‘হঠাৎ সক্রিয়’ আসম রব ‘ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী’র ব্যাখ্যা দিলেন যেভাবে

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

‘হঠাৎ সক্রিয়’ আসম রব ‘ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী’র ব্যাখ্যা দিলেন যেভাবে

সীমান্ত বাঁধন চৌধুরী ৩:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮

‘হঠাৎ সক্রিয়’ আসম রব ‘ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী’র ব্যাখ্যা দিলেন যেভাবে

আ স ম আব্দুর রব জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এর নেতা। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদান সর্বজন স্বীকৃত। মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর কাণ্ডারিদের অন্যতম। নির্বাচন এলেই তার বিরুদ্ধে ‘সক্রিয় হয়ে ওঠা’র অভিযোগ ওঠে। রাজনীতির অঙ্গনে তার দলকে তো অনেকে উপহাস করে ‘উচ্ছিষ্টভোগীও’ বলে থাকেন। জেএসডির সেই নেতা আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ইভিএম পদ্ধতি এবং জাতীয় ঐক্য ইত্যাদি নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তিনি তুলে ধরেছেন পরিবর্তন ডটকমের কাছে।

কেমন নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলবেন ?

সরকারের প্রভাবমুক্ত হয়ে জনগণ অবাধে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে এটাই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। আমার ভোট আমি দেবো-এটাই নির্বাচনের ভিত্তি।

অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন কিভাবে সম্ভব ?

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকার, কোনো শক্তি বা কোনো মহল দ্বারা প্রভাবিত নয় ও ভোটাধিকার প্রয়োগে নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করলেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন  ‘ঐক্যজোটের অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে এ ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া ক?

গণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতায় যাওয়াই হচ্ছে সাংবিধানিক পন্থা-এটা সবার সংবিধানিক অধিকার। বিদ্যমান সরকার কোনো আন্দোলন দেখলেই এটা ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত বলে আখ্যায়িত করে। এসব মন্তব্য পাকিস্তানি মানসিকতা।

জাতীয় ঐক্য দেশের রাজনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে?

জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হলে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন, কাঠামোগত সংস্কার করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আপনারা জাতির ক্রান্তিলগ্নের কথা বলছেনএখানে কোন বিষয়টাকে বেশি প্রাধান্য দেবেন?

আমাদের যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক ঘোষণায় বলছে-

১.    আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণার আগেই বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে এবং নির্বাচনকালীন সরকারে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না।

২.    অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক মাধ্যম ও সভা-সমিতির স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।

৩.    ‘কোটা সংস্কার’ ও ‘নিরাপদ সড়ক’ আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত সকল মিথ্যা মামলাসমূহ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে ও মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার না যাবে না।

৪.    নির্বাচনের ০১(এক) মাস আগে থেকে নির্বাচনের পর ১০(দশ) দিন পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইন-শৃংখলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত করতে হবে।

৫.    নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা ও পরিকল্পনা বন্ধ করতে হবে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর যুযোপযোগী সংশোধনের মাধ্যমে গণমুখী করতে হবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচন এলেই আপনারা সক্রিয় হয়ে উঠেন-  এমন অভিযোগ রয়েছে। আপনি ক বলবেন?

রাজনীতি হচ্ছে চলমান প্রক্রিয়া-সকল সময়ই রাজনীতিতে বসবাস করতে হয়।

আপনারা ইভিএম পদ্ধতির বিরোধিতা করছেন কেন? আপনার কি মনে হয় ইভিএম চালু হলে ভোট পদ্ধতি নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়বে?

ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলের সাথে সমঝোতা হলে-সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হলেই ইভিএম ব্যবহার হবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির লক্ষ্য কী?

উচ্চকক্ষ গঠন, বাংলাদেশে ৮/৯ টি প্রদেশসহ জেএসডি ১০ দফা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় আপনাদের বলেন, ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী। বঙ্গবন্ধুর কন্যার এমন মন্তব্য কিভাবে দেখেন?

প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনাবোধ থেকে এসব বলেন, সুতরাং কিছু না বলাই সম্মানজনক।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে বের হয়ে লোকজন আপনাদের সঙ্গে যোগ দেবে না? যোগ দিতে চাইলে আপনারা নেবেন?

অবশ্যই আমাদের রাজনৈতিক ঘোষণার সাথে একমত হলে স্বাগতম জানাবো। স্বাধীনতাবিরোধী ছাড়া সকলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তুলতে হবে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরে কেন আপনাদের জেএসডিকে জনগণ  আস্থায় নেবে?

জাসদ বা জেএসডি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহনকারী স্বাধীন দেশের প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল। শতকরা ১০০% মুক্তিযোদ্ধার দল। সুতরাং জনগণ আস্থায় নিবে আনন্দ সহকারে।

সরকার যদি আপনাদের কার্যক্রমে বাধা দেয়, সেটা কিভাবে মোকাবেলা করবেন এবং সেই শক্তি আপনাদের আছে?

এদেশের জনগণের আইয়ুব খান-ইয়াহিয়া খানকে মোকাবেলা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

আপনারা নির্বাচনে বিজয়ী হলে সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন?

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক, তারপর সরকার গঠনের প্রশ্ন আসবে।

মাঠের রাজনীতিতে আপনাদের সাংগঠনিক ভীত নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তোলা হয়। এই অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে মাঠের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীনদের মোকাবিলা করবেন

সঠিক রাজনীতি আর সঠিক সময়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে অনেক কিছুই মোকাবেলা করা সম্ভব।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জেএসডির পক্ষ থেকে কী বার্তা দিবেন?

আমাদের বার্তা হচ্ছে, ‘আসছে পরিবর্তনের নতুন দিন-জাতীয় ঐক্যে যোগ দিন’। 

এএসটি/