অযোগ্য লোকগুলোর প্রাধান্য সবখানে: চঞ্চল চৌধুরী

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫

অযোগ্য লোকগুলোর প্রাধান্য সবখানে: চঞ্চল চৌধুরী

সীমান্ত বাঁধন চৌধুরী ২:৩৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০১৮

অযোগ্য লোকগুলোর প্রাধান্য সবখানে: চঞ্চল চৌধুরী

চঞ্চল চৌধুরী— জনপ্রিয় অভিনেতা। শুরুটা ১৯৯৬ সালে আরণ্যক নাট্যদল দিয়ে। দশ বছর মঞ্চে কাটিয়ে টেলিভিশনে। একের পর এক বিজ্ঞাপনচিত্র, নাটক, চলচ্চিত্রে ভিন্নমাত্রার অভিনয়শৈলি দিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।

মঞ্চ, নাটক ও চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী কথা বলেছেন পরিবর্তন ডটকমের সাথে। ছবি তুলেছেন সুমন্ত চক্রবর্তী।

কেমন আছেন ?

চঞ্চল চৌধুরীঃ সব কিছু মিলিয়ে ভাল আছি । আসলে সবসময় তো আর ভাল থাকার পরিস্থিতি থাকে না, তাও মুখে বলতে হয় ভাল আছি । মানুষ কেমন আছি জিজ্ঞেস করলে খারাপ আছি বলে না কেউ।   ভাল আছিই বলতে হয় । এটা একটা মুখস্ত বুলির মতো । ধরুন, হাসপাতালের বেডে চরম খারাপ অবস্থায় রোগী  মৃত্যুর সাথে লড়ছে, তাকেও মানুষ গিয়ে জিজ্ঞেস করে কেমন আছেন ?

অভিনয়ের শুরুতে আপনি আরণ্যকে ছিলেন সম্ভবত...

চঞ্চল চৌধুরীঃ আরণ্যকে ছিলাম , এখনো আছি কিন্তু রেগুলার প্রোডাকশন করা হয়না।

মঞ্চ কবে থেকে শুরু  করেছিলেন?

চঞ্চল চৌধুরীঃ  আমি ১৯৯৬ সালের শেষের দিক থেকে মঞ্চে কাজ শুরু করেছিলাম।

মঞ্চে অভিনয় করেন না এখন?

চঞ্চল চৌধুরীঃ  লাস্ট দুই বছর অনিয়মিত । এই দুবছরে এক/দুইটা শো করেছি। কারণ গ্রুপের শো বা নতুন প্রোডাকশন যে সিস্টেমে ফেলে ওভাবে এডজাস্ট করাটা হয়ে উঠেনা। যে কারণে নতুন প্রোডাকশনে কাজ করা হয় না। আর এখন পুরান প্রোডাকশনগুলি খুব বেশী হয় না। একটা প্রোডাকশনই হয় ‘রাঢ়াং’। সেটার সাবষ্টিটিউট হয়ে গেছে অলরেডি। মাঝখানে সিনেমা-টিনেমার কারণে গ্যাপ পড়লো।

শিল্পীরা কি মঞ্চে আগের মতো সময় দিচ্ছেন?

চঞ্চল চৌধুরীঃ এখন সারা পৃথিবী অনেক দ্রুত এগোচ্ছে। সবকিছু এতো ফাস্ট যে ধৈর্য ধরে কেউ সময় দেবে, সেটা যেন কারোর হাতে নেই। সবাই যেন নগদ প্রত্যাশী।  আসছি মানে আমার হাতে কিছু নিয়ে যেতে হবে। বিশ বছর আগের কাহিনি, যখন মঞ্চে কাজ শুরু করি— তখন কিন্তু আমাদের সমাজ, রাষ্ট্ররাজনৈতিক অবস্থা এমন ছিল না। একটু হলেও ধৈর্য তখন ছিল।

আমাদের জেনারেশনই বোধ হয় লাস্ট জেনারেশন যারা ৮/১০ বছর মঞ্চের পাশে বসে থেকে থেকে শেখার চেষ্টা করেছি, থিতু হবার চেষ্টা করেছি। এখনকার জেনারেশনের হাতে থ্রীজি ফোরজি মোবাইল। অনেক ফাস্ট, চাপ দিলেই গুগলে সারা পৃথিবীকে দেখতে পাচ্ছে। ওরা মনে হয় তাই মনে করছে চাপ দিলে বোধহয় শিল্প  আয়ত্তে চলে আসবে। কিন্তু ব্যাপারটা তা না। সাধ্য সাধনার জন্য যে সময়টা দেয়া দরকার তা এখন তারা দিতে পারছে না।

