নিপীড়িত তরুণেরাই নির্বাচনের ফ্যাক্টর

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

নিপীড়িত তরুণেরাই নির্বাচনের ফ্যাক্টর

মাহমুদুল হাসান ১:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮

নিপীড়িত তরুণেরাই নির্বাচনের ফ্যাক্টর

নাজিম উদ্দিন আলম। ভোলা-৪ আসন থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। আন্তর্জাতিকবিয়ষক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন ডাকসুর নির্বাচিত এজিএস।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। নাজিম উদ্দিন আলমের দল বিএনপি এখনো এই নির্বাচন ঘিরে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দাবির ঘুরপাকেই বন্দি।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের সাফ কথা, নির্বাচনকালীন সরকার হবে সংবিধান মেনে। সেই সরকারের প্রধান হবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। অক্টোবরেই এই সরকার গঠন করা হবে।

এমন প্রেক্ষাপটে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে কিনা সেটিই প্রশ্ন। এই প্রশ্ন ছাড়াও সমসাময়িক রাজনীতি, ভোট ঘিরে রাজনীতির বাঁক, হামলা-মামলা উপেক্ষা করে আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে পরিবর্তন ডটকমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন নাজিম উদ্দিন আলম।

বিএনপির এই পষ্ট করেন, তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এজন্য যা করা লাগে, তার জন্য নেতাকর্মীরা প্রস্তুতও রয়েছেন। সঙ্গে ফের ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন ঠেকাতেও প্রস্তুত বিএনপি, ‘এবার আর ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন দেশে হতে দেয়া হবে না। গতবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিহত করা হবে। এজন্য সমমনা সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ চলছে।’

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনেও ডাকসুর সাবেক এই এজিএসের কণ্ঠে আক্ষেপ, ‘ছাত্রসমাজ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে সে সময়ে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠন হয়েছিল। আমরা সবাই গণতন্ত্র রক্ষার শপথ নিয়েছিলাম, সফলও হয়েছিলাম। কিন্তু, বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও নেই গণতন্ত্রের চর্চা। শিক্ষকরা দলবাজ। ছাত্রদল ক্যাম্পাসে যেতে পারে না, হলে থাকতে পারে না। এমনকি পরীক্ষাতেও অংশ নিতে দেয় না।’

তবুও নাজিম উদ্দিন আলম বিশ্বাস করেন, যদি এদেশে কিছু সম্ভব হয়, তা ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমই হবে। ছাত্ররাই আন্দোলনের মাধ্যমে পারে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে, ‘ছাত্ররাই সব সময় অনিয়মের প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু, সরকার এটি বুঝতে পেরেছে বলেই কোথাও তাদের স্পেস দিচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলকে থাকতে দিচ্ছে না।’

এক্ষেত্রে তিনি কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন দমনের উদাহরণ দেন, ‘সরকারের এত দমন-পীড়নের মধ্যেও আগামী দিনে তরুণেরাই নির্বাচনে পার্থক্য গড়ে দিবেন। তারাই ডিসাইডিং ফ্যাক্টর। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিবেশ এমন নাও থাকতে পারে। তখন প্রশাসন হয়তো এতটা দলবাজি করবে না। এজন্য আমাদের আহ্বান, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে ছাত্ররা এগিয়ে আসুক, সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করুক।’

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা নেই বিএনপির। নাজিম উদ্দিন আলমের ভাষ্যে, ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার অধীনে নির্বাচন হয়েছিল। আওয়ামী লীগ কী তাতে আস্থা রেখেছিল? ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল তারা। তাহলে তারা কেন বোকার মতো আমাদের আস্থা চান। শেখ হাসিনা এবং তার অনুগত নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিন্দুমাত্র আস্থা রাখার সুযোগ নেই। খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে যা ঘটেছে, তাতে গোটা জাতি স্তম্ভিত।

এরপরও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রস্তুতি বিষয়ে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘বিএনপি গণমানুষের দল। যে কোনো সময়, যে কোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। পরিবেশ পেলে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি ঘোষণায় যথেষ্ট।’

নিজের মনোনয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ধানের শীষ প্রতীকে তিনবার সংসদ সদস্য হয়েছি। দলীয় মনোনয় নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই। দল অবশ্যই আমাকে মনোনয়ন দেবে। এসব ভাবনা-চিন্তার আগে আমাদের একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত, নেত্রীকে মুক্ত করা। তারপর নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার প্রসঙ্গ আসবে।’

এমএইচ/আইএম