অনেকটা অভিমানেই চলচ্চিত্র থেকে দূরে শর্মিলী আহমেদ

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ | 2 0 1

অনেকটা অভিমানেই চলচ্চিত্র থেকে দূরে শর্মিলী আহমেদ

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:২১ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৯, ২০১৯

অনেকটা অভিমানেই চলচ্চিত্র থেকে দূরে শর্মিলী আহমেদ

অভিনয় জগতে রুচিশীল ব্যক্তিত্বের অধিকারী শর্মিলী আহমেদ। প্রায় পাঁচ দশক যাবত অসাধারণ অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে তিনি দর্শকের অজস্র শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্মান কুড়িয়েছেন। পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা।

বাংলা চলচ্চিত্রে সার্থক মায়ের  চরিত্রে যে কয়জনকে আমরা দেখতে পাই তাদেরই একজন শর্মিলী আহমেদ। বাংলা চলচ্চিত্রে এবং ছোটপর্দায় দর্শকের চোখে তিনি আদর্শ মা।

১৯৪৭ সালের ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলুড় চক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাজেদা মল্লিক। এরপর চলচ্চিত্রে নতুন নামের খাতিরে তার নাম রাখা হয় শর্মিলী। ১৯৬৮ সালে শর্মিলী প্রযোজক-পরিচালক রকিব উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। সে সময় থেকেই তিনি শর্মিলী আহমেদ নামে সবার মাঝে পরিচিত।

সম্প্রতি তার কর্মব্যস্ততা ছোটপর্দার নাটকে। কিছু দুঃখ, কিছু অভিমানে তিনি বর্তমানে তার আপন জগত চলচ্চিত্রাঙ্গন থেকে দূরে আছেন বলে পরিবর্তন ডটকমের একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান। সাক্ষাৎকার নিয়েছন সীমান্ত বাধন চৌধুরী।

অভিনয় জগতে আসার শুরুটা কেমন ছিল? 

শর্মিলী : আমি তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ১৯৬২ সালে রাজশাহী বেতারে অডিশন দিয়ে প্রথম অভিনয় করি ‘তৈমুর লং’ নাটকের নায়িকা চরিত্রে। আমার বাবা নাটকটি প্রযোজনা করেন। ১৯৬৬ সালে পরিচালক কামাল আহমেদ বাবাকে অনুরোধ করেন আমাকে তার ছবিতে অভিনয় করতে দেয়ার জন্য। চলচ্চিত্রের নাম ‘উজালা’। ঠিক একই সময়ে বাবার এক বন্ধু বজলুর রহমান ‘ঠিকানা’ ছবিতে নায়িকা হিসেবে নিতে চাইলেন। এভাবেই আসা।

শর্মিলী আহমেদ হওয়ার আগে আপনার বোধহয় আরেকটি নাম ছিলনামটা কি ছিল?

শর্মিলী : মাজেদা মল্লিক।

তাহলে শর্মিলী আহমেদ কি করে হলেন?

শর্মিলী : শর্মিলী হয়েছি ডিরেক্টর, প্রোডিউসারদের ইচ্ছায়। প্রথম ছবি যখন করি, তখন অই ছবির স্ক্রিপ্টরাইটার ছিলেন আমজাদ হোসেন। ছবিটার নাম ছিল ঠিকানা। দুর্ভাগ্যবশত ছবিটি রিলিজ হয়নি। তখনতো উর্দু ছবি হতো। আমজাদ হোসেনের লেখা এবং আমজাদ হোসেন প্রধান সহকারী পরিচালক ছিলেন। তখন উনি বললেন, এই নাম আপনার চলবে না। আপনাকে নতুন নাম দিতে হবে। আমি বললাম, নতুন নাম কি দেবো? আপনিই বলেন। তখন এস দিয়ে নাম রাখা হতো, যেমন- শবনম, শাবানা, শারমিন, শাহিদা, শর্মিলী এমন অনেকগুলো নাম ‘এস’ দিয়ে লেখা আমার সামনে দেয়া হলো। আমার এই নামটাই ভালো লাগল।  আমি বললাম, নতুন নামই যদি রাখতে হয়, তাহলে শর্মিলীই। আর আহমেদ তো আমার হাসবেন্ডের টাইটেল। সব মিলিয়ে শর্মিলী আহমেদ হয়ে গেলাম।  

  

বড়পর্দা ছোটপর্দা কোন জায়গাটা আপনার বেশি ভালোলাগার?