মঞ্চ, টিভিচলচ্চিত্র তিনটি যায়গায় কাজ করছেন। কোনটায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

চঞ্চল চৌধুরীঃ আমি সবখানেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তবে মঞ্চের জন্য আলাদা একধরনের দুর্বলতা আছে, ভাল লাগা আছে। মঞ্চটা তো শুরু অভিনয় শেখার জায়গা। সামনাসামনি দর্শকের সামনে অভিনয় করা তাদের রিঅ্যাকশন পাওয়া অন্যরকম ব্যাপার।

বলছিলেন মঞ্চ হচ্ছে আপনার দুর্বলতার জায়গা। আর অন্যান্য ক্ষেত্রে?

চঞ্চল চৌধুরীঃ সবগুলোই ভাল লাগার। প্রতিটা ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা কারণ থাকে, আমি সেটাই বলেছি। তিনটা জায়গার প্রতি ভালবাসা আছে—কোনটাই কম না। তবে মঞ্চের প্রতি কৃতজ্ঞতাটা বেশী। কারণ এখান থেকে তো  আমার শেখার শুরু।

টেলিভিশনকে মনে হয় ঘরের একদম ড্রইংরুম মিডিয়া। আমার যারা দর্শক, আমাকে যখন দেখে তখন তাদের এক্সপ্রেশন, যেন তারা ঘরের মানুষ হিসেবে চেনে। এই প্রকাশটা ভাল লাগে। আর টেলিভিশনে অভিনয় এখন আমার পেশা। এটাই আমাদের আয় রোজগারের প্রথম এবং প্রধান জায়গা। ফিল্মটা তো আল্টিমেট টার্গেট সবার। ভাল চলচ্চিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছে সবার থাকে।

টিভি নাটকে আপনার করা সেরা কাজ কোনটিকে মনে করেন, কোন বিবেচনায়?

চঞ্চল চৌধুরীঃ নিজেরটা নিজে সেরা বলা যায়না। এটাতো বিচার করে দর্শক।

তারপরও কোনটাতে আপনি অভিনয়কে মনের মতো তুলে ধরতে পেরেছেন?

চঞ্চল চৌধুরীঃ শিল্পীর তো আসলে শেষ বলতে কিছু নাই, মানে ক্ষুধার শেষ নাই। যতটুকু করেছি আরো কত কী করার ইচ্ছে আছে। বাকী কী করতে পারব জানিনা। সেটাতো ভবিষ্যৎ বলে দেবে। আমি এখন পর্যন্ত কয় হাজার নাটকে কাজ করেছি তা আমার নিজের ও হিসাব নাই। ধারাবাহিক সিঙ্গেল তারপর টেলিফিল্ম সবকিছু মিলিয়ে এই মূহূর্তে তাৎক্ষনিক ভাবে মনে করা কঠিন। তবে একটা নাটকের কথা আমি সব সময়ই বলি সেটা হচ্ছে  ‘ফিরে পাওয়া ঠিকানা’ নামে একটা নাটক ছিল মুক্তিযুদ্ধের উপর। ওটা বৃন্দাবন দার লেখা আর সৈয়দ শাকিলের ডিরেকশন ছিল।

‘ফিরে পাওয়া ঠিকানা’ পর বলবো ‘সার্ভিস হোল্ডার’। এটিতে আমার থেকে বৃন্দাবন’দা আর শাহনাজ খুশির অভিনয় ভালো লেগেছে।

দর্শকের বড় একটা অংশ বাংলাদেশের নাটক-চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেঅভিযোগ, আপনি কি একমত?

