পঞ্চরসে আগ্রহ বাণিজ্য মেলায় আসা নারীদের

ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫

পঞ্চরসে আগ্রহ বাণিজ্য মেলায় আসা নারীদের

কামরুল হিরন ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৯, ২০১৮

পঞ্চরসে আগ্রহ বাণিজ্য মেলায় আসা নারীদের

পঞ্চরসের প্রতিই বেশি আগ্রহ প্রকাশ করছেন ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আসা নারীরা। আবার অনেকে টক, মিষ্টি, ঝাল অথবা একইসঙ্গে টক-মিষ্টি-ঝালের প্রতিও নিজেদের দুর্বলতার কথা বলছেন। আর এই অনুভূতির প্রকাশ ঘটছে ইকোপার্কের পাশেই ‘পঞ্চরসের আচার সিরাজ ভাইয়ের নিজ হাতে তৈরি’ শিরোনামের স্টলটিতে।

স্বাভাবিকভাবেই এখানে পুরুষদের তুলনায় নারী ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়টা একটু বেশি। স্টলটিজুড়ে কাচের শোকেসে সাজানো রয়েছে নানা পদের আচার। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে সেসব পদ থেকে বেছে নিচ্ছেন নিজের পছন্দেরটি। তারপর খেয়ে পরখ করছেন আচারের স্বাদ। সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থানকালে আচার মুখে দিয়ে কাউকে অপছন্দ করতে দেখা যায়নি। সবাই কিনছেন নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী।

তাদেরই একজন সম্পা। বান্ধবীকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এবং আচার কিনতে এসেছেন রাজধানীর উত্তরা থেকে। তিনি তিন পদের আচার নিলেন। কিন্তু অন্যগুলোর চেয়ে পঞ্চরস একটু বেশি পরিমাণ কিনলেন। কারণ জিজ্ঞেস করতেই বললেন, পঞ্চরসের প্রতি আমার আসক্তিটা একটু বেশিই। যদিও মিষ্টি জাতীয় আচার আমি বেশি পছন্দ করি। আর প্রতিবারই মেলায় এসে আমি বিভিন্ন পদের আচার সংগ্রহ করি।

সম্পার মতো অনেকেই কিনছেন পঞ্চরসের আচার। তাদেরও মত পঞ্চরসে অসাধারণ মজা।

প্রায় ২২ পদের আচার সাজানো রয়েছে স্টলটিতে। আম, বড়ই, জলপাই, চালতা, তেঁতুল, কামরাঙ্গা, আমলকি, রসুন স্বাভাবিক পদ হলেও বেশ কিছু আচার রয়েছে যা সম্পর্কে রাজধানীবাসীর অনেকেরই ধারণা নেই বলে জানালেন বিক্রয় কর্মী বাবু।

স্বাদ পরখ করতে অল্প করে হলেও ক্রেতারা বিভিন্ন পদ আচার কিনছেন। প্রথম দিকে যারা কিনেছিলেন তাদের অনেকেই এসে পছন্দের আচারটি আবারো কিনেছেন। তবে স্টলটি মেলার সম্মুখের দিকে হলে ক্রেতা আরো বাড়তো বলে জানালেন এই বিক্রয় কর্মী।

বিভিন্ন পদের মধ্যে চিকেন চাটনী, কাঁচা কলা, পেপে, কচুর লতী, তিত করলা, কিসমিস, আরাবিয়ান খেজুর, চেরি, সাতকড়া (সিলেটের নামকরা ফল), বেলম্ব, বোম্বাইসহ দেশীয় মরিচ এবং আলুবখারার আচার উল্লেখযোগ্য হারে বিক্রি হচ্ছে।

স্টলটির ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার আচার বিক্রি হচ্ছে। এসব আচারের সর্বনিম্ন মূ্ল্য কিলো প্রতি ৬০০ এবং সর্বোচ্চ মূল্য ১২০০ টাকা। মেলার ১৫ দিন পার হলে বিক্রির পরিমাণ আরো বাড়বে।

এসব আচার সিরাজ ভাই নিজ হাতে তৈরি করেছেন। আরো পদের আচার নিয়ে তিনি আগামীকাল (মেলার দশম দিন) সিলেট থেকে ঢাকায় পৌঁছবেন বলে জানালেন এই ব্যবস্থাপক।

জানা গেছে, স্টলের মালিক সিরাজের (ভাই) বাড়ি সিলেটে। আচার তৈরিতে সেখানে তার অনেক খ্যাতি।

পঞ্চরসের আচার সম্পর্কে ফোনে জানতে চাইলে সিরাজ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, পাঁচটি পদ (বড়ই, তেঁতুল, জলপাই, আমড়া, কামরাঙ্গা) মিলেয়ে এই আচারটি তৈরি করা হয় বলে একে পঞ্চরস বলা হয়। এর স্বাদ টক-মিষ্টি-ঝাল তাই সবাই পছন্দ করেন। বিশেষ করে সিলেট আর চট্টগ্রামের মানুষ একনামে চেনে পঞ্চরসের আচার। আর এসব আচার আমি নিজ হাতে তৈরি করি।

কেএইচ/এএল