেন। সবারই বিয়ে-সাদি হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে পাখি ভাইয়ের এখনকার বসবাস রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকায়। ওই এলাকারই ইস্টার্নপ্লাজায় ‘ঘটক পাখি ভাই প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে চলছে তার ঘটকালি ব্যবসা।

পরিবর্তন ডটকমের সীমান্ত বাঁধন চৌধুরীর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় আশরাফ হোসেন ঘটকালি পেশা দিয়ে তার জীবনের বাঁক বদল তুলে ধরেছেন। এখন পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি জুটি মেলাতে গিয়ে অর্জিত বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা শুনিয়েছেন। অকপটে স্বীকার করেছেন, বহুবার কনের বাড়ি থেকে দৌড়ে পালাতে হয়েছে। বাসররাতে ফোন করে নববধূর সে কি কান্না, এত খরচার বিয়ে, ছেলের চুল কৈ পাখি ভাই!

এসবের বাইরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ের ঠিক কোন বয়সে বিয়ে এবং কেমন জীবনসঙ্গী বাছাই করা উচিত, সে পরামর্শও দিয়েছেন সদা হাসিখুশি আশরাফ হোসেন—

ঘটকালির মতো পেশা বেছে নেয়ার ইচ্ছেটা কিভাবে এল?

এটি নিজের ইচ্ছেয় হয়নি। ঘটকালি করার কোনো ইচ্ছা আছিল না। এইটাই আমার পেশা হবে কখনো চিন্তাও করি নাই। এক সময় চাকরি করতাম, পরিচিত ও কাছের মানুষেরা বলতো— ভাই, আমার একটা বোন আছে বা ভাই আছে অথবা বন্ধু-বান্ধব অনুরোধ করছে বিয়ে দেয়ার জন্য। অনেকটা শখের বশে খুঁজতে গিয়ে পেয়েও গেছি। পরে বিয়েটা হয়েও গেছে। পারফেক্ট জুটি। এভাবেই ক্যামনে ছড়াইয়া গেল, আশরাফের ধারে গেলে ভাল বিয়ে হয়, উনি কোনো টাকা-পয়সা নেন না। শুরুতে আমি নিজের টাকা-পয়সা খরচ কইরা দু’পক্ষের বাড়িতে যাওয়া-আসা করতাম।

প্রথম কবে শুরু করেছিলেন?

আমি বাড়ি থেকে ১৯৭৩ সালে ঢাকায় আসলাম। এর চার বছর আগেই মোটামুটি শুরু করেছি। তবে, ওইটারে শুরু বলা যায় না। মানুষ ডাকতো করে দিতাম আর কি! শুরু করেছি ঢাকা আইসা। সেই থেকে ৪৩ বছর আমি এই পেশায়।

বললেন চাকরি করতেন?

হ্যাঁ, এক সময় করতাম। আমার গ্যাসট্রিক আলসার হইছিল, তখন ছেড়ে দিলাম। তখন ঘটকালি লাইনে মোটামুটি পরিচিত হইছি। চাকরি ছাড়ার পরে মনে করলাম, দেখি না, এই লাইনে কি করা যায়? তারপর আমি ঢাকায় আসলাম। তখন মানুষেরা তাদের অফিসে ডাকতো, বাসায় ডাকতো, যাইতাম। মাইনসে কিছু টাকা-পয়সা খরচা-মরচা দিতো সাইদ্ধাই। তখনো এইটা আমার পেশা ছিল না। কিন্তু, আমার মনে হইল, এইটা যদি করি তাইলে আমি সুবিধা করতে পারব। তখন আমি পুরান ঢাকার ঢাকা হোটেলে একটা সিট ভাড়া নিলাম। লোকজনই সেখানে এসে বলতো, অমুকের একটা মেয়ে আছে, বিয়ের জন্য ছেলে খুঁজতেছে। করতে লাগলাম। করতে করতে দেখি বেশ সাড়া পাইলাম। এরপরে লোকজন বেশি আসা শুরু করল। কাউন্টারে বসাতে হতো। হোটেলের মালিকদের ডিস্টার্ব হইত। তারপর ভাবলাম এই বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেব।

বিজ্ঞাপনের বুদ্ধিটা কিভাবে মাথায় এল?

