চীন, ভারত ও জাপানের মাঝে থাকবে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

চীন, ভারত ও জাপানের মাঝে থাকবে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৮:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০১, ২০১৯

চীন, ভারত ও জাপানের মাঝে থাকবে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, চীন, ভারত এবং এশিয়ার অন্যান্য ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশ কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থানে রয়েছে। ২০৩২ সালে পৃথিবীতে এক নম্বর দেশ হবে চীন, দুই নম্বর হবে আমেরিকা, তিন নম্বর হবে ইন্ডিয়া, চার নম্বর হবে জাপান এবং পাঁচ নম্বর হবে জার্মানি। চীন, ভারত ও জাপান এই তিনটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশের মাঝে থাকবে বাংলাদেশ।

ব্রিটিশ বিজনেস গ্রুপ আয়োজিত ব্রেকফাস্ট বৈঠকে বুধবার তিনি এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং গ্লোবাল আউট সোর্সিংয়ের একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছে। দেশে একশটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকে টেকসই করার জন্যই সরকার এই শিল্পাঞ্চলগুলো গড়ে তুলেছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ১০ বছরে ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়েছে এবং এ বছর ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। যা ২০২৪ সাল নাগাদ দাঁড়াবে ১০ শতাংশ এবং সেটা অব্যাহত থাকবে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক বেতন-ভাতায় সহজে প্রশিক্ষণযোগ্য নিবেদিত প্রাণ জনশক্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে স্বল্প ব্যয় এবং আমাদের বৃহৎ শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশ সুবিধা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রণোদনার সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে অধিক হারে মুনাফার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশে।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ সংস্থাগুলোর উচিত বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা এবং তার তরুণ ও বর্ধমান জনসংখ্যার সুযোগ নেওয়া। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশে জনমিতিক লভ্যাংশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট’ সুযোগ বিদ্যমান। আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। জনমিতির পরিভাষায় ডিভিডেন্ড বলতে বোঝায় ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী মানুষের আধিক্য।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, এ বয়সসীমার মানুষই সবচেয়ে কমর্ক্ষম, যারা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। সেখানে বাংলাদেশে ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ১৫ থেকে ৫৯ বছরের এর মধ্যে। এই সময়কে জনসংখ্যার বোনাসকাল বলে। আর এই সময়টাতে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী সবচেয়ে কম থাকে। আর সবচেয়ে বেশি থাকে কমর্ক্ষম জনসংখ্যা।

ব্রিটিশ বিজনেস গ্রুপের (বিজিবি) সভাপতি ডি মেরিকোর্ট বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের সংস্থাগুলো বিভিন্ন শিল্পের অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী যা বাংলাদেশের অগ্রগতিকে সম্পূর্ণ সমর্থন করে চলেছে। বাংলাদেশ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের দীর্ঘকালীন বন্ধু। কিছু ব্রিটিশ সংস্থা ১৯৭১ সালে দেশটির জন্মের পর থেকেই এখানে ছিল। আগামী বছরগুলোতে ব্রিটিশ ব্যবসায়ের উপস্থিতি আশা করছি আরো রাড়বে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি সংকীর্ণ করা। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়ের পরিবেশকে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ করা দরকার। এই ক্ষেত্রে কর নীতিতে স্থিতিশীলতা এবং ট্যাক্স পরিবর্তনের অগ্রিম বিজ্ঞপ্তি ব্যবসায়ের আরও ভাল পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে।

এফএ/এসবি

 

আমদানি-রপ্তানি: আরও পড়ুন

আরও