চঞ্চল চৌধুরীঃ একটা সময় ছিলো আমাদের সিনেমার স্বর্ণযুগ। সে সময় আমাদের মৌলিক গল্প, বাংলাদেশের গল্প, এই মাটির গল্প নিয়ে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ছবি তৈরী হতো। আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, গ্রামবাংলাকে উপজীব্য করে  সিনেমা হতো। তখন অনেক মেধাবী ডিরেক্টররা ছিলেন, ভালো স্টোরি রাইটার ছিলেন। অধিকাংশ সিনেমাই ছিলো সাদা-কালোতে।

এরপর একটা সময় আমাদের সিনেমায় অনেক খড়া গেছে। কারণ ছিলো বিদেশি  গল্পকে নকল করে  নির্দিষ্ট একধরনের ফরমেটে কাজ। এখনো কিছু ক্ষেত্রে সেই ধারাবাহিকতা আছে। আমাদের মূল যেই চলচ্চিত্রের জায়গাটা আমরা বলি— এফডিসি কেন্দ্রিক যে ছবিগুলো, সেখানে আসলে একটা সময়ে ভালো ভালো ছবি হতো। সেখানে এ নকলের কারণে একটা খড়া গেছে।

‘মনপুরা’ অথবা ‘আয়নাবাজি’ বা ‘রুপকথার গল্প’-এ আমি কাজ করেছি। রেগুলার যে ছবিগুলোতে যা প্র্যাকটিস হয় তা থেকে এগুলো ভিন্ন ধরনের।  তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, যে জায়গা যে যোগ্য মানুষের  হাতে থাকার কথা তারা সেখানে নেই। সেই সুযোগগুলো কমে গেছে। অযোগ্য লোকগুলোর প্রাধান্য সবখানে। সেটা টেলিভিশন সিনেমা যেখানেই বলি না কেন। মানে মেধাবী মানুষের যে কাজগুলো করা উচিৎ তাদের সুযোগ কম।

মেধাহীন বা অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা যখন ঢুকে এই জায়গাগুলো নষ্ট হচ্ছে। তবে খারাপের পাশাপাশি ভাল নাটক-সিনেমাও হচ্ছে এবং এটা চলতেই থাকবে। এমন না যে খারাপ এসে ভালটা কে একেবারে দখল করে নেবে বা ভাল কাজ একদম বন্ধ হয়ে যাবে। আমার বিশ্বাস তা কখনোই হবে না। কখনো কখনো ভালর পরিমানটা বাড়ে অথবা কমে এই আর কী!

টিভি চ্যানেল গুলো দর্শকদের জোর করে হাসানোর চেষ্টা করছে, কিভাবে দেখেন?

চঞ্চল চৌধুরীঃ পুরোপুরি সত্য না হলেও অনেকটাই সত্য। ও ধরনের নাটক থেকে  মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু ভাল নাটকগুলো দর্শক দেখে। এখনো দর্শক দেখে বলেই আমরা এখনো বেঁচে আছি, কাজ করি এবং বহাল তবিয়তেই কাজ করছি। এই যে বললাম ভালো আর খারাপ পাশাপাশি। ভাল কাজ দর্শক ঠিকই বেছে নেয়।

যেটা বললেন ভাঁড়ামি করা, ওটা ব্যবসায়িক টার্মে ইউজ করা হয়েছে। এটা মিসএন্টারপ্রেট করা হয়েছে, ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নাটকের তো নিজস্ব একটা সংজ্ঞা আছে। নাটক কেমন হবে? এতে জীবন ঘনিষ্ঠ গল্প থাকা দরকার। আমরা বলছি বিনোদন আর বিনোদনের মানে এই না যে দর্শক কে জোর করে হাসাতে হবে। এখন ব্যবসায়িক কারণে দর্শককে সহজে পিক করার জন্য যা খুশী তা করে হাসির মাধ্যমে নাটক করা হচ্ছে। আসলে ব্যাপারটা তা না, আমরা যারা শুরু করে ছিলাম, সাধনা করেছিলাম নাটকের জন্য। আমাদের কিছু ভাবনা, কিছু চিন্তা, কিছু দর্শন ছিল। এখন যারা কাজ করছে ম্যাক্সিমামই এই জায়গার উপযুক্ত না। কিন্তু তারা করে ফেলছে। একটা নাটক বা সিনেমা দেখে দর্শক হাসবে কাঁদবে, মনের মধ্যে একটা অনুভূতির সৃষ্টি হবে সেটাই হচ্ছে কাজ। সেটা এখানে হচ্ছে না। চ্যানেলগুলো প্রচার করে দিচ্ছে। দর্শক হাসির নাটক দেখতে চায় এবং সবাই কে হাসির নাটক বানাতে হবে। এটা যারা পারে তারাও বানাচ্ছে, যারা পারেনা তারাও বানাচ্ছে। তবে যারা পারেনা তাদের সংখ্যাই বেশি। এই কারনেই ভাঁড়ামির কথা আসছে। অযোগ্য লোকেরা সহজে একটা কাজকে যেভাবে নানা কলাকৌশলে নিজের হাতে বন্দী করতে পারে একজন সৎ মানুষ এখানে আগাতে পারবেনা। কারণ সে কম্প্রোমাইজ করতে পারে না। কিন্তু অসৎ লোকেরা কম্প্রোমাইজ করে করে অনেক শীর্ষে চলে যাচ্ছে। তবে ফাইনালি সৎ-অসৎ এর বিচারটা হয়ে যায়। এক সময় দর্শকই সেই বিচার করে।