নিজের মাথা থেকেই আসছে। ভাবলাম, পত্রিকাতো দেশের সবখানেই যায়। আমি বিজ্ঞাপন দিলে আরও সবাই জানবে, ঘটকালির প্রসার হইবে।

এভাবেই পাখি ভাই বনে গেলেন...

পাখি ভাই, মানুষ আগে থেকেই ডাকতো।

পাখি কি মা-বাবার দেয়া নাম?

না না। বাবা-মায়ের দেয়া নাম কাজী আশরাফ হোসেন। এই যে এই পেশায় আইসা পাখি হলাম। নামতো আমি দেই নাই, জনগণ দিছে। যেমন: আপনি এক বাসায় গেছেন, যাইয়া দেখছেন আমারে। আবার আরেক বাসায় গেছেন সেইখানেও গিয়া দেখছেন আমারে।

পাখি যেমন ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ করে জায়গা বদল করে?

হ্যাঁ। যেমন: আপনি আমারে ওরকম দেখে ডাক দিলেন, ‘অই পাখি ভাই...’। এইভাবে মানুষ শুনতে শুনতে আমারে পাখি বানাই ফেলছে। আসলেতো আমি পাখি ছিলাম না। লাস্টে দেখলাম, সবাই যখন ডাকে, আমিও ডাকে সাড়া দিছি। এই অবস্থায় পাখি ভাই নাম ছড়াই গেল।

হোটেলে সিট ভাড়া করে শুরু, এরপর অফিস কবে নিলেন?

প্রথম অফিসই এইখানে, ইস্টার্নপ্লাজায়। ৩৩ বছর।

আজকের পাখি ভাই, নিশ্চয় এমন ছিলেন না। অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে। ঢাকায় আসার পরের গল্পগুলো যদি বলতেন...

অনেক কষ্ট করছি জীবনে। কোনো কোনো সময় হোটেলের ভাড়া দিতে পারি নাই ঠিকমত। এইসব কারণে কত হোটেল আমাকে ছাড়তে হইছে! হোটেলঅলারা বলছে, আপনি ঠিকমত ভাড়া না দিলে এইখানে থাকতে পারবেন না।

এখন পর্যন্ত অনেক মানুষকে বিয়ে দিলেনতা সংখ্যা কত হবে?

এখন পর্যন্ত ১৭ হাজারের উপরে জুটি গড়ে দিয়েছি।

আপনার বিয়েটা কে দিয়েছিলেন? নিশ্চয় ঘটক?

আমার বিয়া দুটি। একটা হইছে আমার গার্ডিয়ানের মাধ্যমে, আরেকটা আমার নিজের মাধ্যমে।

মানে পরেরটা প্রেমের বিয়ে?

প্রেম না ঠিক। আবার বলতে পারেন আর কি... (লাজুক হাসি, আমতা আমতা)।

প্রেমতো হতেই পারেএই বয়সেও পাখি ভাই যে হ্যান্ডসাম! একটিতে আটকে আছেন, সেটাইতো বিস্ময়কর!

না, ওটা এমনেই হইছে। হঠাৎ কইরাই পরিচয় হইয়া গেছে। তার দুঃখ-কষ্টের কথা বলছে, মনটা খারাপ হইয়া গেল বিয়া কইরা ফেললাম।

প্রথম বিয়ের সময় আপনার বয়স কত ছিল?

১৭/১৮ বছর হবে। মা-বাবার পছন্দের মেয়ে বিয়ে করেছি। চার ছেলে, দুই মেয়ে প্রথম ঘরে। আর শেষের ঘরে দুই মেয়ে। এক মেয়ে আল্লাহ নিয়া গেছে। আগের ঘরের ছেলে চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য করে, মেয়েদের বিয়া-সাদি হইছে সংসার করে। আগের স্ত্রী বরিশালে থাকে। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আমি ঢাকায় থাকি। যোগাযোগ আছে।

বিয়ের বিষয়ে আপনার ঘটকালি ফি কি নির্দিষ্ট?

