নেত্রীর দেয়া মানদণ্ড পূরণ করেছি

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

নেত্রীর দেয়া মানদণ্ড পূরণ করেছি

সালাহ উদ্দিন জসিম ১২:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

নেত্রীর দেয়া মানদণ্ড পূরণ করেছি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এখানে এবারো দেখা যাবে একঝাঁক নতুন মুখ। সেভাবেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেকে নিজেকে প্রস্তুত করছেন।

তাদেরই একজন এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। তিনি ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি। পরিবর্তন ডটকমকে নিজের নির্বাচন প্রস্তুতি ছাড়াও সমসাময়িক রাজনীতি প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

বাগেরহাটের এই নেতার দাবি, জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পাবার জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার যে মানদণ্ড (ক্রাইটেরিয়া), তা পূরণ করেছেন তিনি।

কথা প্রসঙ্গে সোহাগ বলেন, নেত্রী সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করতে বলেছেন। আমাকেও বলেছেন। সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। তিনি সংসদ সদস্য মনোনয়ন দেয়ার জন্য কিছু মানদণ্ড (ক্রাইটেরিয়া) দিয়েছেন। যেমন: এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে, সরকারের উন্নয়ন প্রচার করতে হবে, দলীয় এমপির বিরুদ্ধাচারণ করা যাবে না, গ্রুপিং করা যাবে না ইত্যাদি। সে আলোকে আমি আমার এলাকায় জনসংযোগ করছি। বিভিন্ন ইস্যু ও দিবসভিত্তিক এলাকার জনগণকে সম্পৃক্ত করে অনুষ্ঠান করছি। আশা করছি, ভালো সংবাদই পাব।

এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগের জন্ম বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার কালিকাবাড়ী গ্রামে। ছাত্রলীগের সভাপতির পর বর্তমানে তিনি বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য।

এবার জন্মস্থান বাগেরহাট-৪ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন সোহাগ। ব্যক্তিগত জীবনে এক কন্যাসন্তানের এই জনক উপজেলার বলইবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও দৈবজ্ঞহাটি সলিমাবাদ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

সোহাগের রাজনীতির হাতেখড়ি বাবা আবু তালিব হাওলাদারের হাত ধরে। তিনি আবার বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর শেখ আব্দুল আজিজের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯৭ সালে সলিমাবাদ কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মনোনীত হন সোহাগ। ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আর ২০০৬ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ‘শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক’ মনোনীত হন, এরপর ২০১১ সালের ১১ জুলাই কেন্দ্রীয় সম্মেলনে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

মনোনয়ন পাবার বিষয়ে আশাবাদী সোহাগ বলেন, আমার আসনে মূলত লড়াই হবে জামায়াতের সঙ্গে। বর্তমান আওয়ামী লীগের এমপি অশীতিপর। বিগত নির্বাচনেই তিনি পরাজয়ের শঙ্কায় ছিলেন। আমি এলাকার মানুষদের সংগঠিত করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করেছি। এবার প্রতিক্রিয়াশীল বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দেবেন বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, নেত্রীতো যাচ্ছেতাইভাবে নমিনেশন দেন না। তিনি বিভিন্ন রিপোর্ট ও এলাকার জনপ্রিয়তা দেখেন। তৃণমূলের বক্তব্যও শোনেন। এসব দেখলে এখানে আমার বিকল্প নাই। কারণ, আমি নেত্রীর দেয়া সব কাজই করে যাচ্ছি। এলাকার আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনকে সংগঠিত করেছি। এখন নেত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। তিনি ছাত্রলীগের মতো বড় সংগঠনের দায়িত্ব যেমন আমাকে দিয়েছিলেন, আশা করছি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমার উপর আস্থা রাখবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে সোহাগ বলেন, নির্বাচন ঘিরে কিছুটা দলীয় কোন্দল থাকবেই। তবে নমিনেশন দেয়ার পর এ কোন্দল আর থাকবে না। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করবেন।

মোড়লগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৪৪ জন।

এসইউজে/আইএম