‘আমি ওই দুঃসহ স্মৃতি ভুলিনি’ (ভিডিও)

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

‘আমি ওই দুঃসহ স্মৃতি ভুলিনি’ (ভিডিও)

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৮

আলোকের অভাব ঘটলেই ভেতরের অন্ধকারের প্রভাবে মানুষ মানুষের আতঙ্ক হয়ে ওঠে, নিপীড়ক, ধর্ষক হয়ে ওঠে। এসব লীলায় মুহূর্তে প্রমাণ হয়ে যায়, সমৃদ্ধতম এ সমাজের মানুষ অসুস্থতমও বটে। তাইতো প্রায়শই শোনা যায় ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে  যৌন হেনস্তার শিকার  হন নারীরা। শুধু নারী কেন? মেয়ে শিশুটিও যেন নিরাপদ নয়। সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিজের ঘরটিও যেন কখনো কখনো কন্যাশিশুর জন্য ভয়ের নাম, আতঙ্কের নাম। সেখানেও ঘাপটি মেরে ওঁতপেতে থাকে নিকট আপনজনরূপী নিপীড়ক, ধর্ষক।

মেয়ে শিশুটি কোথাও যেন নিরাপদ নয়। শুধু মেয়ে শিশুই নয়, দেখতে আদুরে, নাদুস-নুদুস ছেলে শিশুও বাদ যায় না। আদর-স্নেহের মোড়কে ঢেকে রাখা আদিম লালসার শিকার হতে হয় আমাদের দেবশিশুদের। শত হলেও আপনজন বলে কথা! কে খুলবে মুখ? 

সম্প্রতি মি-টু থেকে সাহস, শক্তি সঞ্চয় করে ফরিদা ইয়াসমিন নিজের শিশুবেলার এক দুঃস্বপ্নের স্মৃতি এভাবেই তুলে ধরলেন পরিবর্তন ডটকমের কাছে।      

সাক্ষাৎকার নিয়েছে পরিবর্তন ডটকমের প্রতিবেদক সীমান্ত বাঁধন চৌধুরী।  

যৌন হেনস্তা নিয়ে লিখে সাহস দেখিয়েছেন এটা লিখতে ইচ্ছে হলো কেন 

বেশ কিছুদিন যাবৎ আমি মি-টু মুভমেন্টে মেয়েদের এমন হয়রানি এবং যৌন নিপীড়নের লেখাগুলো পড়ছি। অনেকেই অনেক সাহস করে ঘটনাগুলো বলছে। মনে হলো, আমার জীবনেও এমন ঘটনা আছে। মূলত মি-টু দেখেই আমার প্রকাশের অনুপ্রেরণাটা আসে। যা কখনো কাউকে বলতে পারিনি। এমনকি মায়ের সাথেও শেয়ার করতে পারিনি। সেখানে মানুষ তার কথাগুলো বলতে পারছে। যা-ই হোক, মি-টু যতই পড়ছি, ভালো লাগছে। মেয়েদের মনে দীর্ঘদিন লালন করে রাখা কষ্টগুলো প্রকাশের এটা একটা ভালো প্ল্যাটফর্ম। 

এর আগে আপনার প্রকাশিত একটি লেখায় বলেছেন, কন্যা সন্তানদের বেড়ে উঠতে আলাদা একটা বলয় প্রয়োজন এই উপলব্ধিটা আপনার কখন এবং কীভাবে হলো?  

এটা আসলে আমার জীবনের বাস্তব অনুভূতি দিয়েই বুঝতে পেরেছি। মেয়ে হিসেবে পদে পদে যে বাধা, এটা আমি মনে করি লিঙ্গের জন্য। যেটা আমি পেয়েছি। এটা এক দিনের কোনো ঘটনার জন্য না। প্রতি পদে পদে বুঝেছি বলেই এই ফিলিংসটা আমার মধ্যে এসেছে। এখন পর্যন্ত যে জিনিসটা ফিল করি যে কন্যাশিশু এবং মেয়েদের জন্য আমাদের সামাজিক ব্যবস্থাটাই এমন। যেমন- একটা ছেলে শিশু, স্বাধীনভাবে ঘুরতে-বেড়াতে পারে, যখন খুশি বন্ধুদের সাথে খেলতে যেতে পারে, রাতে বাসায় না ফিরলেও রিস্ক নেই। কিন্তু একটা মেয়ের বিষয় তেমন নয়। যদিও এখন শুনি, ছেলে শিশুরাও নাকি যৌন হেনস্তার শিকার হয়। তারপরও একটা ছেলে যেমন স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে, কিন্তু একটা মেয়ের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব না এই সমাজ ব্যবস্থায়। এই ফিলিংস থেকে আমি মনে করি, মেয়ে শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশ এবং যৌন হেনস্তা থেকে নিরাপত্তার খাতিরে কন্যা সন্তানদের জন্য  নিজের ঘরের ভেতরেও আলাদা একটা বলয় প্রয়োজন। কারণ মেয়েরা কোথাও নিরাপদ না। 

আপনি বলতে চেয়েছেন, শিশুদের যৌন হেনস্তা হতে হয় প্রথম পরিবার থেকেই, নিকটজনের কাছে। এটা কতটুকু সত্যি বলে মনে করেন?   