আমি পয়সাকড়ি নেই অবস্থা বুইজ্জা। নির্দিষ্ট কোনো ফি নাই। আলোচনাসাপেক্ষে টাকা নেই। অনেকে অনেক বেশি দিছে, যা আমি আশাও করতে পারি নাই। আবার অনেকে দেয়-ই নাই। আবার অনেকে বিয়ের দাওয়াতটাও দেয় না।

বিয়ে দিতে গিয়ে লেনদেনের সময় কোনো ঝামেলা?

ঝামেলা হয় নাই। তবে অনেকে টাকা-টুকা দেয় নাই আর কি? পরিচয়টা আমার অফিসেই হয়, তারপর নিজেরা নিজেরাই বিয়ে করে ফেলে। কি করব! আমার এখানে ধরার সিস্টেম থাকলেও ঝামেলা করতে যাই নাই কখনও।

পেশাগত কাজে কোনো বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন কখনও?

অনেকে শত্রুতা করে বিপদে ফালাইতে চাইছে, পারে নাই। যেমন: ভুয়া কেস দিল আমার নামে, উনি টাকা নিছে কাজ করতে পারে নাই, টাকাটা ফেরত দেয় নাই ইত্যাদি। এগুলো শত্রুতা করে করে।

বিয়ে সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার আপনি। বিয়ের জন্য ছেলে-মেয়েদের উপযুক্ত বয়স কোনটি আপনি মনে করেন?

এই ধরেন, মেয়েদের জন্য ২১/২২। আর ছেলেদের জন্য ২৪/২৫। এই সময়ে বিয়ে করায় উত্তম।

অনেকের বিয়ের প্রতি অনাগ্রহ থাকে। চিরকুমার/চিরকুমারি জীবনকে আপনি কিভাবে দেখেন?

মানসিক-শারীরিক অসুস্থতা আছে, এজন্য অনেকে বিয়ে করেন না। আবার অনেকে অভাবের কারণে করেন না। বউ পালতে টাকা-পয়সার দরকার। অভাব আর অসুস্থতা ছাড়া চিরকুমার/চিরকুমারি থাকেন যারা, তাদের আসলে অভ্যাস ভাল না।

চিরকুমার থেকে হঠাৎ মনে হলো বিয়ে করা দরকার। এমন কেউ আসলে কি করেন?

বয়স্ক মেয়ে/ছেলে আছে না? যাদের বিয়া হয় নাই, বাবা-মা ভাল ছেলে খুঁজছে, পায় নাই। ওরকম পাত্রী/পাত্র মিলায় দেই।

ঘটক মানেই বগলে ছাতা-মুখে জর্দ্দার লাল পান। এবাড়ি-ওবাড়ি গিয়ে রব-কনেপক্ষকে বোঝানোপাখি ভাইয়ের জীবনে কি এমন ঘটেছে?

ছিল, যখন শখ করে ঘটকালি করছি। আমি এবাড়ি-ওবাড়ি গেছি টাকার লোভে না, খাওয়ার লোভে না। তখন পাত্র/পাত্রীর তেমন ছবি ছিল না। ক্যামেরা দিয়ে ছবি উঠানো হইত না, কোনো বায়োডাটা আছিল না, মুখে বুঝাইয়া যা বলতাম। তাই বাড়ি বাড়ি যাইতাম।

বিয়ে দিতে গিয়ে কি কখনও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন?

দেখা গেছে, বিয়েতে মেয়ে রাজি না। বিয়ের আসর থেকে মেয়ে পলায় গেছে এমনও ঘটেছে। তখন ঘটকের খোঁজ পড়ে। এমন অনেকবার বিপদে পড়েছি। এক বিয়ের আসর থেকে মেয়ে পলাইছে শুনে আমিও ভাইগ্যা গেছি। কারণ, আমারে ধরিয়াতো ছেঁচবে। পরে অনেক বুদ্ধিমান লোকেরা সমাধান করে যে, মেয়ে বিয়ে করবে, না এখানে ঘটকেরতো দোষ নাই। ছেলেরাও এমন আছে। যেমন: বিয়ের সময় ছেলে বাসায়ই আসে নাই। মানে তার বিয়েতে মত নাই। তখন ঘটকের বড় বিপদে পড়তে হয়।

অন্যের জন্য কনে দেখতে গিয়ে নিজেরই বড্ড ভাল লেগে গেছে, এমন কি পাখি ভাইয়ের জীবনে ঘটেছে?

