কমেছে চামড়া রফতানি, দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

ঢাকা, ১৯ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

কমেছে চামড়া রফতানি, দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

জাহিদ সুজন ৯:০৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০১৯

কমেছে চামড়া রফতানি, দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম এখন কম। পাশাপাশি ইউরোপভিত্তিক জোট লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সদস্য না হওয়াতে গত কয়েক বছরে প্রচুর বিদেশি ক্রেতা হারিয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। এতে রফতানি কমেছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের।

এমন অবস্থায় গত ঈদ ও পরবর্তী সময়ে সারা দেশ থেকে সংগৃহীত প্রায় অর্ধেক চামড়া মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যার অর্থিক মূল্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) তথ্যেও চামড়া ও চামড়াজত পণ্য রফতানি কমার তথ্য উঠে এসেছে ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ রফতানি খাতের আয়ের খরা কাটেনি। গত বছরও ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি নিয়েই শেষ হয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি।

ইপিবির তথ্যানুয়ায়ী, গত বছর এ খাতের রফতানি আয় কমেছে ৬.০৬ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে আয় কমেছে ৯.২৭ শতাংশ। এ সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে ১০১ কোটি ৯৮ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। যা আগের বছরে ছিল ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

এদিকে দেশের অভ্যন্তরেও বিকল্প চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনে সুখবর নেই। বাড়েনি চামড়া থেকে প্রস্তুতকৃত পণ্যের রফতানিও।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের পর থেকে এ দেশের ক্রয় আদেশ কমে গেছে। বাংলাদেশ থেকে কোরিয়ায় বিপুল পরিমাণ চামড়া রফতানি হলেও সেটি বন্ধ। অন্যদিকে মানুষ এখন ব্যয় কমাতে চামড়ার বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। সবমিলে এ খাতে ভালো কিছু হচ্ছে না। সরকারের এসব বিষয়ে আরো সহযোগিতা প্রয়োজন।

গত ঈদে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে সরকার চামড়ার দাম আগের বারের চেয়েও কম নির্ধারণ করেছিল। তারপরেও কোরবানির পর এমন হয়েছে যে সে দরও ঠিক থাকেনি। শেষে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা হয়েছে সরকার-নির্ধারিত দরের চেয়েও কমে। সরকারের বেধে দেয়া রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা হলেও ৩০ টাকার নিচে ছিল বেশিভাগ চামড়ার দাম। এমনও হয়েছে যে অনেকে চামড়া বিক্রি না করতে পেরে সেটা ফেলে দিয়েছিলেন। এবারও কাঁচা চামড়া বিক্রয়ে পুরাতন দাম নির্ধারণ করেছে সরকার।

কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, এবার ট্যানারি মালিকদের চামড়া কেনার আগ্রহ আরো কম। গতবারের টাকাও এখনো পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়নি। ফলে আমরাও ব্যবসায়ীদের টাকা এখনও শোধ দিতে পারিনি। ফলে অর্থসংকটের শঙ্কা রয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) তথ্যানুযায়ী, সারা দেশ থেকে বছরে কমবেশি ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। যার মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। তবে বছরের মোট জোগানের অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়।

আর চামড়ার দাম নিয়ে শঙ্কা থাকায় এ বছর চামড়া পাচার বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ।

তারা বলেন, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রতিবছরই চামড়া পাচার করেন। দাম কম হলে দেশের আড়তে চামড়া বিক্রি না করে ভারতে পাচার করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ চামড়া অবিক্রিত রয়ে গেছে। আর এখন ব্যাংকগুলোও চামড়া খাতে বিনিয়োগ করছে না।

তিনি বলেন, সাভারের চামড়াশিল্প নগরীর কর্মপরিবেশ সন্তোষজনক না হওয়ায় আমরা ইউরোপভিত্তিক জোট লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সদস্য হতে পারছি না। এ জন্য রফতানিকারকেরা চামড়ার বাড়তি মূল্যও পাচ্ছে না। সব মিলিয়ে রফতানি কমছে।

এখন ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিটিএ সভাপতি শাহীন আহমেদ।

জেডএস/এইচআর

 

আমদানি-রপ্তানি: আরও পড়ুন

আরও