ঘটে তো পরিবার থেকেই। শিশু যেহেতু বেড়ে ওঠে পরিবারে, পরিবারে তো পরিবারের সদস্যরাই থাকবে আর এটাই স্বাভাবিক। আর এর মধ্যেই এসব ঘটে থাকে খুব ক্লোজ লোকজনের দ্বারা। 

ক্লোজ বলতে কাদের বোঝাচ্ছেন? চাচা, মামা, খালু এমন?   

হ্যাঁ। চাচা, মামা, খালু, ফুফা, ভাই, দাদা যে কেউ হতে পারে। পরিবারের ভেতর থেকেই এই যে আদর নামের যে একটা অস্ত্র। এই আদরটা সবার সামনেও হতে পারে। কিন্তু কেউ বুঝবে না। শিশুটি যদি ভালো-মন্দ কিছুটা বুঝতে পারে, তবে সে-ই একমাত্র বুঝতে পারবে ওটা বাজে স্পর্শ। আমার নিজের জীবন থেকে, আমার উপলব্ধি থেকে আমি বলছি। 

আর এমন সব ঘটনার মধ্য দিয়ে একটা নেগেটিভ সাইড আমার মধ্যে এখন কাজ করে, তা হলো মানুষের প্রতি আমার অবিশ্বাস জন্মেছে। কারো বাচ্চার সাথে কোনো পরিণত মানুষ আদরের নামে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমার মনে নেতিবাচক চিন্তা এসে ভর করে। এর কারণ হলো, আমি নিজে সাফারার।           

আপনি বলছেন যে, আপনার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই এসব বুঝতে পেরেছেনতো যখন বুঝতে পেরেছেন তখন আপনার বয়স কত ছিল? 

মোটামুটি দশ বছর বয়স থেকে চিন্তা করতাম। তখন আসলে অমন করে বোঝার বয়সও না। এখন পরিণত বয়সে এসে বিষয়টা যেমনভাবে উপলব্ধি করতে পারি, তখন ও রকম ডিপলি ছিল না। একটা মেয়ে শিশু যখন বড় হতে থাকে, সে ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে নিজেকে গুটিয়ে ফেলে কেন? প্রায় প্রত্যেকটা মেয়ে ও রকম ঘরের কোনায় চলে যায়। একটা ছেলে কিন্তু সেটা করে না। ওই ফিলিংসটা মেয়েদের মধ্যে আসে বলেই ঘরের ভেতর বন্দি হয়ে যায়। আমিও দশ কিংবা এগারোতে বুঝতে পেরেছি। 

আর প্রথম যে আপনার জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন, তখন বয়স কত ছিল? 

আমার ঠিক বয়সটা মনে নেই। তবে তখন আমি এত ছোট যে, আমি  স্কুলেও ভর্তি হইনি। পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হই। তবে ঘটনাগুলো কেমন করে যেন আমার মনে আছে। আমি ওই দুঃসহ স্মৃতি ভুলিনি। যদিও একেবারে সিরিয়াস কিছু ঘটেনি। তারপরও ওই ঘিনঘিনে বিষয় ভুলবার কথা না। সেক্সচুয়াল অ্যাবিউজ সম্পর্কে কোনো সেন্স সেই বয়সে থাকার কথা না। তবে ব্যাড একটা ফিলিংস, খারাপ স্পর্শ, এটা শিশুরা বুঝতে পারে। মনে হতো, এ রকম করছে কেন লোকটা! হাত দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করছে, অদ্ভুত আচরণ করছে। এই বয়সে এসে মনে হয় যে, একটি শিশু যখন সবচেয়ে নিকটজন, খুবই কাছের কারোর দ্বারা নিগৃহীত হয়, তা একটি শিশুর মনের ভেতর এমন করে দাগ কাটে। ওটা সম্ভবত এমনি করেই মুছে যায় না। থেকে যায়। একটি বাচ্চাকে আদরের নামে ঘনিষ্ঠজনরা যে এসব করে, প্রথম স্মৃতিটা আমার সে রকমই একটা ঘটনা। 