মনের কথা বলা ঠিক না। একটা বড় লোকের মেয়ে উচ্চশিক্ষিত। আমি ক্ষুদ্র মানুষ, আমারতো এই আশা করা ঠিক হবে না। ঘটকালি একটি মহৎ কাজ। এখানে এসব চিন্তা না করাই ভাল।

আপনার প্রতিষ্ঠানে বিয়ের জন্য এলে কি করা লাগে?

প্রথমে লিখিতভাবে একটা চয়েজ দেবে। আমিও বলি, বিয়ের আগে এত দিতে হবে, বিয়ের পরে এত। যদি ঠিকঠাক মেলে, আমরা কাজের দায়িত্ব নেই। বায়োডাটা নেই, ছবি নেই, এরপর জানতে চাই ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার উনি কি চান? ওসব তথ্য নিয়ে ছবি ও সিভি মেলানোর কাজ করি। জন্ম তারিখ, গায়ের রঙ, উচ্চতা কে কি চায়, সেই অনুযায়ী  মেয়েদের তথ্য ছেলেদের কাছে, ছেলেদেরটা মেয়েদের কাছে পাঠাই। পছন্দ হলে আমার এখানেই দেখাদেখি করাই। এখানে কথা ফাইনাল হলে আমার দায়িত্ব শেষ। এরপর তারা পারিবারিকভাবে বিয়ের আয়োজন করেন।

পেশাগত কাজে গিয়ে মজার কোনো অভিজ্ঞতা?

অভিজ্ঞতা অনেক হইছে। দুঃখও অনেক আছে। একবার একটা কালো মেয়ের অনেক চেষ্টা করেও বিয়ে হইতেছে না। কেউ বিয়ে করে না। আল্লাহর কি রহমত, আমি একটা ছেলেরে দেখাইলাম, সে বিয়েতে রাজি হইল বিয়েও হয়ে গেল। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিয়ের দিন বিয়ে হইল না। ছেলের পক্ষের কানে কেউ  মিথ্যা কিছু বলে বিয়ে ভেঙে দেয়। দেখা গেছে, এইটা করে, ওই ছেলেই এই মেয়েকে বিয়া করতে চাইছে। ওই ছেলের কাছে মেয়ের পক্ষ বিয়া দেয় নাই, এজন্য এই শত্রুতা। আবার এমনও আছে বিয়ের আসরে ছেলেপক্ষ টাকা-পয়সা বা জিনিসপত্র চায়, আর মেয়ের পক্ষ বিয়ে ভেঙে দেয়। কারণ, যৌতুক চাওয়া এমন পরিবারে তারা মেয়ে দেবে না। আবার বিপদেও পড়তে হইছে। দেখা গেছে, মেয়েপক্ষের পাড়ার মাস্তানরা অস্ত্র ঠেকাইছে যাতে এই বিয়া আমি না দেই। কারণ, তারা এই মেয়ে পছন্দ কইরা রাখছে, সেক্ষেত্রে যেইটা করি, অপারগতার কথা বলে দেই মেয়ের গার্ডিয়ানকে।

কষ্টের স্মৃতি শুনলামমজার ঘটনাও আছে নিশ্চয়?

আমার এখানেই বিয়ে ঠিকঠাক হইল একটা। ছেলে-মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। কমিউনিটি সেন্টার থেকে তারা বউ নিয়া গেছে। বাসায় নিয়া বাসররাত করতেছে। এরই মধ্যে রাত ৩টার সময় মেয়ের বাবা আমাকে টেলিফোন করছে। আমাকে অকথ্য গালাগালি কইরা বলে, এইটা কেমন ছেলে দিছো? আমি বললাম, কি হইছে? সে বলে, মেয়ে রাইতে মাথায় হাত দিছে আর ছেলের পরচুলা খুইলা টাক বাইর হইয়া গেছে। টাক ছেলে কেন দিলা? আমি বললাম, টাক তয় আমি কি করুম! ছেলে আপনেরা দেইখা নেন নাই কেন? (হাসি)।

এসবিসি/আইএম