একজন তুমুল জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী হিসেবে নতুনদের কি পরামর্শ দেবেন?

চঞ্চল চৌধুরীঃ অভিনয়, গান, নাচ এগুলো শিল্পকলার একেকটা মাধ্যম। এটাকে আমরা অনেকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। তো নতুন যারা আসবেন তাদের কাছে একটাই অনুরোধ, যে তাদের যেন কাজটা নিয়ে ভাবনা থাকে। কোয়ালিটি কাজ হতে হবে। কাজটুকু করার জন্য যে যোগ্যতার দরকার তা তাদের অর্জন করতে হবে। প্রিপারেশন নিয়ে আসতে হবে। নতুন যারা আসছে তাদের বেশিরভাগ কাজের ক্ষেত্রে কোন ডেডিকেশন নাই, নিজেকে তৈরি করা নাই।

আমি অভিনয় করছি ২২ বছর চলছে। প্রথম দিকে তো আমি অভিনয় করি নাই। আমি ১০ বছর মঞ্চের রিহার্সাল রুমের পেছন লাইনে বসে শুধু সিনিয়রদের অভিনয় দেখেছি, শেখার চেষ্টা করেছি। ১০ বছর পর যখন টুকটাক কাজ শুরু করেছি তখন হয়তো যে ডিরেক্টর আমাকে নিয়ে কাজ করছেন তিনি হয়তো ভাবলেন আমাকে দিয়ে কিছু হচ্ছে। এভাবেই আস্তে আস্তে সুযোগ এসেছে। এখন হয়তো একটা অবস্থানে আছি। আর এখন হচ্ছে শেখার জন্য কেউ সময় দিতে চায় না। এটা আমাদের একটা বেসিক ক্রাইসিস যে কোন ক্ষেত্রে। আর শিল্প মানেই হচ্ছে সাধনা। আবার বছরের পর বছর সাধনা করলেই যে হয়ে যাবে এমন না। তার মেধা ও থাকতে হবে। সেটার চর্চা করে তবেই একটা কিছু অর্জন করতে হবে। এখন আর সেই সাধনা সাধনার জায়গায় নাই।

আপনারা যারা প্রতিষ্ঠিত তারা বাদে অন্য শিল্পীদের কি অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেয়ার অবস্থা আছে?

চঞ্চল চৌধুরীঃ অনেক অনেক ভাল অভিনয় শিল্পী আছেন যারা এটাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন নাই। আমি মনে করি এটা তাদের প্রফেশনাল আচরণের অভাব। ধরুন আমি ভাল একজন শিল্পী কিন্তু ব্যক্তি জীবনের কোন শৃংখলা নাই। সেটে সময় মতো যাই না, সময় জ্ঞান নাই। যখন খুশি গেলাম, যখন খুশি এলাম। এটাকে প্রফেশন হিসেবে নিলে তো অনেক কিছু মেনটেইন করতে হবে। কমিটমেন্ট থাকতে হবে। টাইমসেন্স, ডেডিকেশন থাকতে হবে। অনেকে পারছেনা তার অবশ্যই কোন না কোন গ্যাপ আছে। গ্যাপটা তাকে নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে। আজ পর্যন্ত কোন ডিরেক্টর বলতে পারবেনা আমি ১০ মিনিট দেরি করেছি বা আমার দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আবার মিডিয়ার গ্যাপের কারণেও এটা হতে পারে। মানে যারা শিল্পী না তারাও এসে যাচ্ছে। কিভাবে? সে রাস্তা গুলোর কথা আমি না-ই বলি। একজন ডিরেক্টর ভাল শিল্পীর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম জানা কাউকে নিয়ে নিচ্ছেন। নানা কারণে নানা ভাবে কম জানা অথবা কাজ না জানা লোকটি ঢুকে পড়ছে। অথচ যোগ্য লোকটির জায়গা হচ্ছে না।

এক্ষেত্রে চ্যানেল গুলোর দায়িত্ব কতটা ?