এরপর দ্বিতীয় যে ঘটনাটা, তখন সম্ভবত আমার বয়স ছিল আট, ক্লাস ফোরে পড়ি। হিসাবটা এ কারণে মনে আছে, কারণ তখন আমার বাবা আছেন। সে একজন আউটসাইডার। আমার বাবা আমার নয় বছর বয়সে মারা গেছেন। সে ছিল আমার বাবার বন্ধু। সেকেন্ড ঘটনা। 

থার্ড হচ্ছে, আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি। তখন আমাদের কাছেরই একজন বাসায় খুব আসত। উনি এলেই আমি একটু গুটিয়ে যেতাম। অদ্ভুত একধরনের আচরণ করত। এটা খুলে বলার মতো না। এসব কথা আমি কারো সাথে শেয়ার করিনি। 

একসময় বুঝতে পারলাম, আমি একটা মেয়ে তাই এসব সমস্যা হচ্ছে এবং বড় কোনো সমস্যা ঘটার আগে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি, নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছি। আসলে বাচ্চাদের ব্যাপারে পারিবারিক শিক্ষাটা খুব জরুরি আমি মনে করি। এসব বিষয়ে পরিবার থেকে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ধারণা দেওয়া উচিত। তবে আরও আগে সচেতন হবে ছেলে-মেয়েরা। 

আমার জীবনে হয়তো আরও ভয়ংকর কোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারত। কিন্তু আমি যেহেতু নিজেকে বাঁচিয়ে চলে আসতে পেরেছি, এটা খারাপ এই উপলব্ধি থেকে। অনেক বাচ্চা এটা একটা খারাপ বিষয়, এটা বুঝতে না পেরে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। সে ক্ষেত্রে পরিবার থেকে বাচ্চাদের মাথায় এ সম্পর্কে অবশ্যই ধারণা দেওয়া উচিত। পরিবারের সাথে সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বাচ্চাদের এ বিষয়টা সচেতন করতে হবে। 

আমি আসলে খুব চঞ্চল একটা মেয়ে ছিলাম। স্বাধীনভাবে ঘুরতে পছন্দ করতাম। আমার মাকে কখনো বলে দিতে হয়নি, তুমি এটা করতে পারবে না, ওটা করতে পারবে না। আমি নিজে নিজেই বুঝে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি। আমার জীবনের এই তিনটা বাজে অনুভূতি মনে পড়লে এখনো ঘিনঘিনে লাগে। ছোটখাটো এমন আরও ঘটনা আছে। কিন্তু ততদিনে আমি সব বুঝে ফেলেছিলাম এবং সচেতন হয়ে গেছি। 

যেমন, আমিও আমার বাচ্চাটার মতো নাদুস-নুদুস ছিলাম। যে কেউ এসেই গাল টিপে ধরল, তা সে আদর করেই হোক আমার ভালো লাগত না, ওই পুরোনো আতঙ্ক থেকে।    

পরিবারের কাউকে বলেন নি তখন? 

না বলিনি। আমাদের মায়েরাও কখনো আমাদের এ বিষয়ে ধারণা দেননি। আসলে তখন মায়েরা মনে করতেন এগুলো লজ্জাজনক বিষয়। তারাও কখনো অমনভাবে আমাদের সাথে ডিসকাস করেনি, আমরাও কখনো ও ধরনের কোনো ঘটনা ফেস করলে মাকে বলতাম না। ওই ফিলিংসই আসেনি যে মাকে শেয়ার করব। আমাদের সময়ে আমরা নিজেরা নিজেরা বুঝেই নিজেদের একটা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছি। যার জন্য বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। 

তবে এখন আমার মনে হয়, যদি নিজে থেকে ওই লোকগুলোকে আমি এভোয়েড না করতাম তাহলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এখন যেমন আমরা নিজের বাচ্চার পেছনে আঠার মতো লেগে থাকি। ম্যাক্সিমাম বাবা-মা বাচ্চা স্কুলে, প্রাইভেটে সাথে করে নিয়ে যাচ্ছে, নিয়ে আসছে। একধরনের ইনসিকিউরিটি আমরা ফিল করি বাচ্চা নিয়ে। আমি আমার বাচ্চাকেও কারো কাছে সেফ মনে করি না। যদিও আমার ছেলে বাচ্চা। তারপরেও আমি মনে করি সে কোনো পুরুষের কাছেও নিরাপদ না। 

ছেলে বাচ্চা নিয়ে আপনি এত ভাবছেন কেন?   