শর্মিলী : বড় পর্দা সবসময়ই বড় ব্যাপার। একটি সিনেমা একশত বছর থাকে, কিন্তু নাটকতো থাকে না। একবার দেখানোর পর আবার নতুন নাটক হচ্ছে। সেই নাটকটি কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। নাটক দর্শককে একবার দুবার দেখানো হয়। এ বিষয়টা একটু কষ্টের। আর সিনেমার কথা বলি, আমার বিয়ের আগের করা ছবিগুলো আমার নাতনি দেখছে। নাতনি বলে, নানু তুমি এত সুন্দর ছিলে? এতো স্লিম ছিলে? এই যে আমি আজকের শর্মিলী আহমেদ, এই প্রাপ্তিটাতো নাটক নিয়ে করা যায় না। তবে নাটক করে যাচ্ছি, আর ভালো লাগে বলেই করছি ।

এখন কি শুধুই নাটক নিয়ে ব্যস্ততা ?

শর্মিলী : অভিনয়কে ভালোবাসি, অভিনয় করে যাচ্ছি। মাধ্যম যেটাই হোক।

সিনেমা থেকে দূরে আছেন লক্ষ্য করা যায়এটা কি কোনো অভিমান থেকে?

শর্মিলী : অভিমান কিছুটা তো বটেই। সেটা আঘাত থেকে হোক আর যে কারণেই হোক, অভিমান থেকেই দূরে। আপাতত নাটক নিয়ে ব্যস্ত থাকতেই বেশি ভালো লাগছে। এখানে আমি পরিবেশ ভালো পাচ্ছি, সম্মান পাচ্ছি। নাটকে এক ঘণ্টার একটি ছোট চরিত্র, ওটা করে তৃপ্তি পাচ্ছি। ভালো চরিত্র করতে পারলে খুব ভালো লাগে। কোনো কিছুর তো অপূর্ণ হবার মতো কিছু নেই এখানে। মনোবাসনা, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সবই পাচ্ছি। সব কিছুই পূরণ হচ্ছে। অভিনয়ের প্রতি আমার যে প্রেম আছে সেটা আমি খাটাতে পারছি। সব মিলিয়ে ভালো আছি।

এত এত কাজের মাঝে কোন ধরনের চরিত্র করে বেশি তৃপ্ত হয়েছেন?

শর্মিলী : আমি এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০টি  নাটকে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। একজন আদর্শ, মমতাময়ী মা হিসেবে কাজ করেছি অনেক সিনেমায়ও। দর্শক এবং অভিনেতাদের মুখ থেকে মা ডাক শুনতে ভালো লাগে। মা না হলে এ অনুভূতি উপলব্ধি করা অসম্ভব। আমি এভাবে সবার মা হয়ে আজীবন বেঁচে থাকতে চাই।

যাবত আপনার অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা কত হবে?

শর্মিলী : তা ধরুন, বাংলা চলচ্চিত্রের সংখ্যা প্রায় ১৪০টি।   

পুরো জীবনটাই সিনেমায় নিবেদিত করেছেনআজীবন সম্মাননাও পেয়েছেনআর কোনো অপ্রাপ্তি আছে বলে মনে করেন?

শর্মিলী : যে ভালোবাসা, সম্মান আমি পেয়েছি দর্শক, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকে, এতে আমি যথেষ্ট তৃপ্ত। আমার কোনো আক্ষেপ নেই ।

সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদপরিবর্তন ডটকমের পক্ষ থেকে আপনার নীরোগ দীর্ঘায়ু কামনা করছি

শর্মিলী : কষ্ট করে আমার সাক্ষাৎকার করতে এসেছেন সেজন্য ধন্যবাদ। আপনাদের অনলাইন পোর্টাল পরিবর্তন ডটকম আরো সফলতা পাক। শুভ কামনা রইল।

এইচআর

 

সাক্ষাৎকার: আরও পড়ুন

আরও