নিলামে ১২ কোটি টাকায় বিক্রির পর ‘নিজেই ধ্বংস’

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫

নিলামে ১২ কোটি টাকায় বিক্রির পর ‘নিজেই ধ্বংস’

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৬, ২০১৮

নিলামে ১২ কোটি টাকায় বিক্রির পর ‘নিজেই ধ্বংস’

স্টান্টবাজির জন্য বিখ্যাত ব্রিটিশ শিল্পী ব্যাঙ্কসির এটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় চমক শিল্প দুনিয়ার জন্য।

শুক্রবার লন্ডনের নিলাম প্রতিষ্ঠান সদাবি বিক্রির জন্য হাজির করে ব্যাঙ্কসির বিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘গার্ল উইথ বেলুন’। পেইন্টিংটি ১.৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১২ কোটি টাকায় বিক্রি হয়ে যাবার ঠিক পর পর সেটি নিলাম ঘরে উপস্থিত সবার সামনে ফ্রেমের ভিতর থেকে কুচি কুচি হয়ে হয়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করে।
অর্ধেকটা ছবি ছেঁড়া অবস্থায় ফ্রেমের বাইরে ঝুলতে থাকে। স্তম্ভিত হয়ে দেখা আর ছাড়া কিছুই করতে পারেনি উপস্থিত মানুষেরা।

ব্রিটিশ পত্রিকা ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড জানায়, সদাবি শনিবার নিশ্চিত করেছেন শিল্পকর্মটির একজন বৈধ নিলাম ক্রেতা রয়েছে এবং তাদের সম্প্রতি কেনা ছবিটি নিজে নিজে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা ‘বিস্মিত’। ক্রেতার নাম পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

নিলাম প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আধা ছেঁড়া শিল্পকর্মটি নিয়ে কী করা হবে সে বিষয়ে তারা ক্রেতার সঙ্গে আলোচনা করছেন।

ব্যাঙ্কসি তার ইন্সটাগ্রাম একাউন্টে ঘটনাটি নিয়ে খুব ছোট্ট একটা পোস্টে লেখেন, ‘যাচ্ছে, যাচ্ছে, গেছে...’। ফ্রেমের তলায় আটকে থাকা ছিন্নভিন্ন ছবিটির দিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকা মানুষের ছবিও পোস্ট করেন তিনি।

একটা ছোট্ট মেয়ে হার্ট আকৃতির উড়ন্ত একটা বেলুনের দিকে হাত বাড়িয়ে আছে এটিই বিখ্যাত ছবিটির বিষয়বস্তু।

সদাবি একটি বিবৃতিতে জানায়, ছবিটির শিল্পী ছবির ফ্রেমের ভিতর একটি শ্রেডার বা পেপার কুচিকুচি করে ফেলার যন্ত্র লুকিয়ে রেখেছিলেন। পেইন্টিংটি বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঠিক পর পর শ্রেডারটি তার কাজ শুরু করে।

নিলাম শেষে শ্রেডারটি কিভাবে চালু করা হয়েছে তা জানা যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে এটা করা হতে পারে।

আগে ব্যাঙ্কসির আরেকটি শিল্পকর্মও ১.৪ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছিল।

ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে জন্ম নেয়া ব্যাঙ্কসির আসল পরিচয় সম্পর্কে কখনো জানা যায়নি। দেশে এবং পরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে বিখ্যাত হন তিনি।

‘গার্ল উইথ বেলুন’ সবার প্রথম লন্ডনের গ্রেট ইস্টার্ন স্ট্রিটের একটি দেয়ালে দেখা গিয়েছিল। ২০১৭ সালে জনতার ভোটে এটি ওই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পকর্ম হিসেবে নির্বাচিত হয়।

গ্যালারিতে প্রদর্শনের জন্য ক্যানভাসের ওপর স্প্রে পেইন্ট ও অ্যাক্রিলিক ব্যবহার করে পেইন্টিংটি তৈরি করা হয়েছিল।

এমআর/এএসটি