আমার ছেলেটা যেহেতু একটু নাদুস-নুদুস। এসব ভাবনা থেকে আমার ওই স্মৃতিগুলো মনে আসে। আমি যখন খুব ছোট একটা বাচ্চা, তখন আমার জীবনের প্রথম বিষয়টা ছিল ঘুমন্ত অবস্থায়। আমি আমার ছেলেকে মামা, চাচা, দাদা, খালু, ফুফা কারো কাছে ঘুমাতে দিয়ে সেফ মনে করব না। গাড়ির ড্রাইভারের কাছেও সেফ না, কাজিনদের সাথেও বেশি মাখামাখি নয়, হাউজ টিউটর এলে দরজা আটকে পড়তে  দেই না, গানের টিচার এলেও  আমি উঁকি দিয়ে দেখি। ছোট থেকেই আমি আমার ছেলেকে বুঝিয়েছি, প্রাইভেট প্রোপার্টি কী? তুমিও ওসব কাউকে টাচ করবে না, তোমাকেও কেউ টাচ করতে পারবে না। ইভেন ওদের স্কুলটাও এসব বিষয়ে সচেতন করে টোটাল বডি নিয়ে ‘ডোন্ট টাচ এনি ওয়ান’ শেখায়। 

এখন সর্বদাই এমন একধরনের টেনশন আমার মধ্যে কাজ করে। আমি নিজে অ্যানালাইসিস করি যে, আমি কেন এমন করি। পরে ভেবে দেখি, আমি ঠিক কাজটিই করি। কারণ আমার ছেলে বাচ্চা হলেও ওর মতোই আমি নাদুস-নুদুস ছিলাম। সেক্সচুয়াল হ্যারাসমেন্ট মানে শুধু রেপ করা না। একটা বাচ্চাকে সামনে রেখে ওই সব পুরুষ পৈশাচিকতার অনেক কিছু ঘটায়। আর বদমাশপুরুষগুলো একটু মেয়েদের মতো সুন্দর আদুরে আদুরে বাচ্চাদের টার্গেট করে আমার মনে হয়। পারিপার্শ্বিক কিছু ঘটনা দেখেছি বলেই বলছি।   

আপনি বড় হবার পর অর্থাৎ কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কি এমন কোনো ঘটনার শিকার হয়েছেন? 

হলিক্রস কলেজে ম্যাক্সিমাম লেডি টিচার ছিলেন। ছেলে টিচার একজন ছিলেন। ইউনিভার্সিটি লাইফে তখন আমি ম্যারেড। স্যাররা স্নেহ করতেন, আদর করতেন। ওই স্নেহটাকেও আমার যেন মাঝে মাঝে কেমন মনে হতো। তবে কিছু ইশারা ইঙ্গিত সযত্নে এভোয়েড করতাম (হাসি)।      

আগামীতে আপনার মতো সাহস সঞ্চয় করে নারীরা জেগে উঠুক বহ্নিশিখার মত... 

এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে ঘরে ঘরে আছে। আমি বলে ফেললাম। কেউ বলতে চায় না; কারণ স্বামী কীভাবে নেবে, সাপোর্ট দেবে কি না, পরিবার থেকেই যেহেতু ঘটনা শুরু, তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের সামাজিক মর্যাদা, পারিবারিক সম্মানের কথা চিন্তা করে, সোসাইটির কথা চিন্তা করে মেয়েরা বলে না। অথবা পরিবার জানলেও ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে। শিশুর মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে অপরাধীকে শাসন করা হয়, সে পরবর্তীতে অন্য একটা বাচ্চার সাথে এ কাজ করার কিন্তু সাহস পাবে না। পরিবার ঘটনা জানলেও চিন্তা করে পরিবারের সম্মান, একধরনের লজ্জাবোধ তাদের আড়াল করে রাখে। এখানে একটা মেয়ে শিশুর অপরাধটা কী! মেয়ে হয়ে জন্মানোই কি তার বড় অপরাধ? 

কেউ অন্যায় করে যাবে, আর বলতে পারব না এটা কেন! ইভেন আমি যখন এ-বিষয়ক লেখাটা ফেসবুকে প্রথম দিই, তখন আমার অনেক প্রগতিশীল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী সহপাঠীরাও লেখাটায় সংকোচে লাইক দেয়নি, কমেন্ট তো দূরের কথা। একটা ছবি দিলে ওরা লাইক কমেন্ট দিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। অথচ আগামী শিশুদের জন্য এক বাসযোগ্য পৃথিবীর স্বপ্ন নিয়ে শিশুদের বাবা-মার সচেতনতার জন্যই নিজের দুঃসহ বাস্তবকে তুলে ধরেছিলাম। আর যেন একটি শিশুর জীবনেও এমন দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াতে না হয়। 

আপনার সাহসী উদ্যোগের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধা পরিবর্তন ডটকমের পক্ষ থেকে 

আপনাকে এবং পরিবর্তন ডটকমকেও ধন্যবাদ। 

এএসটি/