চঞ্চল চৌধুরীঃ অবশ্যই গুরু দায়িত্ব। যখন নাটক গুলো দেখে অর্থাৎ প্রিভিউ করে, সেই নাটকটি কোন মানের হয়েছে এবং প্রচার যোগ্য কিনা এটা চ্যানেল চাইলেই করতে পারে। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে ভাল নাটক ভাল বাজেট পাচ্ছে না এবং প্রচার হচ্ছে না। আবার অনেক খারাপ নাটক, কোয়ালিটি লেস নাটক প্রচার হচ্ছে।

এটা কেন হচ্ছে?

চঞ্চল চৌধুরীঃ এর সাথে অনেক বিজনেস জড়িত আছে। এই অরাজকতা  শুধু যে শিল্পে তা না। এই যে বললাম অযোগ্য লোকের আধিক্য এবং প্রত্যেকটা জায়গায় তাদের দখলদারিত্ব। তা রাজনীতিতে, শিক্ষায়, শিল্পে, চিকিৎসায়, সর্বত্র চলছে অযোগ্য লোকের জয়জয়কার।

ভাল গান গেয়ে থাকেন। কোথাও তালিম নিয়েছেন? অনেকে আপনাকে বাংলার ভূপেন বলে

চঞ্চল চৌধুরীঃ কোথাও শিখিনি। এটা গড গিফটেড। আজ আমি চঞ্চল চৌধুরী ভাল অভিনেতা হয়েছি বলে ভূপেন বলে। আড়ালে আবডালে অনেক ভাল গান গায় এমন মানুষ আছে।

কোন বিষয়টা দেখে আপনি সাধারণত একটা নাটকে কাজ করতে সম্মত হন?

চঞ্চল চৌধুরীঃ আমি প্রথমে দেখি পান্ডুলিপি এবং চরিত্রটা। সাথে আর কারা সহশিল্পী আছে তা দেখার পর ডিরেক্টর দেখি। এখন অনেক ডিরেক্টর আছে যারা নামেই ডিরেক্টর, তারা দেখা যায় ক্যামেরাম্যান নির্ভর অথবা সহকারী নির্ভর। ক্যামেরাম্যান ফ্রেম ধরে ধরে কাজ করছে, সহকারী কাজটা বুঝে তার করছে। নামটা ফুটে গেল ডিরেক্টরের।

সিনেমার ক্ষেত্রে টোটাল টিমটাই আমি দেখি। নাটকে তো এতো  কিছু দেখার সুযোগ নাই। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ডিসিশন দিয়ে দিতে হয়। এই যে সামনে ঈদ আসছে প্রতিদিন ৫০/১০০  ফোন শুরু হয়েছে ডেট দেন। এখন তাদের স্ক্রীপ্ট নেবো, পড়ব, হাতে কিন্তু অতো সময় নেই। তবে সেক্ষেত্রে অনেক তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যাদের সাথে আগে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাদেরটা প্রায়োরিটি বেসিসে হয়তো করা হয়।

বর্তমানে কী কী কাজ হাতে আছে?

চঞ্চল চৌধুরীঃ সিরিয়াল করি। চারটা অন এয়ার হচ্ছে—‘মজনু একজন পাগল নহে’ বৃন্দাবন দা’র লেখা। মাসুদ সেজানের ‘ডুগডুগি’ যা এনটিভিতে যাচ্ছে। একুশে টিভিতে ‘বিদেশী পাড়া’, এশিয়ান টিভিতে ‘ডাক্তারপাড়া’। এর বাইরে আরো ৩/৪ টা সিরিয়ালের দুই এক লট করে শুটিং  করা আছে যেগুলো এক- দুই মাসের মধ্যে অন এয়ার হবে। এছাড়া ঈদের নাটক করছি।

এসবিসি/এজেডএস/